যৌনপল্লী থেকে ৯৯৯-এ ফোন, বিক্রি হওয়া ১৪ তরুণী উদ্ধার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার
প্রকাশিত: ০৫:২৮

যৌনপল্লী থেকে ৯৯৯-এ ফোন, বিক্রি হওয়া ১৪ তরুণী উদ্ধার

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ এ ফোন দেন এক তরুণী। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পল্লীতে থাকা ১৪ তরুণীকে উদ্ধার করেছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে এঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ এ একজন তরুণী দৌলতদিয়া থেকে ফোন করে তাকে উদ্ধার করার আকুতি জানায়। 

তরুণী জানায়, তার বাড়ি জামালপুরের তেতুলিয়া। নয় মাস আগে তার ভাবী চাকরির প্রলোভনে তাকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নিয়ে এসে বিক্রি করে দেয়। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজ করানো হচ্ছিল, রাজি না হলে তাকে মারধর করা হতো।

৯৯৯’কে দেয়া ফোনে তরুণী আরও জানায়, সে বর্তমানে অসুস্থ, পতিতা পল্লীর বন্দি অবস্থা থেকে সে মুক্তি পেতে চায়। তরুণী জানায় তার কাছে কোনও ফোন নেই। এক সহৃদয় ব্যক্তির ফোন থেকে সে ৯৯৯ এ ফোন করেছে। তরুণী এই অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানায়।

জাতীয় জরুরি সেবার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আনোয়ার সাত্তার ব্রেকিংনিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে কলারের সাথে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ডিউটি অফিসারের কথা বলিয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়েবী ৯৯৯ কে ফোনে জানান, তারা অনেক খোঁজাখুঁজি করে ভুক্তভোগী মেয়েটিকে উদ্ধার করেন এবং তার বর্ণনা অনুযায়ী একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে আরও তেরো জন মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। ওসি ৯৯৯কে জানান সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়, মুক্তির আনন্দে উদ্ধারকৃত মেয়েরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।

মেয়েরা পুলিশকে জানায়, তাদেরকে অন্ধকার ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো, ৫/৬ দিন পর পর গোসলের সুযোগ পাওয়া যেতো। উদ্ধারকৃত ১৪ তরুণীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত তরুণীদের সেফ হোমে এবং তাদের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর

bnbd-ads