এক সাহাবি অসংখ্য যুদ্ধের সম্মুখে থেকেও ভাগ্যে ছিলনা শাহাদাত!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ মার্চ ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ০১:১১ আপডেট: ০১:৪৩

এক সাহাবি অসংখ্য যুদ্ধের সম্মুখে থেকেও ভাগ্যে ছিলনা শাহাদাত!

প্রতিটি মানুষ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। প্রতিদিন শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। কেউ ঘুমের মধ্যে আবার কেউ সুস্থ অবস্থায় বক্তৃতা করতে করতে ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। অনেক সেজদারত অবস্থাতেই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আর কেউ রোড এক্সিডেন্টে অথবা ভিন্ন ভাবে মারা যাচ্ছে।

রাসুলের এক প্রিয় সাহাবি ছিলেন খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রা)। তার কথা মনে পড়লো। তিনি নবীজির যুগ থেকে নিয়ে উমারের যুগ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। অংশ নিয়েছিলেন অগণিত যুদ্ধে। প্রত্যেকটি যুদ্ধেই সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছেন তিনি। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও শত্রুবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বীর-বিক্রমে। কিন্তু যুদ্ধের মাধ্যমে শাহাদাত-বরণ করেননি তিনি। কারণ, এটাই আল্লাহর ফয়সালা ছিল।

মৃত্যুর আগে আফসোস করে তিনি বলছিলেন, ‘আমার শরীরের এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও খালি নেই, যেখানে তরবারির আঘাত লাগেনি বা বর্শা-তির বিদ্ধ হয়নি। কিন্তু আজ আমি এখানে। একটি উটের মতো নিজের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছি। কাপুরুষদের যেন কখনও উন্নতি না হয়। মৃত্যু অন্বেষণ করা যায়, এমন সকল জায়গাতেই আমি মৃত্যুকে খুঁজেছি। কিন্তু তাকদীরের ফয়সালা এটাই ছিল যে, আমার মৃত্যু আমার বিছানাতেই হবে।’ (আলি সাল্লাবি, আমিরুল মুমিনীন উমার, ২/২৩৪)

আসলে যার মৃত্যু যেভাবে লেখা আছে, ওভাবেই হবে। কেউই ফেরাতে পারবে না। যেদিন হায়াত শেষ হয়ে যাবে, মালাকুল মাউত ঠিক ওই দিনই আসবে। এর অন্যথা হবে না।
তাই মৃত্যু থেকে পালিয়ে বেড়ালেও, লাভ নেই কোনো৷ করোনা ভাইরাসের মাধ্যমে যদি আপনার মৃত্যু লেখা থাকে, তবে তা-ই হবে। কেউই রক্ষা করতে পারবে না। ডাক্তার, আইসিইউ, ট্রিটমেন্ট সব ব্যর্থ হয়ে যাবে হায়াত ফুরিয়ে গেলে। আর যদি হায়াত শেষ না হয়, তবে করোনা গুলিয়ে খাওয়ালেও কিচ্ছুটি হবে না।

তবে কি সাবধানতা অবলম্বন করবেন না?

অবশ্যই করবেন। বারবার হাত ধোবেন, বাইরে গেলে মাস্ক পরিধান করবেন, জনসমাবেশ এড়িয়ে চলবেন, কাজ না থাকলে বাসায় থাকার চেষ্টা করবেন, সর্দি-কাশি দেখা দিলে প্রয়োজনে করোনা টেস্ট করাবেন। নিজের অবস্থান থেকে সাবধান হবেন যথাসাধ্য। আর অন্যান্য লোকদেরকেও এই বিষয়ে সচেতন করবেন। এগুলোতে সমস্যা নেই কোনো। বরং সাবধান থাকাটা সুন্নাহ। নবিজি (স) উট বাঁধার পরেই তাওয়াক্কুল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই এসব সচেতনতা অবলম্বনের মাধ্যমে আপনি সুন্নাহ অনুসরণ করার সাওয়াব পাবেন ইন শা আল্লাহ।

তবে আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর ফয়সালা ধার্য করে ফেললে, কেউই আপনাকে বাঁচাতে পারবে না এই বিশ্বাসটুকু খুইয়ে ফেলেন না কখনও।

আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন, তা অবশ্যই আপনার ওপর কার্যকর হবে। দুনিয়ার কোনো শক্তি সেটা ঠেকাতে পারবে না। এটাই তাকদীর। আর তাকদীরের ওপর বিশ্বাস না করলে, ঈমান অপূর্ণই থেকে যায়।

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

bnbd-ads