বিদেশিকর্মী ছাঁটাই করছে মধ্যপ্রাচ্যের ৮ দেশ, শঙ্কায় ১০ লাখ বাংলাদেশি

নিউজ ডেস্ক
৯ মে ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ১২:৪৭ আপডেট: ০২:০১

বিদেশিকর্মী ছাঁটাই করছে মধ্যপ্রাচ্যের ৮ দেশ, শঙ্কায় ১০ লাখ বাংলাদেশি

করোনা ভাইরাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা লেগেছে অর্থনীতিতে। বিশ্বের সঙ্গে এই ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় রয়েছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। ফলে নতুন করে সাজাতে হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো।

দেশগুলো যদি তাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে সংশোধন আনে, তবে এই প্রভাব পড়তে পারে সেখানে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদেরও। অবৈধের পাশাপাশি আরব দেশগুলো লাখ লাখ বৈধ অভিবাসী কর্মীদের ছাঁটাই করে ফেরত পাঠাতে চাইছে। 

এই ছাঁটাই তালিকার বড় অংশই বাংলাদেশি। এপ্রিলের শুরু থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ বেকার কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিচ্ছে। 

বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাঁচ–সাত লাখ কর্মী ফেরার আশঙ্কা করছেন। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সংখ্যাটা ১০ লাখ ছাড়াতে পারে।

আর ছাঁটাই আকঙ্কে রয়েছে দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশিরা। সৌদি আরব ও কুয়েতের পাঁচ প্রবাসী বলেন, অভিবাসী কর্মীদের বেশির ভাগই চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন। এখন কাজ নেই। অবৈধ ব্যক্তিরা কোনো কাজই পাচ্ছেন না। জীবন হয়েছে মানবেতর, অনেকেই দেশে ফেরার পথ খুঁজছেন।

ইতোমধ্যে শ্রমিকদের ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে কুয়েত। দেশটিতে প্রাথমিকভাবে একটি অস্থায়ী আটক শিবিরে করেছে। সেখানে ইতোমধ্যে কয়েকশ বাংলাদেশি কর্মীদের আটকে রাখা হয়েছে।

সেখানে আটকে থাকা কয়েকজন বলছেন, তাদের মোট সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। ২২ দিন ধরে বড় একটা স্কুলঘরে গাদাগাদি করে ৬০০ জন আছেন। খাবারের কষ্টের কথা বললে পুলিশ বেদম মারছে। বিভিন্ন শিবিরে চারজন মারা গেছেন।

দেশে ফেরার জন্য শ্রমিকদের আর্তনাত বাড়ছে। তাদের অভিযোগে, ‍‘দূতাবাসে দিনে ফোন দিয়েও কাউকে পাই না। আমাদের বাঁচান।’

বড় আঘাতটা আসবে বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমের সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরব থেকে। দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাস বলেছে, সেখানে ২২ লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন। গত বছর মোট অভিবাসী কর্মীর প্রায় ৬০ শতাংশ ওই দেশে গেছেন। কর্মকর্তাদের কারও কারও আশঙ্কা, এই দেশ থেকে সাত লাখের মতো শ্রমিক ফিরে আসতে পারেন।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

bnbd-ads