সামাজিক মাধ্যমে দানবীর বনাম প্রকৃত দানবীর!

এ.আর. ইমরান
১৬ মে ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৫:০৮ আপডেট: ০৭:৪২

সামাজিক মাধ্যমে দানবীর বনাম প্রকৃত দানবীর!

স্বাভাবিকভাবে স্বার্থ ত্যাগ করে কাউকে অর্পণ বা বিতরণ করাকেই আমরা দান বলে থাকি। প্রত্যাশাহীন নিঃস্বার্থভাবে যারা দান করেন তারাই সত্যিকারের দানবীর। তারা দান করেন নীরবে, নিভৃতে, একাকী কোন প্রকার ফটোসেশান ছাড়াই। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে থাকেন। আবার দান গ্রহীতারাও ফটোসেশন ছাড়া গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রকৃত দানবীর দানগ্রহীতার সম্মান পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখেই দান করে থাকেন। অথচ ডিজিটাল দানবীরদের অবস্থা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,তাদের আওয়াজটা একটু বেশি ‘ঠিক আওয়াজে তাওয়া গরম করার মত’ 

ফটো সেশনের মাধ্যমে লোক দেখানো দানবীর নয়, আমরা হবো হাতেমতায়ী! পরের তরে বিলিয়ে দেব আপনার জীবনটা-ই
পরের সুখে সুখি হবো, পরের দুঃখে দুখি, বদলে দেব আমরা সবে পৃথিবীর চেহারাটা-ই। 

হাজী মুহম্মদ মুহসীন (১৭৩২ – ২৯ নভেম্বর ১৮১২) বাংলার শ্রেষ্ঠ দানবীর তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি শুধু দানবীরই ছিলেন না। তিনি ছিলেন মানুষের প্রতি মায়া-মমতার মূর্তপ্রতীক। মুসলমানদের উচ্চ শিক্ষায় সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে তিনি ১৮০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘মহসিন ফান্ড’ নামক সংস্থায় তার সর্বস্ব দান করেছিলেন। দান ও মহানুভবতার জন্য তার অবদান অবিস্মরণীয়।
 
তারা গত হয়েছেন তবুও ইতিহাসের পাতায় এবং অজস্র মানুষের হৃদয়ে এখনো দানবীর উপাধি নিয়েই বেঁচে আছেন। কারণ তারা নিঃস্বার্থভাবে আত্মতৃপ্তি এবং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্যই দান করেছিলেন, মূলত এরাই প্রকৃত দানবীর। আমাদের দেশেও অজস্র দানবীর রয়েছেন যারা নীরবে নিভৃতে দান করে থাকেন। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে ‘তোমরা এমনভাবে দান করো যেন ডান হাতে দান করলে বাম হাত টের না পায়।’ 

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে দানবীর খেতাবগুলো তোষামোদকারীদের দেয়া বিদায় হাতেম তাই বা হাজী মহসিনদের মতো কেউ ইতিহাস হয়ে থাকতে চায় না। নগদে যা পাও হাত পেতে নাও এই নীতির উপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যেতে চায়। মোটের উপর  যেকোন সম্পাদিত দানের পিছনে কোন না কোন অভিলাষ লুকিয়ে থাকবেই। কথায় আছে নাই মামার চেয়ে কানা মামাও ভালো।  তাই সামর্থ্য থেকেও যারা দান না করে তাদের চেয়ে দানকারী নিঃসন্দেহে শ্রেয়। 

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন বিত্তবানদের শিখিয়ে দিলেন কিভাবে মানবিক হতে হয়! মানবতা কাকে বলে? সংকটে, দুর্যোগে ও মানবিক বিপর্যয়ে মানবতার জন্য কিভাবে এগিয়ে আসতে হয়! শুধু অর্থ সম্পদে ঐশ্বর্যের বিত্তে নয়, চিত্তে মহীয়ান হতে হয়? নতুন ইতিহাস রচিত হলো। ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন নন, আপনি দানবীর নাজিম উদ্দিন! সমাজের সর্বস্তরের তথা সকল শ্রেণি পেশার মানুষ যখন স্বপ্রণোদিত হয়ে কাউকে দানবীর উপাধিতে ভূষিত করবে তিনিই সত্যিকারের দানবীর। 

এই বাংলার প্রতিটি গ্রাম থেকে শহরের স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু তোষামোদি মানুষ নিজের ফেভার ধরে রাখতে, নানান সুবিধা নিতে কাউকে কাউকে দানবীর উপাধিতে ভূষিত করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে তারা কি দানবীর? না মোটেই না, যদি তাই হতো তাহলে ইতিহাসের পাতায় লাখো মানুষের নাম লেখা থাকতো।  গুটিকয়েক মানুষের নাম নয়!
 
তবে হে আমাদের সমাজে বিদ্যমান অনেকেই তাদের স্বার্থ সামর্থ্য অনুযায়ী দান করে থাকেন। নিজের নামের আগে দানবীর শব্দটির সংযোজন করার জন্য নয় বরং...। দান করেন self-satisfaction (নিজের প্রশান্তি) এর জন্য, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাদের মায়া মমতা ভালোবাসা থেকে। তেলবাজ, তোষামোদকারীরা যেভাবে  "দানবীর" শব্দটি গণহারে প্রতিদিন ব্যবহার করছে এতে করে ইতিহাসের প্রকৃত দানবীরদের প্রকৃতপক্ষে খাটো করা হচ্ছে নাতো?

লেখক: সাংবাদিক

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads