৬৬’র ৭ জুন বাঙালির ইতিহাসে মোড় পরিবর্তন করেছিল: জাসদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ জুন ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৪:৩৪

৬৬’র ৭ জুন বাঙালির ইতিহাসে মোড় পরিবর্তন করেছিল: জাসদ

১৯৬৬ সালের ৭ জুন বাঙালি জাতির ইতিহাসে মোড় পরিবর্তন করে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ।

শনিবার (৬ জুন) দলটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফার সমর্থনে ১৯৬৬ সালের হরতাল এবং এই হরতালে ছাত্র-যুবকদের পাশাপাশি তেজগাঁ-ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ-আদমজী-নারায়ণগঞ্জ-টঙ্গীর শ্রমিকদের মারমুখী অংশগ্রহণ এবং তেজগার শ্রমিক মনু মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জের ৬ জন শ্রমিকসহ ১১জন শ্রমিকের রাজপথে লড়াই করে বীর আত্মবলিদান পাকিস্তানি প্রায় ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগ্রামকে নতুন উচ্চতা ও গভীরতা দান করে।

জাসদ নেতৃদ্বয় বলেন, ৭ জুনে  জাতীয়তাবাদী সংগ্রামে শ্রমিক শ্রেণির প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও মারমুখি ভূমিকা জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম-স্বাধিকার সংগ্রাম-স্বায়ত্বশাসনের সংগ্রামকে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে ও অতিক্রম করে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাবার পথনির্দেশ করে দিয়েছিল। 

বিবৃতিতে জাসদ নেতৃদ্বয় মনু মিয়াসহ ৭ জুনের মহান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাসদ নেতারা বলেন, তৎকালীন আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক ও পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ঐতিহাসিক ৬ দফা প্রণয়ন ও ঘোষণার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু অতি  উচ্চ মেধা ও সুক্ষ্ম রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োগ করেছিলেন। পাকিস্তানিদের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ৬ দফা প্রত্যাখ্যান করা কিংবা মেনে নিয়ে হজম করা সম্ভব ছিল না। বরং ৬ দফা পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামকেও শক্তি যুগিয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে আধুনিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছিল, ৬ দফার মধ্য দিয়ে সেই ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক রূপ লাভ করেছিল।

তারা বলেন, ৬ দফা ঘোষণার বঙ্গবন্ধুসহ নেতৃবৃন্দকে কারাবন্দী করা হয়, বাইরে থাকা অন্যান্য নেতাদের দোদুল্যমানতা, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বিরোধিতা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের চরম শূন্যতার মধ্যে স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস হিসাবে পরিচিত সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, কাজী আরেফ আহমেদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের স্বাধীনতাপন্থি ধারার নেতাকর্মীদের সুদূরপ্রসারী চিন্তা, দুঃসাহসিক ভূমিয়া ও অক্লান্ত পরিশ্রমেই ৬ দফার পক্ষে শ্রমিক শ্রেণি, বস্তিবাসীসহ সাধারণ মানুষকে ৬ দফার পক্ষে টেনে আনা ও ৭ জুনের হরতালে রাজপথে মারমুখি সংগ্রামে অবতীর্ণ করা সম্ভব হয়েছিল।

নেতৃদ্বয় ঐতিহাসিক ৭ জুনে স্বাধীনতার নিউক্লিয়াসের তিন কান্ডারি সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, কাজী আরেফ আহমেদসহ তৎকালীন ছাত্রলীগের বিপ্লবী ধারার নেতা-কর্মীদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।

ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমআর 

bnbd-ads