আল্লামা শফীর মৃত্যুতে ছাত্র আন্দোলনকে দায়ী করছেন ভক্তরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ১০:৩১

আল্লামা শফীর মৃত্যুতে ছাত্র আন্দোলনকে দায়ী করছেন ভক্তরা

আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার (হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার) সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালক দেশ বরেণ্য আলেম শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার ভক্ত ছাত্ররা। 

এদিকে তার মৃত্যুর খবরে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে তার সমর্থক, ভক্ত আলেম ও মাদ্রাসার স্লোগান দিচ্ছেন।  এ সময় তাঁর মৃত্যুর জন্য হাটহাজারী মাদ্রাসার গত তিনদিনের ছাত্র আন্দোলনকেই দায়ী করছেন তারা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ছয়টার দিকে আহমদ শফীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই হাসপাতালের সামনে ভিড় করতে থাকেন তার সমর্থকরা।  ছুটে আসেন ঢাকার আলেমরাও। 

প্রত্যক্ষদর্শী এক আলেম জানান, আহমদ শফীর মৃত্যুর পর ঢাকার কিছু মাদ্রাসার আলেম, ছাত্র ও ইমাম তার মৃত্যুর জন্য হাটহাজারী মাদ্রাসার গত তিনদিনের বিক্ষোভকে দায়ী করেন।  যদিও কোনও কোনও আলেম বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন কোনও মত প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। 

উপস্থিত কোনও কোনও সমর্থক আহমদ শফীকে জাতীয়ভাবে জানাজা ও দাফনের দাবি করেন।  এছাড়া কেউ কেউ জানাজায় হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী যেন অংশগ্রহণ না করেন, সেই দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে বলে জানান একাধিক আলেম।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত হাসপাতালের সামনেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।

উল্লেখ, ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে গতকাল বৃহস্পতিবার হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।  তাকে মজলিসে শূরা সদরে মুহতামিম পদ দেওয়া হয়।  বুধবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া ছাত্রদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বিতীয়বারের মতো মাদ্রাসার মজলিশে শূরা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। 

এছাড়া তার পুত্র আনাস মাদানীকেও মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় ওই বৈঠকে।  এমনকি বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আহমদ শফীকে হাসপাতালে নিতে চাইলে সেখানেও বাধা দেয় আন্দোলনরত ছাত্ররা।  পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে রাত পৌনে ১২ টার দিকে আহমদ শফীকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।  সেখান থেকে বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হলে সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

ব্রেকিংনিউজ/মনির ফয়সাল/এসপি

bnbd-ads