শেখ হাসিনা কি বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে পরামর্শ করতে পারেন না?

ড. আসাদুজ্জামান রিপন
১৩ এপ্রিল ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ০৯:০৩

শেখ হাসিনা কি বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে পরামর্শ করতে পারেন না?

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে করোনাভাইরাসে দেশ আক্রান্ত হওয়ার পর বোধহয় আজ দ্বিতীয়বারের মত জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ দেবেন। তার ভাষণে নতুন কি থাকবে জানি না।

দেশের মানুষ যখন করোনা বিভীষিকায় তটস্থ, তখন রাজনীতি মানুষ পছন্দ করবে না। এবং সেটা কোনো তরফেই না। এখন সময় মানুষের পাশে থাকার। মানুষের কল্যাণ কামনা করার। 

যেহেতু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দেবেন, সেখানে কিছু ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করতে চাই। 
জাতির এই ক্রান্তিকালে জাতির ঐক্যবদ্ধতায় সবাই মিলে যাতে এ সঙ্কট থেকে আমরা সবাই বের হতে পারি। রাজনীতিকদের কাছে মানুষ সেই দূরদৃষ্টি আশা করে।

আমি বিশ্বাস করি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগের পৃথিবী আর মহাযুদ্ধের পরের পৃথিবী এক ছিল না, তেমনি করোনার আগের পৃথিবী এবং করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার পরের পৃথিবীও এক জায়গায়, এক চেহারায় থাকবেনা। রাষ্ট্রে সমাজে, অর্থনীতিতে, জীবনযাপনে, চাওয়া-পাওয়ায় এবং আরো অনেককিছুতেই পরিবর্তন আসবে এবং তা আসতে বাধ্য। 

করোনা উত্তর এই পরিবর্তনের ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতাই হবে দেশে দেশে নেতৃত্বের জন্য সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তা রাজনীতি হোক অথবা যেকোনো ক্ষেত্র। কিন্তু আমরা সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে কতটা প্রস্তুত? আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল- আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা নাজুক, কতটা দুর্বল। মানুষ হেল্প লাইনে ফোন করলেও অধিকাংশ সময় ফোন কেউ তুলছেনা!

বলা যায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও তার অব্যাহত ভয়াবহ বিস্তারের কাছে পৃথিবীর মহা ক্ষমতার অধিকারীরাও অসহায় হয়ে গেছে পারমানবিক বোমা মারার চাবি যাদের হাতে তাদের কাউকে কাউকে পর্যন্ত শ্বাসকষ্ট নিয়ে এর ভেতর আইসিইউতে ঢুকতে হয়েছিল! 

আসমান-জমীন সহ যা কিছু দেখা যায় অথবা অথবা আমাদের আয়ত্তের বাইরে- তার সব কিছুর মালিক- নিয়ন্ত্রণ যে মহা প্রভু আল্লাহর হাতে, তা কি আমাদের বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা? 

বাংলাদেশে ২০১৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জনগণের ভোটে যে সরকার গঠিত হয়নি তা বোধগম্য কারণে মুখে কেউ অস্বীকার করলেও তাদের অন্তরেও সে সত্যটিই উঁকি দেয়।

করোনার মহামারি নিঃসন্দেহে মানুষের জন্য মহাবিপদ। এই মহাবিপদের সময় আমাদের আত্নপোলদ্ধি কি? আমরা কি আমাদের কৃতকর্মের ( গুনাহ) জন্য অনুতপ্ত? মানুষের হক (তা যে বিষয়েই প্রাপ্য/পাওনা হোক না কেন) বঞ্চিত করার দায়ে অনুতপ্ত? তা হলেই মহান প্রভু আমাদের দয়া করে ইচ্ছে করলে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। 

যাহোক, আজকে প্রধানমন্ত্রী'র ভাষণ নিয়ে আমার আলোচনার অবতারণা। 

আজ যদি দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রধান বিরোধী দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কথা বলার প্রস্তাব করেন, তার সহযোগিতা, পরামর্শ কামনা করেন- তা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতির জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে। 

This is the high time for political reconciliation and rapprochement. Politicians should have those qualities in them to advance the country. 

একইভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমান সংকট মোকাবিলায় পরামর্শের জন্য বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সাথেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলতে চান, অসুবিধা কোথায়? বৈরিতা ভুলে একটা জায়গায় জাতীয় স্বার্থেই যাওয়া উচিত হবে।

(তারেক রহমান ইতিমধ্যেই জাতির সংকট মোকাবেলায় তার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। 

আমার যতদুর মনে পরে, তিনি বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালে একবার টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবর রহমানের মজারে গিয়ে ফাতেহা পাঠ করেছিলেন। এভাবে তিনি তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধানিবেদনও করেছিলেন। 

আওয়ামী লীগের তরফেও যদি জিয়াউর রহমানের প্রতি অনুরুপ দৃষ্টিভঙ্গি থাকতো তাহলে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিপরীতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সুস্থ প্রতিযোগিতার ধারা গড়ে উঠতো।)

শেখ হাসিনা এমুহুর্তে যদি কিছু ইতিবাচক মনোভাব নেন তাহলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মত প্রধান দুটি দলের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দুরত্ত্ব কমবে, কমবে পরস্পরের প্রতি হিংসার মনোবৃত্তির। এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক সুফল আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রতিপক্ষের প্রতি হিংসা ও ঘায়েল করার মনোভাব বাংলাদেশের রাজনীতিকে ইতিমধ্যেই অনেক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

শেখ হাসিনা ইচ্ছে করলে আজকে তার ভাষনে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে কথা বলার তার ইচ্ছার কথাও জানাতে পারেন। এতে করে বিপদে মানুষের মধ্যে ভরসার জায়গাটা প্রশস্ত হতো। (ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি কিন্তু তার বিরোধীদের সাথে কথা বলেছেন, বলছেন) 

তিনি ঐ একই ইচ্ছে থেকে করোনা ও করোনা পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলে প্রশংসা পাবেন। কেননা এই সংকট মোকাবিলা করা শুধু আওয়ামী লীগের পক্ষে এককভাবে সম্ভব না। মানুষ এখন দলীয় শাসন নয় বরং জাতীয় সরকারের মধ্যে আশা দেখতে পছন্দ করে। কারণ ইতিমধ্যে শাসকদলের লোকদের অনেকে জনগনের ত্রাণের চাল চুরি, গুদামজাত করা শুরু করেছে সেই ৭৩-৭৪ সালের মতো। কোনো কোনো জায়গায় আর্মীর হাতে ধরা খাওয়ার ভয়ে জনগনের জন্য ত্রানের চাল পানিতে ফেলে দিচ্ছে, মাটিতে পুতে ফেলছে। বর্তমান সরকার এসব রিলিফ চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেনা। 

প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করলে তার আজকের ভাষনে নিজের, মন্ত্রীদের, সাসদদের বেতন- সম্মানীর টাকা অর্ধেক নেবেন বলে ঘোষণা দিয়ে অন্যদের জন্য উদাহরণ তৈরি করতে পারেন না?

যেসব লুটেরা, জনগণের সম্পদ লুট করে, লক্ষ কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে- সেসব টাকা দেশে ফেরত আনার শক্ত অবস্থান নিয়ে জনগণের দুঃসময়ে নগদ সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়ার কথাও তার ভাষণে আসুক তা প্রত্যাশা করি।

দেশটা সবার। সবাই দেশের কথা ভাবি। মানুষের পাশে দাঁড়াই।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

bnbd-ads