কোরবানি হোক মনের পশুত্ব

ধর্ম ডেস্ক
১ আগস্ট ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৮:২৫ আপডেট: ১২:৫২

কোরবানি হোক মনের পশুত্ব

যথাযথ মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে সারা দেশে উদযাপন হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ ও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা ঈদ উদযাপন করছেন। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের বাস্তবতা ভিন্ন। বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশেও সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই জাতীয় মসজিদ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমসহ দেশে প্রতিটি স্থানের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঈদুল আজহার প্রধান অনুষঙ্গ পশু কোরবানি। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর অনুগ্রহ লাভই হচ্ছে পশু কোরবানির মূল উদ্দেশ্য। তবে অনেকেই এই পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিত্ত প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির এই বিধান কি নিছকই পশু জবাইয়ের অনুষ্ঠান?

দেশের প্রখ্যাত আলেমরা বলছেন, মহান আল্লাহর প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য, ভালোবাসা, ক্ষমা ও আত্মত্যাগে মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়াই পশু কোরবানির মূল উদ্দেশ্য। তাদের মতে, মনের ভেতরের পশুত্ব, হিংসা ও কলুষতাকে কোরবানি করার শিক্ষাই দেয় ঈদুল আজহার পশু কোরবানি। প্রতিযোগিতা কিংবা লোক দেখানো কোনও কিছু করা নয়, কোরবানির শিক্ষা অন্যায়-অবিচারকে রুখে দেয়া এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো।

ইসলাম ধর্মমতে, হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে থেকে শুরু হয় কোরবানির এই প্রচলন। মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। আল্লাহর অশেষ কুদরতে হযতর ইসমাইলের পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। আল্লাহপাকের প্রতি হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর ত্যাগের ওই অনন্য মহিমাকে স্মরণ করেই মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহার দিন পশু কোরবানি করে থাকেন।

মহান আল্লাহপাকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁরই রাস্তায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এ ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বে কোরবানি ও ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।

প্রখ্যাত আলেমদের মতে, কোরবানি দিতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। বিন্দুমাত্র অহংকার প্রদর্শনের ইচ্ছা মনে থাকলেও কোরবানি হবে না। কে কত বড় গরু কোরবানি দিলো এটা আশপাশের মানুষদের দেখানো কোরবানির উদ্দেশ্য নয়। আল্লহর সন্তুষ্টি ভিন্ন অন্য কোনও চিন্তা মনে থাকলে সেই কোরবানি হালাল হবে না। 

এক্ষেত্রে কেউ যদি ৪ লাখ টাকা দামের গরু কোরবানি না দিয়ে ১ লাখ টাকায় কোরবানি আর বাকি ৩ লাখ টাকা দেশের বন্যাদুর্গতদের দান করেন সেটাই হবে ত্যাগ। এই দিনে মুসলিম সম্প্রদায় শরিয়ত নির্ধারিত পশু কোরবানির মাধ্যমে তাক্বওয়ার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন। পবিত্র ঈদুল আজহা একদিনে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে সকাল প্রকাশ অন্যায় অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়, অন্য দিকে সমাজের হতদরিদ্র অভাবী মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে আর্তমানবর্তার সেবার করার অপার সুযোগ করে দেয়।

সৎ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কোরবানির পশু না কিনলে সেই কোরবানি জায়েজ হবে না। অবৈধ পথে রোজগারের টাকায় কোরবানি আল্লাহপাকের দরবারে গ্রহণ হবে না। কোরবানির ক্ষেত্রে লোক দেখানো কিছুই করা যাবে না। তাই কোরবানির ত্যাগের মহিমায় আগে মনের হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার ও পশুত্বকে কোরবানি দিন।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads