প্রসঙ্গ নারী দিবস : এগিয়ে যাওয়ার এখনই সময়

মুন্সী বীথি ঘোষ
৮ মার্চ ২০২১, সোমবার
প্রকাশিত: ১২:৪৮ আপডেট: ০৫:০৪

প্রসঙ্গ নারী দিবস : এগিয়ে যাওয়ার এখনই সময়

সারা বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও আজ নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। যদিও বৈশ্বিক করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের চেয়ে আনুষ্ঠানিকতা কম কিন্তু অধিকার আদায়ে আবেগ, অনুভূতি ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে নিজেকে উপস্থাপনে নারী সমাজের আজ আর কোথাও আন্তরিকতার ঘাটতি নেই, নেই কোনও ভয় ও সংকোচবোধ। নারী এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা বুঝে গেছে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় কীভাবে তাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। তারা জেনে গেছে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ ও এই সংকটকালে নতুন প্রেরণায় ঘুরে দাঁড়াবার লক্ষ্যে এবছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব”। সময়ের আলোকে এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না বাংলাদেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা ও অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের সর্বক্ষেত্রেই আজ গুরুত্ব বাড়ছে নারীর। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, প্রশাসন, বিচার বিভাগ সবক্ষেত্রেই নিজেদের যোগ্যতা, সততা, কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিচ্ছে নারী সমাজের প্রতিনিধিরা।

অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অনেকটাই বেড়েছে। সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশের যে বিস্ময়কর উত্থান, তার নেপথ্যেও রয়েছে নারীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক সূচকে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তাতেও নারীর অবদান কম কি? এতকিছুর পরও স্বীকার করতে হবে, বৈষম্য একেবারে দূর করা যায়নি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এখনও অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষিত নারী। সমাজের অনেক ক্ষেত্রে এখনও অবজ্ঞার চোখে দেখা হয় নারীকে। চলার পথে, কর্মক্ষেত্রে নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় নারীকে। নারীকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পথে-ঘাটে চলাচলে বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে অপমানজনক কথার শিকার হয়। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনো ভেসে উঠে কত নির্যাতনের খবর। ঘরে ও বাইরে নারীকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন  করা হয়, যাতে সে মানসিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়। নারীর প্রতি সহিংসতা ও  সামাজিক নিপীড়ন বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর কোনও বিকল্প নেই। ইতিবাচক ব্যবহারও নারীর প্রতি আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক—সব সূচকে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে এখনও এমন অনেক পরিবার আছে, যেখানে নারী উপেক্ষিত। অনেক চেষ্টার পরও সামাজিকভাবে নারীর অবস্থান সেভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কেন? যেই দেশে  নারী জাগরণে পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া, বৃটিশ বিরোধী বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, শহীদ জননী জাহানারা ইমামসহ অসংখ্য সাহসী নেত্রীর জন্ম, সেথায় নারীদের কি পিছিয়ে থাকলে চলে ? মহান মুক্তিযুদ্ধ, এমন কি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও বাঙালি নারী পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে, শহীদ হয়েছে। এই অর্জনকে সামনে রেখেই নারীকে তার ন্যায্য অধিকার বুঝে নিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্ব ও তাঁর যুগোপযোগী সিদ্ধান্তে রাজনীতি থেকে প্রশাসন—সবক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। বেড়েছে  কর্মজীবী নারীর সংখ্যাও। এরপরও কেন নারী উপেক্ষার শিকার হচ্ছে? আর সে কারণেই এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্যটি বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সবখানে প্রাতিষ্ঠানিক পদ বিন্যাসে তাকে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে হবে, বাড়াতে হবে সংসদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীর পদও। কারণ রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন না বাড়লে সমাজে নারীর বার বার চলার পথে হোঁচট খাবে। 

সবার আগে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় পুরুষকে ভূমিকা নিতে হবে। সম-অধিকার চেতনায় দাঁড়াতে হবে নারীর পাশে। শিক্ষা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবর্তন আনতে হবে পুরুষের চিন্তা-চেতনা ও মননে। তবেই করোনা সংকট পরবর্তী জীবনে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে নারীর জীবনে।

লেখক: সহকারী ব্যবস্থাপক, লেকচার পাবলিকেশন্স লি.

ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমআর

bnbd-ads