ভাড়া নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা, করোনা আতঙ্কে কমেছে দূরপাল্লার যাত্রী

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
৬ জুন ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০১:২৫ আপডেট: ০৫:০৪

ভাড়া নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা, করোনা আতঙ্কে কমেছে দূরপাল্লার যাত্রী

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংকটের মধ্যেও ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়ায় যাত্রী কমেছে দূরপাল্লার বাসে। অতি প্রয়োজন না হলে কোথাও যাচ্ছে না মানুষ। অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ যাত্রীরা। 

শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বাসেই আসনের চেয়ে যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। 

শনিবার সরকারি অফিস ছুটি থাকায় বেসরকারি অফিসগুলোতে সকাল থেকে অফিসগামী যাত্রীদের চাপ থাকলেও বাসের ভেতরে সেই চাপ দেখা যায়নি। মিরপুর থেকে মতিঝিলগামী বাস কিংবা আজিমপুর থেকে উত্তরাগামী কোনও বাসেই অতিরিক্ত যাত্রী দেখা যায়নি। এসময় বাসচালককে মাস্ক মাথায় ক্যাপ এবং দরজায় চালকের সহকারীকে (হেলপার) হাতে স্যানিটাইজার নিয়ে বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। 

যাত্রী ওঠানোর সময় স্প্রে করতেও দেখা যায় তাদের। কিছু কিছু বাসের সিটে আলাদা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে রাখতে দেখা যায়। যদিও বিভিন্ন স্টপেজে রাস্তায় দাঁড়ানো অনেক যাত্রী দেখা গেছে।

মিরপুর থেকে মতিঝিলগামী ট্রান্স সিলভা পরিবহনের চালক জানান, মালিকের নির্দেশেই সিটে আলাদা প্লাস্টিক লাগানো হয়েছে। সব যাত্রী নেমে যাওয়ার পর পুরো বাস স্প্রে করা হয়। তাছাড়া সরকার নির্ধারিত রেটেই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, করোনা সংকটের সময় সীমিত আসনে বাস ভাড়া বাড়ানো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সাভার থেকে প্রতিদিন কলাবাগান আসেন অশোক। 

তিনি সন্তোষজনক কণ্ঠে জানান, আগে সাভার থেকে এখানে আসতে ভাড়া লাগতো ৪০ টাকা, ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পর ৬৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ভাড়া সরকার নির্ধারিত রেটের বেশি নিচ্ছে না। এছাড়া বাসের ভেতর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে বসানো হচ্ছে, স্প্রে করছে।

তবে মিরপুরগামী আরেক যাত্রী ফারুক বলেন, ভাড়া একটু বেশি মনে হচ্ছে। তবে যাত্রী কম আর স্টপেজ কম থাকায় সময় একটু কম লাগছে। ভাড়া একটু কম হলে ভালো হতো। কারণ, সবার পক্ষে তো এই ভাড়ায় প্রতিদিন চলাচল করা সম্ভব না। ভাড়া বেড়েছে কিন্তু বেতন তো বাড়েনি। বরং অনেকের বেতন হচ্ছে না। ঈদে বোনাসও হয়নি। আর্থিক সংকটে আছে অনেকেই। তাই ভাড়া কমিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে পরিবহন চলাচল নিশ্চিত করলে আরও ভালো হতো। 

এদিকে, ভাড়া বৃদ্ধি ও করোনা আতংকে দূরপাল্লার বাসে যাত্রী কমেছে। বাস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খুব জরুরি না হলে কোথাও যাচ্ছে না মানুষ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে ২৫-৩০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বেশিরভাগ বাস ছেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যে। বাস টার্মিনালেও যাত্রীদের আনাগোনা খুব কম।

এনা পরিবহনের একজন চালক জানিয়েছেন, যাত্রী তো একেবারেই কম। এমনিতেই অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার বাধ্যবাধকতা। এরমধ্যেও আবার যাত্রী কম। বেশিরভাগ সময়ই ২০-২৫ যাত্রী নিয়ে যেতে হয়।

গাবতলী টার্মিনালে উত্তরাঞ্চলগামী বাসে যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। বাসের ভাড়া বাড়ায় যাত্রী কম বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। একই অবস্থা রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালেও। ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের যাত্রীরা মূলত এ বাস টার্মিনাল থেকে যাতায়াত করেন। যেখানে সবসময় যাত্রীর আনাগোনা লেগে থাকতো। এখন সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে করোনাকালীন গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করলেও তা কমিয়ে ৬০ শতাংশ করে মন্ত্রণালয়। আর ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে বাস চলাচল শুরু হয়।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর

bnbd-ads