মামলা-হুলিয়া দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না: ফখরুল

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৩ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার
প্রকাশিত: ০৫:৩১ আপডেট: ০৮:৫১

মামলা-হুলিয়া দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না: ফখরুল
ছবি: সালেকুজ্জামান রাজীব

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘একা নন’ মন্তব্য করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এদেশের ১৬ কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষ তারেক রহমানের সাথে আছেন। সুতরাং কোনও মিথ্যা মামলা ও হুলিয়া দিয়ে কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা তো বিচার বিভাগ ধ্বংস করে দিয়েছেন। বিচার বিভাগের কোনও মর্যাদা আপনারা রাখেননি। তারেক রহমান সাহেবকে একটি মামলায় পুরোপুরি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই মামলাকে আপনারা হাইকোর্ট দিয়ে আবার সাজানোর ব্যবস্থা করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দিয়ে আপনারা তাকে সাজা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।’ 

দেশে কোনও আইনের শাসন নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার চুরি এবং লুটপাট করে এদেশে একটি ডাকাতের শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। এই যে কোভিড-১৯ এতো বড় একটি ভয়াবহ মহামারি, এই মহামারিতেও তারা লুটপাট বন্ধ করেননি।’

‘আরও কী লুটপাট করবেন সেজন্য ভ্যাকসিন আমদানির মাধ্যমে লুটপাটের নতুন ব্যবস্থা করছেন। যেখানে ভারত প্রতি ডোজ ভ্যাকসিন বিক্রি করছে ২ টাকা ৪০ পয়সা করে সেখানে আপনারা বিক্রি করছে ৫ টাকা করে। অর্থাৎ এই চুরির টাকা সব আপনারা নিয়ে যাবেন।’ 

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তা নতুন কোনও ঘটনা নয়। গত ১২ বছর যাবৎ তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য, এমনকি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল গণতান্ত্রিককামী মানুষদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। সেই চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় বেগম জিয়া কারাবন্দি হয়ে আছেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বহু হুলিয়া জারি করে তাকে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ৩৫ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে অর্থাৎ এদেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য এই সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রায় ১২ বছর যাবৎ এখানে একটি অত্যাচার নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করছে এই অত্যাচার নির্যাতন মামলার হুলিয়ে দিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমন করে রাখা যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রামী মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে গণতন্ত্রকে অর্জন করেছে এবং বাংলাদেশের মানুষ এবারও তাদের বুকের রক্ত দিয়ে এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে।’ 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে তারেক রহমান সাহেবকে এত ভয় কেন? ভয়ের একটাই কারণ যে তিনি এদেশের মানুষের রাজনৈতিক পতাকা তুলে ধরেছেন। যে পতাকা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিয়ে এসেছিলেন এবং যে পতাকাকে নিয়ে এসেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে রক্ষার মধ্য দিয়ে। আজকে সেজন্যই তারেক রহমান সাহেবকে তাদের এত ভয়।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার গণবিরোধী সরকার। সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এদেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এজন্যই এ সরকারকে সড়ানোর জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। আজ বাংলাদেশের সকল দেশপ্রেমী ও গণতান্ত্রিকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এদেরকে পরাজিত করতে হবে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফৎ আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামিম, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবকদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, কৃষকদলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সস্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দীন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাংগঠনিক সাইফ মাহমুদ জয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যুগ্ম-আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদল প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ/এমআর

bnbd-ads