ঘুমন্ত ইবির জাগ্রতকারী এক নিভৃতচারীর নাম ড. আসকারী

মো. জুলফিকার শাহিন টিটু
১১ জুলাই ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০২:৫৫

ঘুমন্ত ইবির জাগ্রতকারী এক নিভৃতচারীর নাম ড. আসকারী

স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশে প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর হতেই গতানুগতিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়েছে। এযাবতকাল যে কইজন উপাচার্য দায়িত্ব পেয়েছেন সবাই নিঃসন্দেহে যোগ্যতাসম্পন্ন। কিন্তু তারা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান বৃদ্ধিতে নূন্যতম ভুমিকা রেখেছেন? চোখবুজে অকপটে বলা যায় না। হ্যাঁ গতানুগতিক শিক্ষা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি কিছু দলীয় লোকদের সাথে হযবরলভাবে লেজেগোবরে মিশিয়ে অন্য অনেক অযোগ্যদেরকে চাকরি দিয়ে পকেটভারী করেছেন। 

আর আজকের ইবি কোন পর্যায়ে গেছে বা ভবিষ্যৎ ইবি কোথায় যাবে সেটি কি একজন শিক্ষিত মানুষ হিসাবে বুঝবার সামর্থ্য রাখেনা যারা ভ্রান্তময় ধোয়াশা সৃষ্টি করছেন? নিশ্চয় রাখেন। শুধূমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ  করবার জন্য এমন হীন মানুষিকতা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কে পশ্চাৎপদতায় পর্যভূষিত করবে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই।

আমি দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি বিনা প্রয়োজনে, বিনা অনুমোদনে যেনতেনভাবে জনবল নিয়োগ দেওয়া কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত রুটিন ওয়ার্ক নয়। হ্যাঁ প্রয়োজন হলে অবশ্যই  নিয়মনীতির মধ্য ইউজিসি এবং অর্থমন্ত্রনালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে জনবল নিয়োগ দিতে হবে। কিন্তু একটি  বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল কর্মকান্ড কিন্তু পরিচালিত হয় সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে ঘিরে। সেখানে মুখ্য ভুমিকা কিন্তু শিক্ষকের প্রতুলতা-অপ্রতুলতার উপর নির্ভর করে। সেশনজট হতে শুরু করে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন কিন্তু ব্যাহত হয় শিক্ষক স্বল্পতার কারণে। আমি  যেহেতু ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ছিলাম সেহেতু আমি খুব কাছ থেকে  অনুধাবন করেছি শিক্ষক অপ্রতুলতার ভয়াবহতা। বর্তমান মাননীয় উপাচার্য সেশনজট  মুক্ত করবার লক্ষ্য শিক্ষক স্বল্পতাকে দূরীভূত করতে সক্ষম হয়েছেন।

বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদকালে বিভিন্ন বিভাগে ৬৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেটি কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে তরান্বিত করবার পথকে প্রশস্ত  করেনি? অবশ্যই করেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে এই শিক্ষকবৃন্দের নিয়োগ প্রক্রিয়া  স্বচ্ছতা নিয়ে, নাকি নিয়োগ বানিজ্য নিয়ে? নিশ্চয় প্রক্রিয়াগত কোন সমস্যা নেই। আছে আদর্শগত এবং অর্থ সংশ্লিষ্ট কিছু সমস্যা সেটি আমিও বিশ্বাস করি এবং কিছুক্ষেত্রে অবশ্যই সহমত পোষণ করে বলতে পারি অনেক অযোগ্য এবং অনাদর্শিক কিছু শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নিয়োগ বানিজ্যের সঙ্গে  প্রফেসর ড. হারুন-উর রশিদ আসকারীর বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা আছে সেটি শুধুমাত্র আমি নই সত্যিকার অর্থে কেউ বিশ্বাস করবেন না। কারণগুলি খুবই  সুস্পষ্ট এবং প্রাসঙ্গিক।

১. মোটা দাগে যদি কেউ বিশ্লেষণ  করে তবে দেখা যাবে, আন্তর্জাতিকীকরণের পথে ইবির যে দুর্বার অগ্রযাত্রা সেটি  কিন্তু প্রফেসর হারুন-উর রশিদ আসকারীর অনবদ্য কৃতিত্ব। ৬৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দানের মধ্য দিয়ে মোটামুটিভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজট মুক্ত করবার যে প্রচেষ্টা সেটার দাবিদার কিন্তু বর্তমান উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের রুপকার কিন্তু ড. আসকারী। বাহ্যিক শোভা এবং  হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির মহান স্থপতি, জাতির পিতা  বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বৃহৎ ম্যুরাল নির্মাণ কিন্তু ভিসির অবদান। প্রফেসর ড. হারুন-উর রশিদ আসকারীই কিন্তু বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানিত করেছেন। নতুন নতুন বিষয়  খোলার অনুমোদন নেবার কৃতিত্ব কিন্তু ড. আসকারীর। বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে পারস্পরিক কনসালটেন্সির মাধ্যমে বিদেশী ছাত্র ভর্তির অনন্য নজির স্থাপন কিন্তু ড. আসকারী-ই করেছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সাড়া জাগানো আকর্ষণীয় সমাবর্তন কিন্তু প্রফেসর আসকারী উপহার দিয়েছেন।

২. বর্তমান করোনাময় বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  দেশের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক এবং অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখবার  জন্য দিনরাত্রি পরিশ্রম করে চলেছেন যেটি বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী সকল কর্মকান্ডকে কিছু দুর্নীতিবাজ,অসাধু ব্যক্তিবর্গ প্রশ্নবিদ্ধ করছেন তাইবলে তো প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সমিচীন নয়। ঠিক তেমনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের  উন্নয়ন,অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবার জন্য কিছু অসাধু  শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড হয়তো সাধন করেছেন। কিন্তু সেই-কর্মকান্ডের সাথে উপাচার্য সম্পৃক্ততা কতটুক সেটি প্রমাণ সাপেক্ষ। প্রমানের আগেই দায়িত্বশীল এবং সম্মানিত কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইচ্ছে করলেই নেতিবাচক মন্তব্য করা মানবাধিকারের স্পস্টতম লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধ। সেই অপরাধই  করে চলেছেন কিছু মুখোশধারী ষড়যন্ত্রকারীরা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের  বর্তমান উন্নয়ন-অগ্রগতি এবং শিক্ষাবান্ধব যে পরিবেশ বহমান তা অতীতের সমস্ত রেকর্ড অতিক্রম করেছে। ঘুমন্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে জাগ্রত করে নবপুষ্পিকার ন্যায় জীবন্ত করে তুলেছেন যে মানুষটির অক্লান্ত পরিশ্রম,মেধা আর মাধুর্যতা সেই কারিগর কিন্তু মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর রশিদ আসকারী। আসুন সবাই মিলে তাকে স্যালুট জানাই। সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি এবংপ্রধানমন্ত্রীর কাছে ইবির উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে দ্বিতীয় বারের মতো বর্তমান উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার মহদয়ের যে টিম সেটাকে পুনরায় নিয়োগ প্রদানের আবেদন জানাই। 

লেখক : মানবাধিকার কর্মী। 

bnbd-ads