এটা কোন ধরনের অপরাধ, কোন আইনে বিচার?: তথ্যমন্ত্রীকে রিজভী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ মে ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ০৪:৪৯

এটা কোন ধরনের অপরাধ, কোন আইনে বিচার?: তথ্যমন্ত্রীকে রিজভী

ত্রাণ চুরি ও প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদানের তালিকায় বিত্তবানদের নাম দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা কোন ধরনের অপরাধ এবং কোন আইনে এর বিচার হবে- তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কাছে তা জানতে চেয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর রূপনগর থানায় বিএনপি আয়োজিত ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমার বক্তব্য নাকি ফৌজদারি অপরাধের শামিল। আমি বলতে চাই- আমরা ঝুঁকির মধ্যেও নিজেদের টাকায় সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আর আপনারা নির্জন কক্ষে বসে বক্তব্য দিচ্ছেন। আর জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ আপনাদের তথাকথিত নির্বাচিত আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও দলীয় লোকজন চুরি করছে আত্মসাৎ করছে। এটা কোনও ধরনের অপরাধের মধ্য পড়ে, তা জানালে জনগণ উপকৃত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যরাতে অন্ধকারে ভোট ডাকাতি করে সরকার গঠন করলেন, এটা কোন ধরনের অপরাধের মধ্যে পড়ে- আপনার কাছে জানতে চাই। জনাব হাছান মাহমুদ, আপনি ও আপনার দলের লোকেরা নির্জন কক্ষে বসে বিএনপির নামে গালাগালি করছেন। আর আমরা ঝুঁকির মধ্যেও মানুষকে সহায়তা করছি।’

এর আগে সকালে মোহাম্মদপুরে শ্রমিকদল আয়োজিত ত্রাণ বিতরণের সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘অসহায় মানুষকে সহায়তা করা সরকারের লক্ষ্য নয়। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে করোনা মহামারিকে কাজে লাগিয়ে তাদের দলের লোকদের পেট ভরানো। এই কারণে বিরোধী দলের যারা সরকারের সমালোচনা করছে তাদেরকে গুম করছে গ্রেফতার করছে। জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ তথাকথিত নির্বাচিত আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও দলের নেতাকর্মীরা আত্মসাৎ করছে। আর এগুলো যারা বলছে তুলে ধরছে, তাদেরকে গুম করা হচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গত পরশু হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নেতা সাব্বির আহমেদকে তুলে নিয়ে গেছে। সে নাকি ফেসবুকে কি লিখেছে? গণতন্ত্র মানে তো সরকারের অনিয়ম অন্যায় দেখলে সমালোচনা করা। কিন্তু সরকার সেটা সহ্য করছে না।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে ত্রাণ দিচ্ছি। বিএনপি কোনও মানবকল্যাণের কাজ করলেও সরকার সহ্য করে না। প্রতিহিংসায় ভোগে। ভাবে, কেন বিএনপি গরিব মানুষকে চাল ডাল দেবে, সহায়তা করবে? সরকার এটাকে ভালো চোখে দেখছে না। তাই কোনও না কোনও দিন আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে অস্বীকার করে। কিন্তু মানুষ দেখছে পোশাক পরিহিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়ে আসে। এতে এলাকাবাসী এবং পরিবার আতঙ্কিত হয়। ধরে নিয়ে যাওয়ার একদিন কিংবা দুদিন পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে থানায় দেয়। এরপরে কারাগারে পাঠানো হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘সরকার এত উন্নয়ন করছে বলে দাবি করে। তাহলে এতো ভীতু কেন? এত আতঙ্কিত কেন? আতঙ্কিত এজন্য যে, তারা যে সরকার চালাচ্ছে এটা অবৈধ। এখানে জনগণের কোনও সাপোর্ট নেই। জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। রাতের অন্ধকারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভোট ডাকাতি করে তারা নির্বাচিত হয়েছে। এজন্য তারা সব সময় আতঙ্কিত থাকে। এই বুঝি গদি গেল। ক্ষমতা চলে গেল। এইজন্যই বিরোধীদল যেকোনও কাজ করলে তাতে সরকার আতঙ্কিত থাকে।’

এসময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দফতর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাকসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/এমআর

bnbd-ads