দুনিয়া ও আখেরাতে ব্যভিচারের শাস্তি

ধর্ম ডেস্ক
১৭ অক্টোবর ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৩:৪৯

দুনিয়া ও আখেরাতে ব্যভিচারের শাস্তি

যেনা করা কবিরা গুনাহ, মহাপাপ ও জঘন্য অপরাধ। কিন্তু শয়তানের ধোঁকায় পড়ে প্রেম-ভালোবাসার নামে যেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হচ্ছে। আর এ জন্য যেনকারীকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। দুনিয়া ও আখিরাতে উভয় জায়গায় শাস্তি ভোগ করবে তারা।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ ) النور

‘ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরকরণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক এবং মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’ (সূরা নূর-২)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘অবিবাহিত নারী ও অবিবাহিত পুরুষ ব্যভিচার করলে শাস্তি, একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরেরর জন্য নির্বাসন। বিবাহিত নারী বিবাহিত পুরুষের সাথে ব্যভিচার করলে শাস্তি একশ বেত্রাঘাত ও পাথর নিক্ষেপে হত্যা।’ (সহিহ মুসলিম-৩১৯৯)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যা হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুণ হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে। কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তত করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা ফুরকান ৬৭-৭০)

ব্যভিচারের অপরাধের জঘন্যতার কারণে বলা হয়েছে ব্যভিচারকালে ব্যক্তির ঈমান থাকে না। রাসুল (স) বলেন, ‘কোন ব্যভিচারী ব্যভিচারের সময়ে মুমিন অবস্থায় থাকে না। কোন চোর চুরির সময় মুমিন অবস্থায় থাকে না। কোন মদখোর মদ খাওয়ার সময় মুমিন অবস্থায় থাকে না, (বুখারি-২৪৭৫ ও মুসলিম-৫৭)

রাসুল (স) আরও বলেন, ‘কোন ব্যক্তি যখন ব্যভিচার করে তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়, এরপর তা তার মাথার উপর ছায়ার মত অবস্থান করতে থাকে। এরপর সে যখন তা থেকে তওবা করে তখন তার ঈমান পুনরায় তার কাছে ফিরে আসে’। (আবু দাউদ-৪৬৯০ ও সুনানে তিরমিজি-২৬২৫)

আখেরাতে ব্যভিচারী নারী-পুরুষের শাস্তি সম্পর্কে রাসুল (স) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক কঠোর শাস্তি নির্ধারিত থাকবে। তারা হচ্ছে বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী গরীব।’ (মুসলিম ও নাসায়ী)

তাদের শাস্তি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘যিনারাকীরা উলংগ অবস্থায় এমন এক চুলার মধ্যে থাকবে, যার অগ্রভাগ হবে অত্যন্ত সংকীর্ণ আর নিম্নভাগ হবে প্রশস্ত উহার তলদেশে অগ্নি প্রজ্বলিত থাকবে তাদেরকে তাতে দগ্ধ করা হবে। তারা মাঝে মধ্যে সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার কাছাকাছি অবস্থায় পৌছে যাবে। অতঃপর আগুন যখন স্তমিত হয়ে যাবে তখন তাতে তারা আবার ফিরে যাবে। আর তাদের সাথে এই আচারণ কেয়ামত পর্যন্ত করা হবে।’ (বুখারী-৭০৪৭)

পরকিয়া প্রেম বা অন্যের বিবাহ বন্ধনে থাকা স্ত্রীর সাথে প্রেম-প্রণয়ের মাধ্যমে ব্যভিচারের লিপ্ত হওয়া আরও জঘন্য অপরাধ ও মহাপাপ। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করা।, আমি বললাম: ‘এটা নিশ্চয়ই জঘন্যতম গুনাহ। তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘তোমার সন্তান তোমার সাথে আহারে বিহারে অংশ নিবে এ আশঙ্কায় সন্তানকে হত্যা করা।’ আমি বললাম, ‘এরপর কোনটি?, তিনি বললেন, ‘তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।’ (বুখারি-৪২০৭ ও মুসলিম-৮৬)

আল্লাহকে খুশি করতে ও দুনিয়া ও আখিরাতের শাস্তির ভয়ে আমরা যেন এ পাপ কাজ থেকে বিরত থাকি। আল্লাহ যেন আমাদের কে ইমানদার হিসেবে কবুল করে নেন। আমীন।

ব্রেকিংনিউজ/এসআই

bnbd-ads