রিফাত হত্যা মামলার রায় ৩০ সেপ্টেম্বর

জেলা প্রতিনিধি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ০১:৪০ আপডেট: ০৫:৩৭

রিফাত হত্যা মামলার রায় ৩০ সেপ্টেম্বর

বরগুনায় বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে রায়ের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ ঘোষণা করেছেন আদালত। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ মামলার সাক্ষী থেকে ৭ নম্বর আসামি বনে যাওয়া হাইকোর্টের আদেশে জামিনে থাকা রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামানের আদালত রায়ের এ তারিখ তারিখ ধার্য করেন। 

এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে আদালতে প্রবেশ করেন মিন্নি। হাইকোর্টের আদেশে জামিনে থাকা মিন্নির জামিনের মেয়াদও শেষ হচ্ছে আজ। 

এর আগে মিন্নির পক্ষে আদালতে তার আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আজ মিন্নির উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তার পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তি খণ্ডন করেন। এরপরই আদালত এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন।

এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয় এ মামলায় কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ৮ আসামিকেও। পুরো আদালত প্রাঙ্গণ জুড়ে পুলিশি কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর ভুবন চন্দ্র হালদার জানিয়েছেন, পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজ এই মামলার যুক্তিতর্কের অবশিষ্ট অংশ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হলে আদালত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেন।

আলোচিত এ মামলায় ইতোমধ্যে ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিদের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি খণ্ডন শেষ হয়েছে। 

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামি হলেন- নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সাইমুম। ১০ আসামির মধ্যে মো. মুসা পলাতক আছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৭ জুন সকালে নিহতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে প্রথমে ১২ জনের নাম ও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত উল্লেখ্য করে বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। 

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর মিন্নির সঙ্গে খুনি নয়ন বন্ডের বিভিন্ন ভিডিও, অডিও ও ছবি ভাইরাল হলে তাকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়।

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিনই রাত ৯টায় মিন্নিকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাকে রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তখন স্বামী রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এরপর কয়েকদফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালতে জামিন মেলেনি মিন্নির। পরে একই মামলায় গত ২৯ আগস্ট মিন্নিকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন হাইকোর্ট।

এর আগে রিফাত হত্যা মামলায় গত ১ জানুয়ারি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ মামলার ১০ প্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads