আমরা বন্ধুত্ব গড়ে তুলি

মো. রাকিবুল হাসান, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
১৩ মার্চ ২০২১, শনিবার
প্রকাশিত: ০৪:৪৭ আপডেট: ০৫:১১

আমরা বন্ধুত্ব গড়ে তুলি

তখন বর্ষকাল ১৮ সালের ২৩ মে হবে৷ এই পরিষ্কার নীল আকাশ, এই বৃষ্টি। ৬ষ্ঠ ব্যাচের আনুষ্ঠানিক ক্লাস শুরু এখানেই। 

নতুন ক্যাম্পাস, নতুন মানুষদের সাথে পরিচয়। সহপাঠীদের মধ্যে ভাব হতেও সেমিস্টার খানিক লেগেছিল। ক্লাসের ছেলে ও মেয়েদের কলহ লেগেই থাকতো সেই সময়ে। কিন্তু যেদিন ক্লাসের চাপ কম থাকতো, সেদিন চায়ের দোকানে আড্ডা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঘোরাঘুরি আর খানাপিনা চলতো একসঙ্গে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছোট্ট লাগতো সেই সময়ে। কোথায় বসবো, কোথায় আড্ডা দিবো? চারদিকে এতো সিনিয়র আর শিক্ষকেরা৷ তাই ছুঁটতাম ঔ স্মৃতিসৌধে বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে৷ 

৬ষ্ঠ ব্যাচে সব স্বভাবের শিক্ষার্থীই রয়েছে। কেউ ক্লাসের ফাঁকে বই পড়তো, কেউ আড্ডা দিতো, কেউ ছিল ক্যান্টিনমুখী৷ আরেক দল ক্লাসের ফাঁকে ক্যাম্পাস ভ্রমণে বের হতো৷ 

আমাদের ব্যাচের বন্ধুরা প্রায় ছোট বড় দেশ ভ্রমণ করে। ব্যাচের টি-শার্ট বানানো হয়েছে ৩খানা এই ৩ বছরে৷ রঙগুলোও বেশ বলার মতো—লাল, হলুদ ও নীল৷ লাল টি-শার্ট ছেলে-মেয়ের কলহেই বানানো হয়েছিল।

চতুর্থ সেমিস্টার পর্যন্ত দারুণ সময় যাচ্ছিল মোদের। হঠাৎ ‘করোনা’ নিয়ে গেল ক্যাম্পাস জীবনের গোটা বছর৷ অনলাইনে ক্লাসেও বেশ ভাল সময় পার করছিলাম। 

আজ যখন লিখছি ১২ মার্চ, সাল ২০২১৷ তিনটি ক্যালেন্ডার বদলে গেছে। আমাদের গল্পও বেশ বড় হয়েছে। প্রথম থেকে তৃতীয় ব্যাচ সকল সিনিয়রদের সাথে আমাদের ভাল ভাব গড়ে ওঠেছিল। সকলের সাথে যোগাযোগ, মেলামেশা হতো প্রতিনিয়ত। তাদের আর কখনো আগের মতো করে পাবো না৷ তাদের (২য় ও ৩য়) বিদায় বেলার সাক্ষী হতে পারলাম নাহ্। 

পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম বর্তমানে আমাদের সিনিয়র ব্যাচ৷ এই ব্যাচের প্রত্যেক সিনিয়র ভাই ও আপুরা আমাদের সাথে যথেষ্ট আন্তরিক। যেকোনো কাজে সহযোগিতা ও পরামর্শ পেয়ে থাকি৷ জুনিয়রদের নিয়ে আমরা বেশ আশাবাদী। জুনিয়র সকলের সাথে এখনো মুখ চেনা ও চলাফেরার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে সপ্তম থেকে দশম ব্যাচের জুনিয়রেরা দারুণ সম্ভাবনাময়। 

বিভাগের (বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি) সকল শিক্ষাদাতা অনেক আন্তরিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব হওয়ায় আমরা পড়াশোনা ও অন্য কাজগুলো খুব সহজেই করতে পেরেছি। 

ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বিজয় বলেন, যদিও প্রথম সেমিস্টারের মত সবাই একসাথে বসে আড্ডা, ঘুরতে যাওয়া আর হয় না। তারপরও আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকবে সবসময়।

রওনক জাহান বিথী বলেন, মানুষ সম্পত্তি দেখে, আমরা সম্মান দেখি। মানুষ গন্তব্য দেখে, আমরা সফর দেখি। মানুষ বন্ধু বানায়, আমরা বন্ধুত্ব গড়ে তুলি।

আশিকুর রহমান বলেন, করোনার মায়াজাল কাঁটিয়ে পূর্বের মতো বন্ধুত্ত্বের মায়ায় যুক্ত হোক বিএমবি বিভাগের সাইকো ৬। বন্ধুত্ত্বের বন্ধন অটুট থাকুক সারাজীবন।

ব্রেকিংনিউজ/নিহে

bnbd-ads