ভার্চ্যুয়াল কোর্টে জামিন পেল ২৪৭ শিশু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১০:৫৫ আপডেট: ১০:৫৫

ভার্চ্যুয়াল কোর্টে জামিন পেল ২৪৭ শিশু

ভার্চ্যুয়াল আদালতের মাধ্যমে জামিন পেল সমাজসেবা অধিদফতরাধীন তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ২৪৭ জন শিশু। ইতোমধ্যে বিশেষ সরকারি ব্যবস্থাপনায় জামিনপ্রাপ্ত ১৭৪ শিশুকে তাদের অভিভাবকের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি শিশুদের ঈদের আগেই অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। 

বুধবার (২০ মে) রাতে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ও মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র সাইফুর রহমান জানান, গত ১২ মে ২০২০ থেকে ২০ মে ২০২০ পর্যন্ত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রসমূহ থেকে ভার্চ্যুয়াল কোর্টের মাধ্যমে মোট ২৪৭ জন শিশুর জামিন হয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে অভিভাবকের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে মোট ১৭৪ জন শিশুকে।

সমাজসেবা অধিদফতর দেশের তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পরিচালনা করে আসছে। কেন্দ্র তিনটি গাজীপুর জেলার টঙ্গী ও কোনাবাড়ী এবং যশোরে অবস্থিত। এরমধ্যে টঙ্গী ও যশোরের কেন্দ্র দুটি বালক শিশুদের জন্য নির্ধারিত। আর কোনাবাড়ীর কেন্দ্রটিতে কন্যাশিশুদের রাখা হয়। শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী আদালত আইনের সঙ্গে সংঘাতে বা সংস্পর্শে আসা শিশুদের কারাগারে না পাঠিয়ে তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়ে থাকে।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের আগ পর্যন্ত ৩০০ আসন বিশিষ্ট গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৬৯৫ শিশু ছিল। যা ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানে ও ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি শিশু অবস্থান করছিল। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে ছিল তারা।

এদিকে কোভিড-১৯ দুর্যোগে দেশের সকল আদালতের স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়ে যায়। এতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের জামিন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। জামিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অবস্থানরত শিশুদের সুরক্ষা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানায় সমাজসেবা অধিদফতর।

সরকার গত ৯ মে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ জারি করে। একইসঙ্গে উচ্চ আদালত হতে জারি করা হয় বিশেষ প্রাকটিস নির্দেশনা। এর ফলে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল আদালত পরিচালনার পথ উন্মুক্ত হয়। এর ফলে গত ১২ মে হতে ২০ মে পর্যন্ত আট কার্যদিবসে ভার্চ্যুয়াল কোর্টের মাধ্যমে জামিন পায় ২৪৭ জন শিশু।

সমাজসেবা অধিদফতরের গবেষণা, মূল্যায়ন, প্রকাশনা ও গণসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে শিশুদের জামিনে মুক্ত করতে সমাজসেবা অধিদফতর নানামুখী উদ্যোগ ও যোগাযোগ রক্ষা করে। একাজে ‘সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি অব চাইল্ড রাইটস’ এর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. ইমান আলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জামিনপ্রাপ্ত শিশুদের এই কমিটির উদ্যোগে সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে ইউনিসেফের সহযোগিতায় অভিভাবকের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ/কেআই/এমআর

bnbd-ads