মহানায়িকার চলে যাওয়ার দিন

বিনোদন ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার
প্রকাশিত: ১১:১৭ আপডেট: ০১:৩৬

মহানায়িকার চলে যাওয়ার দিন

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা, কোটি পুরুষের কল্পনার রানি, উপমহাদেশের ক্র্যাশ সুচিত্রা সেনের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের এই দিনে ৮৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান চিরসুন্দরী এ অভিনেত্রী। 

মহানায়িকা সুচিত্রা সেন উপমহাদেশের নায়ক-নায়িকা ও অভিনয় শিল্পীদের আদর্শ, বাঙালির গর্ব। তার সততা, নিষ্ঠা, আদর্শবাদিতা একাগ্রতা স্মরণীয় ও শিক্ষণীয়। একজন সফল নায়িকা হিসেবে তিনি জীবনের জয়গান গেয়েছেন সর্বত্র। তার মতো নায়িকা হাজার বছরে একজন জন্মায়। সুচিত্রা সেন তার অভিনয় শৈলী ও দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের আইকন। বাংলা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক জনপ্রিয় ধারার পথিকৃত। বিস্ময়কর এক ইতিহাসের নাম সুচিত্রা সেন।  

জানা যায়, ১৯৩১ সালের ৫ এপ্রিল তৎকালের বৃহত্তর পাবনা জেলার (বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলা) বেলকুচির সেনভাঙার জমিদার বাড়িতে রমা দাশগুপ্ত জন্ম নেন। যিনি পরবর্তীতে সুচিত্রা সেন নামে পরিচিত হন। তিনি কৃষ্ণা দাশগুপ্ত হিসেবেও বন্ধুদের কাছে পরিচিত ছিলেন। পরে পাবনা শহরের দিলালপুরের বাড়িতে কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। সুচিত্রাসেন পাবনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের (তৎকালীন মহাকালী পাঠশালা) ছাত্রী ছিলেন। পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গে চলে যান তারা।

সুচিত্রা সেনের বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন তৎকালের পৌরসভার ট্যাক্স কালেক্টর ও মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত একজন গৃহবধূ। বাবা-মায়ের পঞ্চম সন্তান এবং তৃতীয় কন্যা ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ সালে  বিশিষ্ট শিল্পপতি দিবানাথ সেন-এর সঙ্গে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন সুচিত্রা সেন। ১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৫৩ সালে তার প্রথম মুক্তি প্রাপ্ত বাংলা ছবি ‘সাত নম্বর কয়েদি’। ঐ বছরেই উত্তম কুমারের সঙ্গে তার প্রথম মুক্তি প্রাপ্ত ছবি ‘সাড়ে চুয়াত্তর’। বাংলা ছবির এক অবিসংবাদিত জুটি হিসেবে পরবর্তী ২০ বছরে উত্তম-সুচিত্রা ছিলেন আইকন স্বরূপ।

১৯৫৫ সালে হিন্দি ভাষায় ‘দেবদাস’ ছবিতে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন। ১৯৭৪ সালে ‘আঁধি’ নামে আরেকটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবিতে একজন রাজনীতিকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল সুচিত্রাকে। সর্বমোট সাতটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি, এছাড়া একটি তামিল ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছেন। উত্তম কুমারের সঙ্গে তার শেষ অভিনীত ছবি হীরেন নাগ পরিচালিত ‘প্রিয়বান্ধবী’, সেটি মুক্তি পায় ১৯৭৫ সালে। ১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসর নেন।

‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে তিনি প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে ১৯৬৩ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। ভারত সরকার তাকে ১৯৭২ সালে “পদ্মশ্রী” পুরস্কারে ভূষিত করেন এবং ২০০৫ সালে তাকে “দাদা সাহেব ফালকে” পুরুস্কারে ভূষিত করেন। কিন্তু তিনি ওই পুরস্কার নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করেছিল। সেসময় মেয়ে মুনমুন সেন তার মায়ের হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। মহানায়ক উত্তম কুমারের মত্যুর পরে তিনি তাকে ফুল দিতে গিয়েছিলেন। তারপর একেবারে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান।

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতিক ভিটা পাবনা শহরের হিমসাগর লেনের বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত ইমাম গাযযালী ট্রাস্ট দখল করে ছিল। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ২০১৫ সালের দিকে বাড়িটি জেলা প্রশাসন দখলমুক্ত করে। পরে বাড়িটি সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা করা হয়েছে। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ খ্যাত পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের একটি ছাত্রী হলের নামকরণ করা হয়েছে ‘সুচিত্রা সেন হল’।

এদিকে মহানায়িকার প্রয়াণ দিবসে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে জন্মস্থান পাবনাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুচিত্রা সেনকে স্মরণ করে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads