ফেলে আসা বর্ষার দিনগুলো

খাদিজা ইসলাম
১০ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ আপডেট: ১০:২০

ফেলে আসা বর্ষার দিনগুলো

ছোট থেকেই দুষ্টামিতে পটু ছিলাম আমি। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলেই মায়ের নিষেধ আর কড়া শাসনের কথা স্মরণে থাকতো না। বেরিয়ে পড়তাম আম-জাম কুড়ানোর জন্য। সহপাঠীরা সবাই মিলে এ এক অসম প্রতিযোগিতায় মেতে থাকতাম। কে কত বেশি আম কুড়াতে পারে। 

এ গাঁ থেকে ওই গাঁ দৌড়ে বেড়াতাম। পানিতে ভরা পুকুরের ডুব খেলা খেলতাম।  বৃষ্টিতে ভেজার লোভে আবহাওয়া খারাপ থাকলে গোসল করতামনা। বৃষ্টির জন্য ওঁৎ পেতে থাকতাম, কখন বৃষ্টি আসবে। সাথে সবাই মিলে আম কুড়ানো তো আছেই। চুপিচুপি ঢিল মেরে আম পেড়ে প্রতিবশির গাছ খালি করে দিতাম। 

তবে মায়ের বকুনি শাসন এবং মায়ের শাস্তি থেমে থাকতো। শৈশব পেরিয়ে কৈশোর- যেন এ অভ্যাসটা আরও শক্তিশালী হয়েছে।  বৃষ্টির প্রতি ভালো লাগা কাজ করতো, এখনও করে। তাই স্কুল থেকে আসার পথে নিজ থেকেই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে বাসায় আসতাম। সাথে বই খাতাও ভিজে টয়টুম্বুর হতো। সহপাঠীরা একসাথে বৃষ্টিতে ভেজার মজাই আলাদা। বৃষ্টির সাথে সাথে গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি যেন আরেক ভালো লাগা। ভেজা কাপড়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়িতে আসা। গাঁয়ের মেঠোপথে আচাড় খেয়ে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পাওয়া ও যেন ছিল বিনোদনের উৎস। 

মাঝেমধ্যে স্কুল যাওয়ার সময় বৃষ্টি হতো। আনন্দ বিনোদনের সবচেয়ে উপলক্ষ্য ছিলো স্কুলে যাওয়ার সময়ের বৃষ্টি। বান্ধবীরা সবাই মিলে স্কুলে না গিয়ে, একসঙ্গে লুডু খেলায় মেতে থাকতাম। দিন চলে যেতো, তবে ক্ষুদা লাগলে মুড়ির সঙ্গে চানাচুর মাখানি ছিলো জনপ্রিয়তার শীর্ষে। মুড়ি-চানাচুরের পার্টি হতো তখন। লুডু খেলায় সবার চোখে ধুলো দিয়ে গেইম দিতাম সকৌশলে। আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে থাকতাম সারাদিন। 

এখন বড় হয়েছি। চাইলেও আর বৃষ্টির পানে ছুটতে পারিনা। খুব বেশি মনে পড়ে সেই মুহূর্তগুলো। মনের দেয়ালে এভাবেই বেঁচে  থাকুক স্মৃতিরা। আর ফেরা হবে না শৈশব বা কৈশোরে। কুড়ানো হবে না আম। সময়টা বড্ড মিস করছি। 

খাদিজা ইসলাম, 
শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ


ব্রেকিংনিউজ/এএফকে

bnbd-ads