মনিপুর স্কুলে শিক্ষার্থীদের বকেয়া পরিশোধের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারে নোটিশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৫:২২ আপডেট: ০৫:৫৬

মনিপুর স্কুলে শিক্ষার্থীদের বকেয়া পরিশোধের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারে নোটিশ

রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রথম থেকে দশম শ্রেণির পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনলাইন হোমটেস্ট এবং অনলাইন মডেল টেস্ট পরীক্ষার আগে বেতনসহ সকল বকেয়া পরিশোধ করে প্রবেশপত্র নেয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারে শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জনস্বার্থে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী জেআর খান রবিন এই নোটিশ পাঠান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়া নোটিশের বিবাদীরা হলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও মনিপুর উচ্চ বিদ্যারয় ও কলেজের অধ্যক্ষ।

আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি ব্রেকিংনিউজকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী জেআর খান রবিন।

নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মিরপুরের শিক্ষার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আইনজীবী রবিন বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মিরপুরের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক বেতন, পানি ও বিদ্যুৎসহ সকল পাওনা আদায় কার্যক্রম সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানিয়েছি। আইনজীবী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতনসহ সকল পাওয়া আদায় বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তাদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’

নোটিশে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনা একটি বিরাট সমস্যা এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ও এমন ভয়াবহ ভাইরাস থেকে মুক্ত নয়। এর ফলে দেশের প্রায় সকল মানুষ আর্থিকসহ আরও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। তারপরেও মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মিরপুরের অধ্যক্ষ গত ১০ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় আপনার (মনিপুর) স্কুলে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আগামী ২০ অক্টোবরের পূর্বে সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হবে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেআইনিও বটে।

















নোটিশে বলা হয়, সরকার শিক্ষার উন্নয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সংবিধানের অনুচ্ছেদে ১৭ অনুযায়ী শিক্ষাকে অবৈতনিক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তাই শিক্ষা সচিব ও শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সংশ্লিষ্ট অধ্যাক্ষের বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আপনাদের প্রতিও নোটিশ পাঠাতে বাধ্য হয়েছি।

এই নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে মনিপুর উচ্চ বিদ্যাল ও কলেজ মিরপুরের শিক্ষার্থীর নিকট থেকে পরীক্ষার ফি, বিদ্যুৎ বিল, পানি বিলসহ সকল পাওনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনিপুর স্কুলে বেতন পরিশোধ না করলে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেবে না বলে বেতন আদায়ের কৌশল নিয়েছে স্কুল কতৃপক্ষ। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে পানির বিল, বিদ্যুৎ বিল আদায় করেছে। পানির জন্যে প্রতি মাসে মাথাপিছু ১০০ টাকা, বিদ্যুতের জন্যে মাথাপিছু ১০০ টাকা এবং আইটি’র জন্যে ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

নোটিশের বিষয়ে আইনজীবী জেআর খান রবিন বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজারো পেশাজীবী ও চাকরিজীবী। বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন বিলে বিলম্ব ফি মওকুফ করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণের বিষয়ে বলা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুদ গ্রহণ করা যাবে না। সরকার বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের জীবিকা নির্বাহ করাটা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের মাসিক বেতন পরিশোধে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণেই মনিপুরি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে আদায়যোগ্য মাসিক বেতন শিক্ষার্থীর নিকট থেকে পরীক্ষার ফি, বিদ্যুৎ বিল, পানি বিলসহ সব এখনই কেন আদায় করতে হবে। অর্ধেক অর্থ তো আদায় করতে পারেন তারা।’

ব্রেকিংনিউজ/কেআই/এসআই

bnbd-ads