করোনার মধ্যেও প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৫১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা

প্রবাস ডেস্ক
১৭ মে ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ০৮:৩৩ আপডেট: ১১:৫০

করোনার মধ্যেও প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৫১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কবলে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশি। ইতোমধ্যে মারা গেছেন প্রায় ৫শ'র অধিক বাংলাদেশ।

এমন পরিস্থিতিতেও বন্ধ নেই দেশে টাকা পাঠানো। এই করোনা পরিস্থিতির সাড়ে ৪ মাসে এই রেমিটেন্স যোদ্ধারা দেশে টাকা পাঠিয়েছেন ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি এখন বিদেশে কাজ করছেন। যার মধ্যে ৭৫ শতাংশেই আছেন মধ্যপ্রাচ্যে। গতবছর এই প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৮৩০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন।

কিন্ত এবার করোনা সংকটের মধ্যে চাকরি নিয়েই চিন্তায় প্রবাসীরা। অনেকের বেতন কমে গেছে। অনেকের কাজ নেই। অনেক দেশে লকডাউন। রেমিট্যান্স হাউস বন্ধ। অনেককে দেশে ফিরতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

তবুও প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ করে দেননি। বরং ধারদেনা করে হলেও এখনো চেষ্টা করছেন টাকা পাঠাতে। আর সামনে ঈদের কারণে মে মাসে প্রবাসী আয় বাড়তির দিকে। সবমিলিয়ে এ বছরের জানুয়ারি থেকে ১২ মে পর্যন্ত মোট ৬০৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন বাংলাদেশি টাকায়, যা ৫১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। মে মাসে যেহেতু ঈদ, এই মাসে প্রবাসী আয় বাড়ার ধারায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি অর্থবছরে (জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত) প্রবাসীরা ১ হাজার ৪৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। তবে ডিসেম্বরে করোনা শুরুর পর জানুয়ারি মাস থেকেই প্রবাসী আয় কমতে শুরু করে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১৬৩ কোটি ডলার ও ফেব্রুয়ারিতে ১৪৫ কোটি ডলার এসেছে।

তবে করোনার কারণে ব্যাপকভাবে লকডাউন শুরু হওয়ায় মার্চে এসেছে ১২৮ কোটি ডলার। যা আগের বছরের মার্চের চেয়ে ১২ শতাংশ কম। আর এপ্রিলে প্রবাসীরা ১০৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন।

তবে সামনে যেহেতু ঈদ, তাই মে মাসে প্রবাসী আয়ের ধারা বেড়েছে। মে মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই ৬২ কোটি ৪ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসে। সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালের মার্চে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩৩ মিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। এ বছরের মার্চে সেটা বেড়ে হয়েছে ১৫৬ মিলিয়ন ডলার। তবে গতবছরের এপ্রিলের চেয়ে এবার প্রবাসী আয় অনেক কমেছে। গতবছরের এপ্রিলে যেখানে ১৪১ মিলিয়ন ডলার এসেছে এবার সেখানে এসেছে মাত্র ৯০ মিলিয়ন ডলার।

মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই করোনার কারণে এই সংকট। কারণ বিদেশে অনেক রেমিট্যান্স হাউজ বন্ধ। প্রবাসীদের টাকা পাঠানো সহজ করতে আমরা একটি অ্যাপ চালু করেছি। যার মাধ্যমে সিঙ্গাপুর প্রবাসীরা সহজেই টাকা পাঠাতে পারবে। কিন্তু এখন অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সেখানে আইসোলেশনে। আয় নেই। টাকা পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো মে মাসে ঈদের কারণে প্রবাসী আয় বাড়বে।’

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসে সৌদি আরব থেকে। দেশটিতে ১৫ থেকে ২০ লাখ প্রবাসী কাজ করেন। গত অর্থবছরে শুধু সেখান থেকেই ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রবাসী আয় এসেছিল। কিন্তু এখন সেখানে অনেক বাংলাদেশি সংকটে রয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রবাসী আয় আহরণের শীর্ষ ১৫টি উৎস দেশ হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও জর্ডান। প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের একটি। করোনার কারণে আয় কমলেও পাঠানোর ধারা অব্যাহত থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৩১১ কোটি ডলার। তবে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, করোনা মহামারির কারণে এ বছর সারাবিশ্বে প্রবাসী আয় কমবে ২০ শতাংশ। আর বাংলাদেশে কমবে ২২ শতাংশ। ইতিমধ্যেই সেই প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

bnbd-ads