হারিয়ে যাবে কি ফারাক্কা লং মার্চ?

সৈয়দ ইরফানুল বারী
১৬ মে ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ১২:০০

হারিয়ে যাবে কি ফারাক্কা লং মার্চ?

ফারাক্কা লং মার্চ এখন একটি ইতিহাস। এর যিনি হোতা তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন, তা নয়! তিনি চাক্ষুষ দেখেছিলেন বাংলাদেশ নদীবিহীন হয়ে যাচ্ছে। তিনি কড়ায়গণ্ডায় হিসাব করেছিলেন, পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র নেই! এমন বাংলাদেশ না থাকারই সামিল। বরং এতে যতটুকু থাকে তাতে বোঝা বাড়ে, কমে না। নিছক অস্তিত্ব মাত্র। এ দিয়ে কী হবে?

মাওলানা ভাসানী নিজের আঙুলে গুণে দেখেছিলেন, তার আর সময় নাই। ডাক্তারি বিদ্যার চেয়ে বড় বিদ্যা নিজস্ব অংক কষা। ‘আমি তখন তার খুব কাছাকাছি। কাছাকাছি বললেও কম বলা হয়। মধ্যরাতে পাটির বিছানায় বসে স্বগোক্তি করে যাচ্ছেন এটা করলাম, ওটা করলাম, কেউ ধরে রাখল না। ভারি, লং মার্চ হয়ে যাবে। তোমরা এর ইতিহাস, এর বিজ্ঞান ধরে রাখতে যাবে? যাবে না। ভারতকে ভয় পাবে।’ তিনি বলেন অমীমাংসিত কত বিষয় রয়ে গেছে। ভারত বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখবে। পানির প্যানপ্যানানি একেবারে বাদ দাও। দেখা যাক, কী করা যায়! আর একটি বিষয় বাদ দিতে হবে। বেরুবাড়ি ইউনিয়নের স্মৃতিকথা। এর মীমাংসা হয়েছে শেখ মুজিবের হাত ধরে। তাই এর পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নাই। 

মাওলানা ভাসানী? বার্ধক্যের জরাজীর্ণ অবস্থা বলতে তো একটা কথা আছে? আমরা (ভারত) গবেষণা করে রেখেছি। রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্র আমাদের জানা আছে। ওরা ক্ষমতায় থাকার পথে হাঁটবে। ফারাক্কার কি হলো না হলো এ হিসাবের পথে যাবে না। হয়েছিলও তাই। বর্তমানে ত্রিশ বছর মেয়াদি চুক্তি চলছে। কোনো গ্যারান্টি ক্লজ নাই। ভাগ্যক্রমে সব ঠিকানায় পানি সরানোর পর যদি-ই-বা পানি তলানিতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ পাবে। অথচ অরাজনৈতিক সরকারের সময় ১৯৭৭ সালে মাত্র পাঁচ বছর মেয়াদি যে চুক্তিটি হয়েছিল তাতে গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। আরো আরো সুবিধা ছিল, পরে যার পুনরাবৃত্তি নাই। ভারতীয় বিশেষজ্ঞগণ দেখলেন, ফারাক্কা পয়েন্টে চুইয়ে চুইয়ে যে পানি পড়ে তা-ও কম নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে। চুইয়ে পানি পড়া বন্ধ করতে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে ভারত সরকার ২৬ কোটি রুপি বরাদ্দ রেখেছিল।

এইসব অংকের হিসাব দিয়ে কী হবে যখন দেখতে পাই ফারাক্কা লং মার্চ নিয়ে সব সরকারে ফিসফাস হয়, আলোচনা হয় না। জাতির অস্তিত্বের প্রসঙ্গ আসে না। এ লং মার্চে যেভাবে সামাজিক ও জাতীয় অংশগ্রহণ ছিল সেভাবে তার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না, তখন বুঝি একটি বিশাল প্রাপ্তিকে শূন্যের কোঠায় পৌঁছাতে কে কোথায় কতটুকু ঘাম ঝড়াচ্ছে, তার খোঁজ কেউ রাখে না। বরং এই বুঝি ধরা পড়লাম, সে আশঙ্কা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা হয়।

তাই বলি, ফারাক্কা লং মার্চ, এখন একটি ইতিহাস মাত্র। জনস্বার্থ, জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন কোথাও শোনা যায় না। ভারতকে শান্ত রেখে, তারপর অন্য কথা। এতে আমলাতন্ত্র বাঁচানো যায়। জাতীয়তা রক্ষা পায় না।

লেখক: মাওলানা ভাসানী গবেষক।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads