করোনায় রিসোর্স টিচারদের (আরটি) অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত

মো. আমিনুল ইসলাম
১ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১২:১৪

করোনায় রিসোর্স টিচারদের (আরটি) অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত

মহামারী করোনায় থমকে গেছে বিশ্ব। থমকে গেছে বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম। করোনার ভয়াল থাবায় বাংলাদেশও মারাত্মক আক্রান্ত। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কাজের গতিতে এসেছে স্থবিরতা। পৃথিবীর অন্যান স্থানের মতো বাংলাদেশেরও ক্ষতি হয়েছে অর্থনীতি এবং শিক্ষাখাতে। কিন্তু শিক্ষাখাতের এ ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) কর্তৃক অস্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত রিসোর্স টিচারগণ।

উল্লেখ্য যে, এ মহামারী থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে সরকার গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীরা পড়েন ক্ষতির মুখে। আর এই ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে রিসোর্স টিচাররা নিজ উদ্যোগে আয়োজন করে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার। সে লক্ষ্যে রিসোর্স টিচাররা ইউটিউবে নিজের চ্যানেল এবং Resource Teachers’ Online SCHOOL-SESIP নামে পেজ খুলে নিয়মিত অনলাইন ক্লাসের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং এর ফলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে।

তাছাড়াও রিসোর্স টিচারদের ক্লাস বিভিন্ন বিভাগীয় এবং জেলা ভিত্তিক যে অনলাইন স্কুলগুলো আছে সেখানে প্রশংসা পাচ্ছে। আসলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা চিন্তা করে যতদিন প্রতিষ্ঠান না খুলবে ততদিন রিসোর্স টিচারদের এ অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম চলতে থাকবে।

এখানে আরো উল্লেখ্য যে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, ইংরেজি, গণিত এবং বিজ্ঞান বিয়ষের ভীতি দূর করে যোগ্য হিসাবে গড়ে তোলা, কম মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী চিহ্নিত করে মেধাবী হিসাবে গড়ে তোলা, বাল্যবিয়ে রোধ সহ শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) অধীনে বিষয় ভিত্তিক (ইংরেজি,গণিত, বিজ্ঞান) ১০০০ অস্থায়ী রিসোর্স টিচার (আরটি) নিয়োগ করা হয় এবং সেই ২০১৮ সাল থেকে তারা নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে যা তাদের নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের ২০১৯ এবং ২০২০ সালের ফলাফল দেখলেই বোঝা যায়। ইতোমধ্যে সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে রিসোর্স টিচার নিয়োগ প্রদান করেছিল তা তারা শতভাগ পূরণে সক্ষম হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় রিসোর্স টিচার নিয়োগের ফলে শিক্ষার হার যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে ভাল ফলাফল। যেসব প্রতিষ্ঠানে পাশের হার ছিল কম এবং এ+ এর সংখ্যা একেবারেই ছিল না সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো পেয়েছে এ+ এবং পাশের হার বেড়ে হয়েছে ৯০ শতাংশ এবং এমনকি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০০ শতাংশ পাশের রেকর্ড করেছে। যার পুরোটায় রিসোর্স টিচারদের পরিশ্রমের ফল। ফলে সেসব প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থী এবং অভিভাকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে রিসোর্স টিচাররা।

লেখক: রিসোর্স টিচার (ইংরেজী), ঘুড়কা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads