ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত ‘বিশ্বজয়ী’ আকবর আলী

সোহেল রশীদ, রংপুর
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৫:০৭ আপডেট: ০৫:০৯

ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত ‘বিশ্বজয়ী’ আকবর আলী

যুবাদের বিশ্ব ক্রিকেট যুদ্ধ মঞ্চে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পূর্ণ করেছে আকবরের বাংলাদেশ। ভারতের আকবরনামার চারশ বছর পর নতুন আকবরের ক্রিকেট সাম্রাজ্য বিজয়ে ঘুচে গেছে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ আর হতাশা। মুঘল অধিপতির মতই বাংলার যুবাদের অধিনায়ক আকবরও এখন ‘আকবর দ্য গ্রেট’।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এই মহানায়ক একমাত্র বোনের মৃত্যুর ১৯ দিনের মাথায় শোককে শক্তিতে পরিণত করে বিশ্বকাপ শিরোপার আনন্দে ভাসিয়েছেন গোটা দেশকে। উনিশের হাত ধরে ১ আকবর তাণ্ডবে ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব শুনেছে বাংলাদেশের জুনিয়র টাইগারের গর্জন। রচিত হয়েছে ক্রিকেট বাংলায় আকবরনামার গল্প।

আকবরের নেতৃত্বে বিশ্বজয়ী সেই যুবার বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশের মাটিতে ফিরে এক ঝলমলে ঐতিহাসিক সন্ধ্যায় সংবর্ধনায় সংবর্ধিত হয়েছেন। যা সত্যি বিস্ময়ের, গর্বের আর স্মরণীয় করে রাখার।
এবার বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জয়ের শুরুর হিরো আকবর ফিরেছেন তার গ্রামের বাড়ি রংপুরে। বিশ্বজয়ের পর যে এটাই তার প্রথম নিজ জেলায় সফর। তার শৈশব-কৈশোরের স্বর্ণালি দিনগুলো কেটেছে এই রংপুর নগরীর পশ্চিম জুম্মাপাড়া হনুমানতলা মহল্লায়। আর তাকে বরণ করে নিতে উৎসবের আমেজ বইছে পুরো রংপুরসহ আকবর আলীর নিজ মহল্লায়। বীরোচিত এই তরুণের রঙে রঙিন শুধু আকবরের নিজ বাড়ি নয়, সারা রংপুরেই বইছে সাজ সাজ রব।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা দিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসেন নায়ক আকবর আলী। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেকেন্দার আলীসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সুধীজন। পরে সেখান থেকে তাকে কার, মাইক্রো, মোটরবাইকের বিশাল বহরে করে রংপুরে নেওয়া হয়। তার নিজ পাড়ায় ঢোকার পথে নগরীর কৈলাস রঞ্জন স্কুল গেটের সামনে থেকে ফুলেল বিছানো গালিচায় ফুলে ফুলে সিক্ত হয়ে মা-বাবার কোলে গিয়ে পৌঁছান আকবর। পরে রংপুর জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে তাকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাফিয়া খানম, রংপুর মেট্রোপলিন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান,  জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডলসহ জেলা প্রশাসন, ক্রীড়া সংস্থা,  আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক-ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এদিকে পশ্চিম জুম্মাপাড়া গ্রামবাসীর আয়োজনে তাকে বিকেলে সংবর্ধণা দেওয়া হয়। আতশবাজি, মিউজিক্যাল সাউন্ড শো, আর লাল সবুজের পতাকায় পশ্চিম জুম্মাপাড়া হয়ে উঠবে বর্ণিল। এখন পাড়া-মহল্লাজুড়ে এখন একটাই নাম প্রকম্পিত হচ্ছে ‘আকবর দ্য গ্রেট’। সকাল থেকেই আকবরের বাড়ির সামনেই ঘুরঘুর করছে তারা। 

এর আগে আকবর আলীকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুরে নেওয়ার পথে মোড়ে মোড়ে হাত উঁচিয়ে ও ফুল ছিটিয়ে সংবর্ধিত করেন রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ। আর দুপুরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত গণসংবর্ধনায় ভালোবাসার ফুল, শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদে সিক্ত হয় আকবর।

জানাগেছে, আকবর আলী শুরুতে মাদরাসায় ভর্তি হলেও পরে বাড়ির পাশে বেগম রোকেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে নগরীর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হন। ক্লাস সিক্সে উঠে রংপুরের অসীম মেমোরিয়াল ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হন। সেখানে অঞ্জন সরকারের হাত ধরে রংপুর জিলা স্কুলের মাঠে তার ক্রিকেটের সত্যিকারের হাতেখড়িটাও হয়ে যায়। ২০১২ সালে বিকেএসপিতে সুযোগ পান। এরপর শুধুই এগিয়ে যাওয়ার গল্প তৈরি করে আকবর। বিকেএসপির বয়সভিত্তিক দলে খেলে সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাও হতে থাকে সমানতালে।

শুধু ক্রিকেট নিয়েই অবশ্য পড়ে থাকেননি আকবর। পড়াশোনাটাও দারুণভাবে করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে তার এসএসসি পরীক্ষার সময় চলছিল প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। তখন খেলা ও লেখাপড়া দুটিই সামলেছেন দারুণ মনোযোগে। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পান তিনি। এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৪২ পয়েন্ট পান।

সবকিছুতে ভালো করার ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশ যুবদলের নেতৃত্বের ভার তার কাঁধে। দক্ষিণ আফ্রিকার আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নেতৃত্বের ভার সামলে চমক দেখালেন আকবর আলী।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads