সুন্দরী মেয়েদের বিদেশে নিয়ে ‘মধুচক্র’, রিমান্ডে ইভান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ০২:০৫ আপডেট: ০২:১০

সুন্দরী মেয়েদের বিদেশে নিয়ে ‘মধুচক্র’, রিমান্ডে ইভান

মানবপাচার আইনে করা মামলায় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক বেগম ইয়াসমিন আরা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। 
এর আগে গেল ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদ বেগমের আদালতে মানবপাচারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক দালালচক্রের কে বা কারা জড়িত তা জানার জন্য ইভানকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওইদিন আদালত ইভানের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, গেল ১১ সেপ্টেম্বর ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গুলশান নিকেতন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। ইভান ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিরা ভুক্তভোগীদের নাচ শিখিয়ে ভালো বেতনে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিতেন। তাদের প্রস্তাবে ভুক্তভোগীরা জারি হলে তাদের থাকা-খাওয়াসহ ক্লাবে নাচ-গানের বিনিময়ে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন দেয়ার মৌখিক চুক্তি করেন। 

সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগীরা আসামিদের ওপর ভরসা করে দুবাইসহ অন্যান্য দেশে রাজি হন। আসামি আজম খান, তার ভাই নাজিম ও এরশাদের সহায়তায় ভুক্তভোগীরা ময়নার পারপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে দেন। 

এরপর ২০১৯ সালের মে মাসে ময়নাকে দুবাইয়ের সারজা নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে আজম খান নিজেসহ বিভিন্ন লোক দিয়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান। কিন্তু দুবাই গমনের পর আসামিরা ময়নাকে কোনও বেতনও দেয়নি। 

পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা বিবাদী নির্মল দান, আলমগীর, আমান ও শুভসহ অজ্ঞাতনামা এজেন্টদের সহায়তায় ভুক্তভোগী আলেয়া ও মনি আক্তারদের ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ড্যান্স ক্লাব থেকে প্রলোভনের মাধ্যমে বাছাই করেন। 

এভাবে বহু বাংলাদেশি নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে আসামিরা দুবাইসহ অন্যান্য দেশে পাচার করেন এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক আটকে রেখে যৌন নিপীড়ন চালান। 

আসামি নির্মল চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করা হলে গেল ১৩ আগস্ট তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি জানান, ইভান বিদেশে পারফর্ম করার জন্য অধরা ও বিথী নামে দুজন আর্টিস্ট দেন। আসামি ইযাছিনও ২০ আগস্ট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে একই কথা জানান।

বাংলাদেশি নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে দুবাইসহ অন্যান্য দেশে পাচার ও জোরপূর্বক আটকে রেখে যৌন নির্যাচন করার অভিযোগে গেল ২ জুলাই মূল হোতা আজম খানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মৃনাল কান্তি শাহ। 

মামলার আসামিরা হলেন- আল-আমিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড (২৬), স্বপন হোসেন (২৮), আজম খান (৪৫), নাজিম (৩৬), এরশাদ ও নির্মল দাস (এজেন্ট), আলমগীর, আমান (এজেন্ট) ও শুভ (এজেন্ট)।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads