জীবন-জীবিকার তাগিদে ফেরিওয়ালা সুমি বেগম

ঝালকাঠি, প্রতিনিধি
১৭ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০২:০৫ আপডেট: ০২:০৮

জীবন-জীবিকার তাগিদে ফেরিওয়ালা সুমি বেগম

জীবন-জীবিকার তাগিদে ফেরি করে মুখরোচক ঝালমুড়ি ও পেয়ারা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন ঝালকাঠির সুমি বেগম (২৭) নামের এক গৃহীনি। তিনি ২৭ বছর বয়সে সংসারিক জীবন রেখে রাস্তায় রাস্তায় ফেরি করে আসছেন। গত দুই বছর আগে সুমি বেগমের স্বামী তাকে ফেলে চলে গেলে তিনি ওই দীর্ঘ ২ বছর ধরে আচারের বোঝা কাঁধে নিয়ে আচার মুড়ি বিক্রি করে যাচ্ছেন ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন স্থানে, তবে তাকে বেশির ভাগ সময়ই ঝালকাঠি কোর্ট রোডে দেখা যায়। বিশেষ করে অফিস আদালতসহ শহরের বাজার এলাকায় তার হাতের বানানো আচার খাওয়ার অপেক্ষায় থাকে নারী-পুরুষ ও শিশুরা। দুইবেলা দুই মুঠো খাবার জোটাতে দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আচার বিক্রি করে আসছেন সুমি বেগম। দারিদ্র কষাঘাত থেকে কিছুটা মুক্তি পেলেও জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসেও তাকে বোঝা কাঁধে নিয়ে আচার বিক্রি করতে হচ্ছে। 

অবশ্য এই বয়সে তাকে সাংসারিক জীবন কাটানোর কথা থাকলেও এখনও এই মুখোরচক আচার মুড়ি বিক্রি করছে সংসার চালানোর তাগিতে। প্রায় ১ হাজার টাকার চালান খাটিয়ে এই আচার বিক্রি করতে নামেন তিনি। সারা দিন বিক্রয় করেই তিনি ছেলে মেয়েকে পড়াশোনা করাতে এবং বৃদ্ধ মাকে ওষুধ কিনে দিতে এখন হিমশিম খাচ্ছেন সুমি বেগম। মেয়ে ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী। মা ও এক কন্যা সন্তান নিয়ে চলছে আচার বিক্রয়ে সুমি বেগমের সংসার। ঝাল মুড়ি বিক্রি করার জন্য শহরের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে তাকে মিষ্টি আওয়াজে সুমি আপার আচার, ঝাল-মুড়ি বলে বিক্রি করছেন। তার আশা ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মত মানুষ করবে। ভালো চকরি করবে এবং দেশ ও জাতির ভাগ্য উন্নয়ন করবে। সেই আশা বুকে ধারণ করে প্রতিনিয়ত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছুটছেন কাঁধে আচারের ঝুড়ি নিয়ে এই শহরে। 

ক্লান্ত কন্ঠে সুমি বেগম বলেন, ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে কাঁধে আচারের ঝুড়ি নিয়ে শহরের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে ছুটতে ছুটতে এখন দুই পা অবস হয়ে আসে। ছেলে মেয়ে অনেক আশা থাকলেও এই বয়সে আর পারছিনা। 

কান্না জড়িত কন্ঠে সুমি আরও বলেন, এই শহরে অনেকের আনন্দ দেখে নীরবে কেদে ফেলি চোখের পানি। বিশ্বাস করো, তোমাদের কারো আনন্দ দেখে, আমি কখনও হিংসা করিনা। কোন অসৎ কাজ নয়, ব্যবসা ছোট হলেও সততার সাথে থাকলে ভাল ভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়। এতে শহরের লোকজন আমাকে ভালবাসে এবং আমার মুখরোচক আচার ও মুড়ি ইচ্ছা করে নেয় বিশেষ করে ছাত্র/ছাত্রীসহ অনেকেই। ছেলে মেয়ে শিক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত আমি জীবন যুদ্ধে এই ঝাল মুড়ি বিক্রি করেই যাবো বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads