ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হালাল উপার্জন

ধর্ম ডেস্ক
২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ০৯:৫৫

ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হালাল উপার্জন

আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন তার দাসত্ব করার জন্য। এবং হালাল গ্রহণ ও হারাম বর্জনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে আমরা হালাল জিনিসের চেয়ে হারাম জিনিসই বেশি গ্রহণ করছি। আবার ইবাদতও করছি আল্লাহর। বান্দার ঈমান ও তাকওয়া পরীক্ষা করতে আল্লাহ বান্দাদের বিপদে ফেলেন। আবার তিনিই উদ্ধার করেন সেই বিপদ থেকে।

বান্দা যখন বিপদে পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। ইবাদতে মগ্ন থাকেন। অনেক সময় দোয়া কবুল হয় না বা ইবাদত কবুল হয় না। আর এর পেছনে রয়েছে হালাল উপার্জন না করা। অবৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থ গ্রহণ ও ভোগ করার কারণে আমাদের দোয়া কবুল হয় না। একই সঙ্গে আল্লাহর হুকুম অমান্য করলে জাহান্নামের কঠিক শাস্তি ভোগ করতে হবে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমাদের আমি যেসব পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো। পাশাপাশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করো, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করে থাকো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৭২)

বৈধভাবে উপার্জনের নির্দেশ প্রত্যেক নবীর জন্য প্রযোজ্য ছিল। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুলরা! তোমরা পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো এবং নেক কাজ করো।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৫১)

অবৈধভাবে উপার্জিত খাবার খেয়ে ইবাদত করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে না। ওই ইবাদতের মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ওই গোশত (দেহ) জান্নাতে যাবে না, যা হারাম (খাবার) থেকে উৎপন্ন। জাহান্নামই এর উপযোগী।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নম্বর : ১৭২৩, তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ৬১৪)

মহান আল্লাহ সত্ভাবে জীবিকা নির্বাহ করার বহু পথ খোলা রেখেছেন। যেমন—ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, অফিস-আদালত, বিবিধ কল-কারখানা, যানবাহন, ক্ষেত-খামারে দিনমজুর বা শ্রমিকের কাজ করা ইত্যাদি।

ইসলাম সুদ খাওয়া হারাম করে দিয়েছে। তার পরিবর্তে মুনাফাপূর্ণ ব্যবসা বৈধ করে দিয়েছে।

ইসলাম জুয়া খেলা হারাম করেছে, তার পরিবর্তে ঘোড়া, উট ও তীরের প্রতিযোগিতালব্ধ ধন-সম্পদ গ্রহণ বৈধ করেছে। শর্ত হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত তা শরিয়তের পরিপন্থী না হয়।

ইসলাম পুরুষদের রেশম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। তার পরিবর্তে সুতা, পশম, কাতানের বিভিন্ন সৌন্দর্যময় পোশাক বৈধ করেছে। ইসলাম যিনা-ব্যভিচার হারাম করেছে। তার পরিবর্তে বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে বৈধ উপায়ে যৌন সঙ্গম বৈধ করেছে। ইসলাম মাদকদ্রব্য হারাম করেছে। তার পরিবর্তে দেহ ও মনের উপকারী সুস্বাদু পানীয় হালাল করে দিয়েছে। ইসলাম খারাপ ও নিকৃষ্ট ধরনের খাদ্য হারাম করেছে। তার পরিবর্তে উত্তম, উত্কৃষ্ট ও ভালো খাদ্য হালাল করে দিয়েছে।

এভাবে ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আল্লাহ তাআলা একদিকে মানুষের জন্য কোনও কোনও জিনিস হারাম করেছেন, অন্যদিকে বহু জিনিস হালাল করে জীবনে বিপুল প্রশস্ততা এনে দিয়েছেন। একদিকের দুয়ার বন্ধ করে তিনি অন্যদিকের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আসলে ইসলামের বিধিবিধান স্রষ্টার আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য, মানুষের জীবন সংকীর্ণ করার জন্য নয়।

পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করতে চান, কিন্তু যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তারা চায় তোমরা ভীষণভাবে সত্যপথ বিচ্যুৎ হও। আল্লাহ তোমাদের ভার লাঘব করতে চান। কেননা মানুষ তো দুর্বলতম সৃষ্টি।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৭-২৮)

ব্রেকিংনিউজ/এসআই

bnbd-ads