৪৬ জেলাতেই নেই করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ জুন ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৮:৪৭

৪৬ জেলাতেই নেই করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা!

দেশে হু হু করে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের রোগীর সংখ্যা। ফলে বাড়ছে টেস্টের পরিমাণও। কিন্তু দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৬ জেলায় করোনা ভাইরাস শনাক্তের (টেস্ট) কোন ব্যবস্থা নেই।
 
ফলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদেরকে অন্য জেলা বা বিভাগীয় শহরে গিয়ে টেস্ট ও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ল্যাবহীন এইসব জেলায় বসবাস, সংখ্যায় প্রায় ‌১০ কোটি।
 
ভাগ্যবান ১৮টি জেলার মানুষ নিজ জেলায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষা (টেস্ট) করার সুযোগ পাচ্ছে। জেলাগুলো হলো : ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, নোয়াখালী, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, বরিশাল ও সিলেট।
 
মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের মতে, যেসব জেলায় করোনা টেস্টের ব্যবস্থা নেই সেসব জেলায় টেস্ট করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না।
 
লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার জনসংখ্যা ৩০ লাখের বেশি হলেও সেখানে নেই করোনা টেস্টের ল্যাব। সেখানকার লোকজন নোয়াখালী, ঢাকায় ছুটছে। লকডাউনসহ নানা সময় চিকিৎসার জন্য তাদের অসহায়ের মতো দিন কাটত হয়। অনেকেই স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করছেন।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের এখন শেষ ভরসা নোয়াখালী। তাও কিট সংকট। রোগী নিয়ে টানাহেঁচড়ার কারণে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
 
প্রায় ১৬ লাখের ওপরে জনসংখ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলা (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) জেলায় করোনা ভাইসের আক্রান্তদের করোনা ভাইরাস টেস্ট ও চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। তাদের রোগীদের অনেকেই কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে গিয়ে টেস্ট করছেন। এভাবে দেশের ৪৬টি জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের টেস্টের বেহাল দশা বিরাজ করছে।
 
২২ লাখ জনসংখ্যার জেলা সাতক্ষীরায় করোনা রোগী আছে কিন্তু টেস্টের ব্যবস্থা নেই। আক্রান্তরা সাতক্ষীরা খেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে খুলনা মেডিকেল কলেজের ল্যাবে গিয়ে করোনা টেস্ট করেন।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি করোনা টেস্টের মেশিনের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এরপর কিট ও বিশেষজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দরকার।
 
মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, যেসব জেলায় এখনও করোনা টেস্টের ল্যাব নেই সেখানে ল্যাব করার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে ২শ’ বুথ স্থাপন করে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
 
এ সম্পর্কে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি প্রফেসর ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, পিসিআর ল্যাব সাধারণ ল্যাবের মতো নয়। সেখানে যে ধরনের টেকনিক্যাল জনবলের দরকার তা নেই। জনবল ঘাটতির কারণে করা যাচ্ছে না।
 
ব্রেকিংনিউজ/ এসএ

bnbd-ads