স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিমা বিসর্জন, হবে না বিজয়ার শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ০৯:২০ আপডেট: ১১:২৪

স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিমা বিসর্জন,  হবে না বিজয়ার শোভাযাত্রা

বিজয়া দশমীর পূজার মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সোমবার (২৬ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে। করোনার কারণে এবার মন্দিরে আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক উৎসব ও আরতি হবে না। হবে না প্রসাদ বিতরণও। এ ছাড়া দশমীর দিনে বিসর্জনের আগে মূল আকর্ষণ বিজয়ার শোভাযাত্রাও এবার হবে না।

দশমী বিহিত পূজার লগ্ন শুরু হবে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিট থেকে। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির থেকে তাঁদের সুবিধামতো সময়ে বুড়িগঙ্গা বা নিকটবর্তী কোনো জলাধারে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

করোনায় পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এবার সারা দেশে দুর্গাপূজায় চিরাচরিত উৎসবের আয়োজন ছিল না। তবে পূজার ধর্মীয় আচারে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। অষ্টমীর মতো গতকাল মহানবমীর দিনেও রাজধানীর মন্দিরগুলোয় প্রচুর ভক্তের সমাগম ঘটেছিল।

২২ অক্টোবর ষষ্ঠী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গাপূজা। এবার দেবীর আগমন ঘটেছিল দোলায়। ভক্তদের অঞ্জলি আরতি গ্রহণ করে আজ গজে বিদায় নিচ্ছেন দেবী। গজে বিদায়ের তাৎপর্য হলো ‘শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা’, অর্থাৎ ফলে-ফসলে সমৃদ্ধ হবে দেশ। এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ২১৩টি পূজা হয়েছে। গত বছর পূজা হয়েছিল ৩১ হাজার ৩৯৮টি। এবার ঢাকা মহানগরে পূজা হয়েছে ২৩২টি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এবার দুর্গা পুজায় শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন হবে না। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  নির্দেশনার আলোকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা সারাদেশে পূজা উদযাপন কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। 

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিসর্জনের জন্য একটি ট্রাকে একসঙ্গে অনেক মানুষ গেলেও এবার একটি ট্রাকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য শুধুমাত্র ১০ জন যেতে পারবেন। এর বাইরে অতিরিক্ত কেউ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য যাবেন না।  

মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি মণ্ডপ থেকে সরাসরি স্ব স্ব বিসর্জন ঘাটে গিয়ে বিসর্জন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল করা হয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখবেন। 

বিসর্জনের সবচেয়ে বড় জায়গা হচ্ছে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাট এলাকা। এছাড়া বালুনদী, তুরাগ নদী, মোহাম্মদপুরে বসিলা ব্রিজের কাছে  ও ফরাসগঞ্জে বিসর্জন হয়ে থাকে।   

রাজধানীর বেশ কয়েকটি মন্দিরে অষ্টমী ও নবমীর দিন ভক্তের ভিড় বেড়ে যায়। তবে পূজামণ্ডপগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয়েছে। পূজা আয়োজক কমিটি ও ভক্তরা জানান, নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক ছিল।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads