পৃথিবীতে মহামারী আসে, কিছুদিন ধ্বংসযজ্ঞ চালায়- অত:পর...

সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক
২৫ এপ্রিল ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৮:৩৬

পৃথিবীতে মহামারী আসে, কিছুদিন ধ্বংসযজ্ঞ চালায়- অত:পর...

আরিফ আজাদ

মহামারী জিনিসটা মানবসভ্যতা এবার নতুন মোকাবিলা করছে, ব্যাপারটা এমন নয়। পৃথিবীতে এর আগেও বহুবার মহামারী হানা দিয়েছে, এবং অতিশয় সত্য কথা হলো এই, বিজ্ঞানের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, সেই সমস্ত মহামারী মোকাবিলা করে মানবসভ্যতা কিন্তু বিলুপ্ত হয়ে যায় নি। বহাল তবিয়তে টিকে আছে।

পৃথিবীতে মহামারী আসে, কিছুদিন ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, এবং একসময় তা বিলুপ্তও হয়ে যায়। এটাই মহামারীর চিরাচরিত নিয়ম। এটা আগেও হয়েছে, পরেও হবে। বিজ্ঞান যখন ছিলো না, তখনও হয়েছে। বিজ্ঞান আসার পরেও তা হবে।

এই যে, নিকট অতীতে পৃথিবী যে মহামারীগুলো অবলোকন করেছে, যেমন সার্স করোনা ভাইরাস, মার্স, ইবোলা, এসব ভাইরাসের ভ্যাকসিন কি আছে আমাদের সামনে? সত্য কথা হলো, এখন অবধি এগুলোর কোন কার্যকরী ভ্যাকসিন মজুদ নেই। বিজ্ঞান তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু, এই সমস্ত ভাইরাস কি আর আছে? বিলুপ্ত হয়ে যায় নাই?

সুতরাং, বিজ্ঞান করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করলেও এই ভাইরাস শেষ হবে, বিজ্ঞান ভ্যাকসিন আবিষ্কার না করলেও এই ভাইরাস শেষ হবে। বিজ্ঞান ভ্যাকসিন বানালেও কিছু মানুষের প্রাণ যেতো, না বানালেও যেতো।

কিন্তু, আপনি জানেন কি, এই মহামারীর কারণে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি লোক কিসে মারা যায়? হ্যাঁ, ক্ষুধায়। নতুন একটা মহামারী মানে নতুন একটা দূর্ভিক্ষ। দূর্ভিক্ষ আর মহামারী হলো একে-অন্যের জাত ভাই৷ এরা একে অন্যকে ছাড়া কেউ একা আসেনা দুনিয়ায়। তাই, অবধারিতভাবে, মহামারীর সাথে দূর্ভিক্ষও অতি অবশ্যম্ভাবী পৃথিবীর জন্য।

পৃথিবীতে মহামারীতে যা লোক না মরবে, তারচেয়ে বেশি মরবে দূর্ভিক্ষে। না খেতে পেয়ে। ইতোমধ্যেই আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি।

আচ্ছা, এই যে দূর্ভিক্ষের কারণে কাতারে কাতারে মানুষ মরে পড়ে থাকবে, এইখানে বিজ্ঞানের কাজ কি? মানে, ল্যাব-বেইসড বিজ্ঞান, অনুবীক্ষণ যন্ত্রের কোন কাজ আছে? নাই। তার মানে, বিজ্ঞান এটার সমাধান দিতে পারবে না। এটার সমাধান কিভাবে হতে পারে? অর্থনীতিবিদরা দূর্ভিক্ষ এড়ানোর, দূর্ভিক্ষের ক্ষয়-ক্ষতি কমানোর মডেল সমাজের জন্য প্রস্তাব করতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্র গোটা সমাজের মানুষকে নিয়ে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে পারে। এখানে সমাজের প্রতিটা সামর্থ্যবান মানুষ থেকে শুরু করে, সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকবে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, মহামারীতে যা লোক মারা যাবে, তারচেয়েও বেশি মারা যাওয়ার সম্ভাবনা দূর্ভিক্ষে। এখন, সেই দূর্ভিক্ষ মোকাবিলা করে, মানুষদের বাঁচাতে হলে আপনাকে সবার সাথে কাজ করতে হবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। তাহলেই আপনি অধিক মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে পারবেন। এই কাজ ভ্যাকসিন পারবেনা। এই কাজ অনুবীক্ষণ যন্ত্রের না। এই কাজ ল্যাবে বসে করার জিনিস না।

তো, যেসকল ফাতরা কবিরা তাদের ফাতরা কবিতার মাধ্যমে মসজিদ-মন্দির নিয়ে প্রশ্ন তুলে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার খেলায় নেমেছেন, এইসকল ফাতরা কবিকূল, অনলাইন বিজ্ঞান-পূজারীর দল কি তখন নতুন করে লিখবে-

যদি বেঁচে যাও এবারের মতো
যদি কেটে যায় ক্ষুধায় মৃত্যু-ভয়
জেনো সমাজ লড়েছিলো একা
কোন বিজ্ঞান কভু নয়।

আমরা জানি, ফাতরা কবিকূল তা লিখবেনা। তারা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে, নিজেদের আল্ট্রা মডার্ণ, প্রগতিশীল দাবি করতে তাদেরকে তো মসজিদ-মন্দিরকে দুষতে হবে৷ তা নাহলে তো তারা আর জাতে উঠতে পারবে না।

ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

bnbd-ads