খোলা ছাতার সাদৃশ্য মালয়েশিয়ার জাতীয় ‘নেগারা মসজিদ’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ মে ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ০২:৫৬

খোলা ছাতার সাদৃশ্য মালয়েশিয়ার জাতীয় ‘নেগারা মসজিদ’

মালয়েশিয়া জাতীয় নেগারা মসজিদ। মসজিদটি মালয়েশিয়ায় কুয়ালালামপুরে অবস্থিত। মসজিদটিতে ১৫ হাজার মানুষ একত্রে নামাজ আদায় করতে পারে। এ মসজিদটি ১৩ একর ভূমির উপর নির্মিত। একইসঙ্গে আছে একটি সুন্দর বাগান। মসজিদটির মূল কাঠামোটি পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের তিনজন ব্যক্তি: ইউকে স্থপতি হাওয়ার্ড অ্যাশলি এবং মালয়েশীয়দের হিশাম আলবকরি ও বাহারুদ্দিন কাসিমের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। 

                                                                   মসজিদের ভিতরের দৃশ্য
মসজিদে নেগারায় প্রায় সোয়া দুইশ ফুট উঁচু একটি মিনার রয়েছে। কংক্রিট ঢালাই ব্যবহার করে ১৮ পয়েন্টের তারকাকৃতির ছাদ দিয়ে মিনারটি আবৃত। মালয়েশিয়ার সে সময়কার ১৩টি রাজ্য আর ইসলামের ৫টি স্তম্ভের যোগফল থেকে এসেছে এই ১৮ সংখ্যাটি৷ দূর থেকে দেখলে এটাকে একটি খোলা ছাতা বলে মনে হয়।

প্রথমে দিকে এই মসজিদের ছাদের রঙ ছিল গোলাপী। ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটির সংস্কারের সময় ছাদে নীল টাইলস সংযুক্ত করা হয়। মসজিদটি নির্মাণে মালয়েশিয়ান ১ কোটি রিঙ্গিত খরচ হয়েছিল।

মসজিদটির এক প্রান্তে ৭ প্রান্ত বিশিষ্ট তারকাসদৃশ্য একট স্থাপত্য দেখা যায়। মূলত এটি মালয়েশিয়ার কিছু বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতার কবর।

এই মসজিদের নকশা করেছিল মালয়েশিয়ার পাবলিক ওয়ার্কস বিভাগের তিন সদস্যের একটি বিশেষ দল। তারা হলেন— মার্কিন  স্থপতি হোয়ার্ড আশলে, মালয়েশিয়ার স্থপতি হাসিম আলবক্রি ও স্থপতি বাহারুদ্দিন কাসিম।
                                                                       মসজিদের বহিরের দৃশ্য                                       
১৯৫৭ খিস্টাব্দের ৩০ জুলাই ব্রটিশ শাসনাধীন মালয়েশিয়ার ফেডারেল এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল একটি জাতীয় মসজিদ তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর এক মাস পরে অর্থাৎ ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ আগষ্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে মালয়েশিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের ৫ মার্চের এক সভায় মালয়েশিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী টুঙ্কু আবদুর রহমানের নামানুসারে মসজিদটির নাম ‘মসজিদ টুঙ্কু আবদুর রহমান পুত্র আলহাজ’ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু টুঙ্কু আবদুর রহমান এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে জাতীয় মসজিদটির নাম ‘মসজিদে নেগারা’ করার প্রস্তাব দেন। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে এই মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়। পরে ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটির সংস্কার করা হয়।

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

bnbd-ads