আজহারীর ‘রমজান ফুড প্যাকে’ ৩৫ জেলায় ৭১ লাখ টাকার অনুদান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ এপ্রিল ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ০৬:০৭ আপডেট: ০৭:২৫

আজহারীর ‘রমজান ফুড প্যাকে’ ৩৫ জেলায় ৭১ লাখ টাকার অনুদান

বর্তমান সময়ের আলোচিত ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাবে দরিদ্র অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য “রমজান ফুড প্যাক” নামে একটি তহবিল গঠন করেছেন।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় আজহারী তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে “রমজান ফুড প্যাক” এর তহবিল সংগ্রহের জন্য যে সাতদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন আজ তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, (দুটি ব্যাংক একাউন্ট ও দুটি বিকাশ) সর্বমোট একাত্তর লক্ষ পঁচিশ হাজার আটশত একাশি (৭১,২৫,৮৮১) টাকা অনুদান এসেছে।

তিনি জানান, তহবিলের মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুদান অসহায় মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের আটটি বিভাগের ৩৫টি জেলায়, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার দরিদ্র পরিবারের হাতে “রমজান ফুড প্যাক” পৌঁছানো হয়েছে। ওইসব জেলাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ জেলাই বিতরণ কার্যক্রম শেষ। যে কয়টি জেলা এখনো বাকি আছে সেগুলোও রমাজানের আগেই সম্পন্ন হবে। 

“রমজান ফুড প্যাক ২০২০” এর ভিতরে আমরা যা দিয়েছিলেন, চাল ৫ কেজি, ডাল ২ কেজি, আলু ২ কেজি, পেঁয়াজ ২ কেজি, তেল ২ কেজি, ছোলা ১ কেজি, চিনি ১ কেজি, লবন ১ কেজি, মুড়ি ৫০০ গ্রাম, খেজুর ৫০০ গ্রাম, ডেটল সাবান ২ টি।

আজহারী বলেন, লকডাউনের কারণে পণ্যের অপর্যাপ্ততা থাকায় কয়েকটি জেলায় আইটেমে সামান্য কিছুটা কমবেশি হতে পারে। তবে, বেশিরভাগ জেলাতেই হুবহু একই ফুড আইটেম মেনটেইন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি দেশে না থাকায়, সরেজমিনে কাজ পর্যবেক্ষণ করতে না পারলেও সার্বক্ষণিক কো-অর্ডিনেটরদের সাথে ফোনে ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সামগ্রিক কাজের মনিটরিং করেছি এবং প্রয়োজনীয় সকল দিক নির্দেশনা দিয়েছি। আর্থিক সকল হিসাবের পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, পুরো সাত দিনের বিকাশ নাম্বার দুটোর মানি ট্রান্সফার লিস্ট, একাউন্ট দুটোর সাত দিনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, খরচের সকল মানি রিসিট, ভাউচার, পে-স্লিপ, লজিস্টিক মিসসেলিনিয়াস, ফুড প্যাক প্রাপ্তদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার ইত্যাদি কালেক্ট করে, ডকুমেন্টারি ফাইল আকারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

আজহারী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সারা বিশ্ব একই সাথে লকডাউন থাকার কারণে, দেশে বিদেশে অনেক জায়গায় ব্যাংক ও বিকাশ বন্ধ থাকায়, অনেকেই অনুদান পাঠানোর ইচ্ছা থাকা সত্বেও পাঠাতে পারেননি। পাশাপাশি, মাত্র দুটি বিকাশ নাম্বার হওয়ায়, বারবার সেগুলো লিমিট ক্রস করায়, অনেক অনুদান গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। গত সাত দিন যাবৎ, টানা ২৪ ঘন্টা এই নাম্বার দুটোতে অনবরত ফোন আসছে। অনেক ফোন রিসিভ করাও সম্ভব হয়নি। এজন্য আমরা দু:খ প্রকাশ করছি। তবে, আমাদের আন্তরিকতায় কোন ঘাটতি ছিল না। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছি।

সবশেষে প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরদ্বয়, জেলা পর্যায়ের কো-কোঅর্ডিনেটরবৃন্দ, সকল টীম মেম্বার এবং সেচ্ছাসেবকদের বোনদের আন্তরিক শুকরিয়া জানিয়ে বলেন, ‘রমজান ফুড প্যা’ আপনাদের নিরলস আন্তরিক পরিশ্রমের ফলেই পুরো প্রজেক্টটি সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে এর উত্তম প্রতিদান দিক। আর, জাতীয় এ দুর্যোগ কালে বিপদগ্রস্থদের পাশে আর্ত মানবতার সেবায় যারা এগিয়ে এসেছেন, তাদের এই অনুদানকে আল্লাহ তায়ালা আখিরাতের মুক্তির মাধ্যম বানাক। আমিন।

ব্রেকিংনিউজ/এসপি


.














 

bnbd-ads