সৌদিতে মোট আক্রান্তের ১১ শতাংশই বাংলাদেশি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ জুন ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ১১:১৮ আপডেট: ১২:৫০

সৌদিতে মোট আক্রান্তের ১১ শতাংশই বাংলাদেশি

বিশ্বের সঙ্গে করোনার মরণ থাবায় গ্রাস সৌদি আরবও। দেশটিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯১ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ১০ হাজার ৯০৫ জন।

সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ জানান,  সেদেশের সরকারি হিসেবে ২৫ মে পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ৮৭ জন বাংলাদেশি সৌদি আরবে মারা গেছেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের হিসেবে নিশ্চিতভাবে করোনাভাইরাস আক্রান্ত এই ৮৭ জনের পাশাপাশি গত তিন মাসে কোভিড-১৯ এর উপসর্গ নিয়ে সৌদি আরবে মারা গেছে মোট ২২৪ জন বাংলাদেশি।

তিনি আরও জানান, মারা যাওয়া ২২৪ জনের মধ্যে ৮৭ জন নিশ্চিতভাবে কোভিড-১৯ রোগী ছিলেন। বাকিদের মৃত্যু সনদে কারণ হিসেবে ‘কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু’ উল্লেখিত ছিল।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় বলছে- এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫৭৯। অর্থাৎ সৌদি আরবে মোট করোনা ভাইরাসে মৃতদের ১৫ ভাগই বাংলাদেশি নাগরিক।

মরূর দেশটিতে শনাক্ত ও মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন সৌদি আরব নিবাসী বাংলাদেশিরা। তবে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস মনে করছে অন্য দেশের অভিবাসীদের তুলনায় সেখানে বাংলাদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার হার কিছুটা বেশি হলেও তা অস্বাভাবিক বা আশঙ্কাজনক নয়।

রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন,  ‘সৌদি আরবে প্রায় ২২ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। সেই অনুপাতে যদি চিন্তা করেন তাহলে যেই পরিমাণ বাংলাদেশি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হচ্ছেন, সেই হার খুব একটা আশঙ্কাজনক নয়।’

তবে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের তুলনায় বেশি বলে স্বীকার করেন তিনি। বলেন, ‘এখানকার বাংলাদেশিদের অধিকাশের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বা সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। বেশি সংখ্যক বালাদেশির আক্রান্ত হওয়ার একটি কারণ সেটি হতে পারে।’

তবে বাংলাদেশিদের দাবি- তাদের বক্তব্য, জীবন ও জীবিকার তাড়নায় তারা অসচেতন জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, মেনে চলা সম্ভব হয় না স্বাস্থ্যবিধি।

সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকাংশই কম দক্ষতা সম্পন্ন শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাদের অধিকাংশই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করেন। বদ্ধ জায়গায় একসাথে গাদাগাদি করে থাকতে হয় তাদের। এরকম পরিস্থিতিতে শারীরিক দূরত্ব মানা বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রায় অসম্বব বলে মন্তব্য করেন অভিবাসী শ্রমিকদের অনেকে।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

bnbd-ads