আদালতে মিন্নি, কড়া নিরাপত্তায় পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ১২:৫৬ আপডেট: ১২:৫৬

আদালতে মিন্নি, কড়া নিরাপত্তায় পুলিশ

বরগুনায় বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ। মামলার সাক্ষী থেকে ৭ নম্বর আসামি বনে যাওয়া হাইকোর্টের আদেশে জামিনে থাকা রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিনের মেয়াদও শেষ হচ্ছে আজ। মিন্নির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রাষ্ট্রপক্ষ যুক্ত খণ্ডন করবেন। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে আদালতে প্রবেশ করেন মিন্নি। 

এদিন কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়েছে এ মামলায় কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ৮ আসামিকেও। পুরো আদালত প্রাঙ্গণ জুড়ে পুলিশি কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতে আসা সকল বিচারপ্রার্থীদের এদিন তল্লাশি করে আদালতে প্রবেশ করানো হচ্ছে। 

মিন্নির উপস্থিতিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়।  

এরইমধ্যে আলোচিত এ মামলায় ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিদের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। 

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম জানিয়েছেন, মিন্নি ব্যতীত এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে ৯ আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য আদালতে তারা যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। আজ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মিন্নির পক্ষে উপস্থাপিত যুক্ত খণ্ডন করবেন। এরপর আদালত এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করতে পারেন। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৭ জুন সকালে নিহতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে প্রথমে ১২ জনের নাম ও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত উল্লেখ্য করে বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। 

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর মিন্নির সঙ্গে খুনি নয়ন বন্ডের বিভিন্ন ভিডিও, অডিও ও ছবি ভাইরাল হলে তাকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়।

এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাকে রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তখন স্বামী রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এরপর কয়েকদফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালতে জামিন মেলেনি মিন্নির। পরে একই মামলায় গত ২৯ আগস্ট মিন্নি হাইকোর্টে জামিন পান।

গত ১ জানুয়ারি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ মামলার ১০ প্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। তবে গত সপ্তাহে বরগুনার আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।  

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সাইমুম। এর মধ্যে মো. মুসা পলাতক আছেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads