সরকারের অনুমোদন ছাড়াই করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ মে ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৭:২৫ আপডেট: ১১:০৩

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের

অনেক দৌড়ঝাঁপের পরও সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় এবার নিজে থেকেই নিজেদের উদ্ভাবিত ‘জিআর র‌্যাপিড ডট ব্লট’ কিট দিয়ে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। আগামী মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে দুটি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা শুরু হবে। সবার জন্য এই পরীক্ষা উন্মুক্ত থাকবে। 

শনিবার (২৩ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অনুমোদন তো আমাদের আছেই। তারা তো আমাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে। আমাদের হাসপাতালকেও অনুমোদন দিয়েছে। সেটার বলেই আমরা করোনা ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আগামী মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ও সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে করোনা পরীক্ষা শুরু হবে। সবাই সেখানে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারবেন। এ পরীক্ষার জন্য ৭০০ টাকা করে নেয়া হবে। এর মধ্যে অ্যান্টিজেনের জন্য ৪০০ ও অ্যান্টিবডির জন্য ৩০০ টাকা। 

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিএসএমএমইউতে গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিটের সক্ষমতা যাচাইয়ে যে পরীক্ষা চলছে তাতে আমার মনে হয় না তারা ঈদের আগে সেটার ফলাফল দিতে পারবে। সেজন্য ঈদের পরে শুরু করছি আমাদের পরীক্ষাটা। আমরা আর অপেক্ষা করে বসে থাকতে পারি না।’

সরকার গণস্বাস্থ্যের কিটের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না দেয়ার মধ্যেই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের প্যাথলজির পরীক্ষা কি সরকার বাধা দিতে পারবে? অনুমোদন হয়নি, সেটা তারা কোর্টে গিয়ে করবে। আমাদের হাসপাতাল তো ড্রাগের (ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর) অধীনে না। তারা নথি দিলে সরকারকে উত্তর দেবো। আমাদের কাছে বিএসএমএমইউ-এর অনুমোদন আছে।’

গত ৩০ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অথবা আইসিডিডিআরবিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য অনুমতি দেয়া হয়। এরপর গত ২ মে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহীনা তাবাসসুমকে প্রধান করে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে এই কিট উদ্ভাবন করেছেন একদল বিজ্ঞানী। অন্য গবেষকরা হলেন–ড. ফিরোজ আহমেদ, ড. নিহাদ আদনান, ড. মো. রাইদ জমিরুদ্দিন ও ড. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।

কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে চাহিদা মোতাবেক ২০০ কিট গত ১৩ মে পৌঁছে দেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এর একদিন আগেই ১২ মে কিট চেয়ে গণস্বাস্থ্যকে চিঠি দেয় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

ওইদিন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন,  ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিঠি মোতাবেক আমরা তাদের হাতে ২০০ কিট পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিজন কুমার শীল ও মহিবুল্লাহ খন্দকার এ কিট পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়ও কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার খরচ বাবদ ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছে।’

এরইমধ্যেও ১১ মে এক সংবাদ সম্মেলনে কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষকদের উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করে দেশবাসীর কাছে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অপারগতার জন্য ক্ষমা চান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। একইসঙ্গে তিনি নিজেদের তৈরি ‘জিআর র‌্যাপিড ডট ব্লট’ কিট দিয়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য সরকারকে সাময়িক সনদপত্র দেয়ার আহ্বান জানান।

এর একদিন পরই ১২ মে কিট দেয়া ও ব্যাংকে খরচ বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে চিঠি দেয় বিএসএমএমইউ।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads