পদত্যাগ করেছেন ব্যারিস্টার সুমন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১০:৫৬ আপডেট: ০২:৩৫

পদত্যাগ করেছেন ব্যারিস্টার সুমন

পদত্যাগ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। 

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য ট্রাইব্যুনালে বেশি সময় দিতে পারছিলাম না। এজন্য চিফ প্রসিকিউটর বরাবর আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

পদত্যাগপত্রে সুমন লিখেছেন, ‘২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর আমি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে যোগদান করি। যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন মামলা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পরিচালনা করেছি। ইদানিং বিভিন্ন সামাজিক স্বেচ্ছামূলক কাজে নিবিড়ভাবে জড়িত হয়ে যাওয়ার কারণে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সময় দিতে পারছি না। এমতবস্থায় সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নেওয়াকে আমি অনৈতিক বলে মনে করি। এ কারণে আমি অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।’

স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা-ব্রিজ নির্মাণ, ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন, এলাকার বিভিন্ন দুর্নীতি-অসঙ্গতি নিয়ে লাইভ প্রোগ্রামসহ সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে আলোচনায় আসেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ছেলে ব্যারিস্টার সুমন। 

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান​ ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার অভিযোগের পর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তোলেন ব্যারিস্টার সুমন। এর একদিন পরই গত বছরের ২২ জুলাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন ফেসবুকে লিখেছেন- ‘পৃথিবীর মধ্যে নিকৃষ্ট ও বর্বর জাতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী, যাদের ধর্মের কোনো ভিত্তি নেই। মনগড়া বানানো ধর্ম। হয়তো দু-একটি খবর নিউজে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া আরও আনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়, তাদের নৃশংসতার আড়ালে।'

যদিও ব্যারিস্টার সুমন শুরু থেকেই ফেসবুক প্রোফাইলটি তার নিজের নয় বলে দাবি করে আসছিলেন।

গেল বছরের গত ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু আমাদের বাংলাদেশে থাকার জন্য সাহায্য করুন।’

এ নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। অনেকেই ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মন্তব্য করেন। 

ব্রেকিংনিউজ/কেআই/এমআর

bnbd-ads