চাই না সোনার বাংলা মৃত্যুপুরী হোক

মো. মাহমুদুল হাসান
১২ এপ্রিল ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ০১:০৬ আপডেট: ০২:৫৫

চাই না সোনার বাংলা মৃত্যুপুরী হোক
ছবি; সংগৃহীত

করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবী আজ কঠিন সময় পার করছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে গোটা বিশ্বের চেহারা পাল্টে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে জাগতিক ঘূর্নন গতি। থেমে গেছে কারখানার ইঞ্জিন, আকাশ-সড়ক ও স্থল যোগোযোগের সাথে থেমে গেছে অর্থনীতির চঞ্চলতাও। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চলছে ক্রান্তিকাল। মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে এক ভিন্ন বাঁক। সবাইকে হতে হচ্ছে ‘গৃহবন্দি’। এমন পরিস্থিতি উচ্চবৃত্তরা মেনে নিতে পারলেও নিম্নবিত্তদের অবস্থা খুবই করুণ। কর্মহীন এসব মানুষ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পড়ছে চরম বিপাকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় বারবার ঘর থেকে বের না হতে এবং নিরাপদে থাকতে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে সর্তক থেকে করোনা প্রতিহত করতে হাত ধোয়া, খাদ্যাভাসে পরিবর্তন, ঘরে বসে ইবাদত বন্দেগী করার পাশাপাশি সময় কাটানো জন্য বই পড়া, লেখালেখি করা, অনলাইনে খবর নেয়া, মুঠোফোনে স্বজনদের সাথে আলাপন, ভালো দেশি বিদেশি সিনেমা দেখাসহ নানা বার্তা। 

কিন্তু কর্মহীন মানুষের আশা আলো সরকারি- বেসরকারি ত্রাণ সহায়তার কোন খবর কি আছে? সংকটের মুহূর্তে যে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তা কি যথাযথ। দরিদ্র্য পরিবারগুলো কি ত্রাণের আওতায় এসেছে। প্রতিনিয়ত জনপ্রতিনিধি কী তাদের অবস্থা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করছেন? এমন সব প্রশ্নের মধ্যে গতকাল দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় ত্রাণের দাবিতে স্থানীয়রা রাস্তায় মানববন্ধন করেছেন। তাদের দাবি ঘরে খাবার নেই। সরকারি ত্রাণের খবরও দিতে পারছেন না দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিরা।

মরণ ভাইরাস করোনা সংকটের মুহূর্তে রাজনীতির পরিচয়ে অসাধু ব্যক্তিরা ‘চাল চুরি’ চালবাজি, সামাজিক দূরত্ব না মেনে ত্রাণ বিতরণ করছে। কেউ বা ত্রাণ হাতে দিয়ে ছবি তুলেই তাড়িয়ে দিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সরকারি ত্রাণের চাল চুরির মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। হায়রে বাঙালি। কোথায় বিপদ আর কোথায় আমাদের জনদরদি নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। চাল চুরির সাথে সম্পৃক্তদের বলছি, বেঁচে থাকলে অনেক সময় পাবেন। অসহায়, বিপদগ্রস্ত মানুষের মুখের ভাত চুষে নেবেন না। সামনে ভালো দিন আসলে আবার চুরি করার সুযোগ পাবেন। এখন অন্তত একটু থামুন।

দেশের এই বিপর্যয়কালে সমাজের উচ্চবিত্তরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারলেও মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির অবস্থাটা খুবই করুণ। রোজগারের আশায় ঘরের বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই তাদের কারোরই। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। ক্রান্তিকালের এই পরিসমাপ্তিটাই যেন আজ আমাদের সবার একমাত্র প্রত্যাশা!

মহামারি ভাইরাসের বাস যেহেতু আমাদের শরীরে, সেহেতু ভাইরাসটির বিনাশ হতে পারে কেবল আমাদের মধ্য দিয়েই। আমরা যদি আমাদের সচেতনতার মধ্য দিয়ে নিজেদের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রামণ ঠেকাতে পারি, রাখতে পারি নিজেদের সংক্রামণ থেকে শতভাগ নিরাপদ; তবেই হয়তো ভাইরাসটি দেহশূন্য হয়ে হতে পারে অঙ্কুরে বিনষ্ট। 

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ জনসংখ্যাবহুল একটি দেশে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ বয়ে আনতে পারে করুণ ট্র্যাজেডি। একবার যদি দুর্ভাগ্যবশত দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর ভেতরে ভাইরাসটির ব্যাপক সংক্রমণ ঘটে, তাহলে শিগিগরই গোটা জাতির অপ্রত্যাশিত ভাগ্য বিপর্যয় নিশ্চিত! আমরা কি আমাদের দুঃস্বপ্নেও চাই এই সোনার বাংলা হোক মৃত্যুপুরী! ঘরে ঘরে চলুক প্রাণনাশের বিরামহীন ক্রন্দন? না, আমাদের সচেতনতাবোধটাই পারে আমাদের বাঁচাতে, রাখতে পারে এই দেশকে করোনা থেকে নিরাপদ।

মনে রাখতে হবে, আপনার ভাইরাস সংক্রমণ অন্যদের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। সুতরাং নিজে সুস্থ থাকুন এবং অন্যদের সুস্থ রাখতে সচেষ্ট হোন!

সবশেষে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে মহান আল্লাহ তা-আলা আমাদেরকে তার কুদরতি হাতে রক্ষা করতেছেন। নতুবা এখানে একটি গেইম থিউরি বিদ্যমান, যে থিউরি থেকে আমাদের সরকার আমাদেরকে এ পর্যন্ত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে যাই হোক না কেন, আমরা বিপদ-জোনের বাইরে নেই। আমাদের ঘরে থাকতে হবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সরকার ঘোষিত 'স্থাস্থ্য বিধিগুলো' মেনে চলতে হবে, অপ্রয়োজনে বের হওয়া পরিহার করতে হবে, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। এটি আমাদের করতেই হবে, কারণ এক্ষেত্রে আর কোন প্ল্যান ‘বি’ নেই।  এটি নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের আর ভয় নেই।

লেখক: সাংবাদিক

bnbd-ads