করোনাচ্ছন্ন বিশ্বকে আশার আলো দেখাতে পারে ‘বাংলাদেশ’

মুসা বিন মোহাম্মদ
১৭ মে ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ০৩:৩২ আপডেট: ০৫:১৩

করোনাচ্ছন্ন বিশ্বকে আশার আলো দেখাতে পারে ‘বাংলাদেশ’

হাতেগোনা কয়েকটি দেশ বিশ্বটাকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংস্কৃতিক সর্বত্র তাদের একচ্ছত্র প্রভাব। বিশ্ব মোড়ল হিসেবে খ্যাত এসব প্রভাবশালী দেশগুলোই মহামারি করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি কাবু ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বল্পন্নোত দেশগুলোর জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর একটি মোক্ষম সুযোগ বলে মনে করা যেতে পারে। 

ইতোমধ্যে অনেক দেশ করোনা পরিস্থিতিতে নিজেদের মনোবল শক্ত করে করোনাকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর আর্শীবাদ হিসেবে নিয়েছে। চীন, ইরান বিশ্বজুড়ে করোনা চিকিৎসা সেবার আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলো করোনায় বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় এই সুযোগ নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠছে না। 

করোনার মহামারিকালীন চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহসা খণ্ড খণ্ড আশার ঝলক দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। মনোবল বড় করে নিজের পথে হাটা দিলে বাংলাদেশও অন্যান্য দেশের জন্য আশার আলো হওয়াটা অকল্পনীয় নয়। এ পর্যন্ত কোনো দেশ করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স বা জীবন রহস্য নির্ণয় করতে পারেনি। ফলে কোভিড-১৯ এর সফল ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবিও করতে পারছে না কোনো দেশ। 

অথচ ইতোপূর্বে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, মাছ ও পাটের জিনোম সিকোয়েন্স বা জীবন রহস্য উন্মোচন করে বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১২ মে) করোনা ভাইরাসের জীবন রহস্য উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ চাইল্ড রিসার্চ হেলথ ফাউন্ডেশন। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন (বাংলাদেশ চাইল্ড রিসার্চ হেলথ ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞানী) অধ্যাপক সমীর কুমার সাহা ও তার মেয়ে সেঁজুতি সাহা। 

এরফলে অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসটির আচরণের সব গতি-প্রকৃতি বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের হাতের মুঠোয়। এতে অনেকটা করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের কর্তৃত্ব চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের হাতে। 

এর আগে করোনা ভাইরাস শনাক্তের রেপিড কিট উদ্ভাবন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এ কিটের কার্যকারিতা যাচাইয়ে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। একইভাবে দেশের প্রথম বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. তারেক আলম প্রায় দেড় মাসের গবেষণায় করোনা চিকিৎসায় আশার আলো শুনাচ্ছেন বাংলাদেশকে। 

তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমরা অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল মেডিসিন ইভারমেকটিনের সিঙ্গল ডোজের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিন প্রয়োগে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মাত্র তিনদিনে ৫০ শতাংশ লক্ষণ কমে যাওয়া আর চারদিনে করোনা টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ আসার বিস্ময়কর সাফল্য পেয়েছি।’ 

ডা. তারেক আলম আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করেই বলছি, এই ওষুধ দুটির সম্মিলিত ব্যবহারে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অন্য দুটি ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও রেমডিসিভিরের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ফল পাওয়া যাবে। করোনা নিয়ে এসব চিকিৎসা গবেষণা বাংলাদেশের জন্য বড় আর্শীবাদ। নিয়ন্ত্রিত বিশ্বের গণ্ডি থেকে বের হয়ে আসার শক্তি। এজন্য করোনা মহামারি থেকে মুক্তি পেতে অন্যের আশার বাণী শোনার দিকে তাকিয়ে না থেকে বিশ্বকে আশার বাণী শোনানোর উদ্যোগ নিতে হবে বাংলাদেশকে।’ 

করোনা দুর্যোগে নিজেদের চিকিৎসা গবেষণাকে সুযোগ ও কাজে লাগিয়ে ভাইরাসটির ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারলে বাংলাদেশ হবে অবিশ্বাস্য রকম আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি। এমনকি চিকিৎসাখাতে হবে বৈশ্বিক মডেল। এসব সম্পূর্ণ নির্ভর করছে সরকারের ইতিবাচক মানসিকতা ও সমর্থনের ওপর।

এমতাবস্থায় সরকারকে সংকীর্ণতার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে নিঃস্বার্থভাবে সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবে। এদিকেই ইঙ্গিত করে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) এর বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার নির্ভর করছে ভাইরাসটির জিনোম সিকোয়েন্স বা জীবন রহস্য উদঘাটনের ওপর। তবে আর্থিক ও যন্ত্রপাতির সক্ষমতা থাকলে  ব্ল্যাগ ব্যাঙ্গল ছাগল, মাছের জিনোম সিকোয়েন্সের মতো এ ভাইরাসের জীবন রহস্য জানা সক্ষম হবে। এ সক্ষমতাকে যথাযথ কাজে লাগাতে পারলে করোনা যে বাংলাদেশের জন্য বিরাট আর্শীবাদ হয়ে ওঠবে- এতে কোনও সন্দেহ নেই। 

লেখক: মিডিয়া ম্যানেজার, রিদ্মিক ল্যাবস, ঢাকা।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর

bnbd-ads