রাজনৈতিক যুদ্ধ ‘নড়বড়ে’, বিশ্বে এখন যুদ্ধের মূলে ‘অর্থনীতি’

মো. বাকি বিল্লাহ
১৪ জানুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১২:৪৯ আপডেট: ০৪:৫৮

রাজনৈতিক যুদ্ধ ‘নড়বড়ে’, বিশ্বে এখন যুদ্ধের মূলে ‘অর্থনীতি’

বিশ্বজুড়ে চলছে বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এই কঠিন সময়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে যে ক’জন নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন; তাদের একজন কাজী পেপার কাপ (কেপিসি) ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও পেপার কাপ ম্যানুফ্যাকচার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কাজী সাজিদুর রহমান। তিনি একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তাকে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের আইকনও বলা হয়। কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ জাতীয় এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগ) উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০১৬ সহ আরও অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। 

সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি’র মুখোমুখি হয়ে দেশের অর্থনীতি, করোনা প্রণোদনা, উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার লড়াই, বাজেটে চাওয়া-পাওয়াসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও গ্রন্থনা করেছেন ব্রেকিংনিউজের অর্থনীতি বিষয়ক স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মো. বাকি বিল্লাহ

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি: বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস মহামারি পরিস্থিতি ২০২১ সালে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা গ্রহণে চ্যালেঞ্জ কতটা?

কাজী সাজিদুর রহমান: পরিকল্পনায় প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানকে অনেক পরিবর্তনে চলে আসতে হয়েছে। করোনা মহামারি এখনও চলছে। যদিও আমরা দেখছি অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনার প্রভাব কম। তবে অর্থনৈতিকভাবে এর প্রভাব কোনও অংশেই কম না। যা আমরা এখনও বুঝতে পারছি না। তবে কিছু কিছু খাত করোনায় লাভবান হয়েছে, এর মধ্যে পেপার কাপ খাত একটি। কিন্তু একটা খাত দিয়ে একটা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করা যায় না। ২০২১ সাল হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বছর। কেননা আগামী ১০-২০ বছর পরে করোনার যে প্রভাব পড়বে, তা ২০২১ সালে নির্ণয় হয়ে যাবে। আমরা যদি মনে করি করোনার প্রভাব বুঝতে পেরেছি, তাহলে বলবো, আমরা ভুলের মধ্যে আছি।

শিল্পায়নের দিক থেকে আমরা যে আরএমজি খাত নিয়ে বেশি গর্ব করি, করোনায় এ খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রচুর মানুষ বেকার হচ্ছে। একে তো চাকরির জায়গা নেই, আবার যারা নতুন উঠে আসতো তাদের চাকরির জায়গা নষ্ট হলো। আর যারা চাকরিতে ছিলো তারাও চাকরিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাপক অরাজকতা তৈরি হবে বা অর্থনৈতিক দৈন্যদশার সম্মুখীন হতে হবে। জানুয়ারি মাস চলছে। এখন থেকে ৬-৭ মাস পরে এর একটা ফলাফল পাওয়া যাবে।

আমরা যে পেপার কাপ খাত নিয়ে আছি, দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতা নিয়ে যুদ্ধ করে আসছি, পেপার কাপের ব্যবহার সার্বিকভাবে যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, করোনা সেই যুদ্ধটায় আমাদের অনেক বেশি এগিয়ে নিয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে একটা ভয় এসেছে। একজনের ব্যবহৃত কাপে আরেকজন খাবেন না। প্লাস্টিক কাপের ব্যাপারে সচেতন হওয়া, প্লাস্টিক ক্ষতিকর দিকগুলো আলোচনায় আসছে। তবে আমাদের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কিছু সিদ্ধান্তহীনতা বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে করোনায় যে সচেতনতা তৈরি হলো, তার ইতিবাচক দিকটি সবাই সমানভাবে নিতে পারলো না।

সমস্ত ব্যবসা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। তাদের একটি সিদ্ধান্ত একটি খাতকে বদলে দিতে পারে। এনবিআর একটি এসআরও জারি করে তৈরি পণ্য আমদানিকে বেশি সহজ করে দিল। যা দেশে ওই শিল্প থাকা অবস্থায় একেবারে সমুচিত না। আমাদের রাষ্ট্রীয় যে আইন-কানুন আছে সেখানে স্পষ্ট বলা আছে যে, দেশের শিল্পকে আগে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু হলো এর উল্টো। শুনতে খুব ভালো লাগে যে, পেপার কাপের অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রিজ। তারা অনুসরণ করছে, দেখছে, আগ্রহী হয়ে উদ্যোক্তার দিকে আসছে। তারা এখন ক্ষতিগ্রস্ত। কাঁচামালের চেয়ে তৈরি পণ্য সহজলভ্য হলে তো সেই খাত টিকতে পারে না। এ ব্যাপারে অনেক আলোচনা, আবেদন করছি, কিন্তু তাদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। এট খুবই দুঃখজনক।

ব্যক্তিগত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, এখানে যারা কাজ করছেন তাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা। পরিশ্রমের জায়গাটাকে আরও অনেক বেশি বৃদ্ধি করা। একইসঙ্গে খরচ কামিয়ে আনা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যে পণ্য আসছে, এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পারছি না। একটা শঙ্কা কাজ করছে, এই খাতটাই না ধ্বংস হয়ে যায়। এ নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত। যদিও আমরা আশায় আছি, আগামী বাজেটে এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে। যাতে এ খাতটা টিকতে পারে। এখানে অনেক লোক কাজ করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিমাসে ২০ কোটি পেপার কাপ ব্যবহার হয়। যা আগে কখনও ছিল না। এমনকি এক বছর আগেও ছিল না। এ চাহিদা ইতিবাচক। তবে দুঃখজনক যে, বিদেশ থেকে কাপ আসে ১৫ কোটি। এটা ভালও কিছু না। যদিও আমাদের কাপের মান ইউরোপের মতো। আমরা রফাতনি করেছি একসময়। এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে বিদেশি ক্রেতারা আসেন। কিন্তু দামের ক্ষেত্রে আমরা হার মেনে যাচ্ছি। কাঁচামালের শুল্ক বেশি। অপরদিকে তৈরি পণ্যের অ্যাসেসমেন্ট ভেল্যু কম। এটাই আমাদের বড় সমস্যা।”

২০২১ সালের পরিকল্পনা করতে হিমশিম খাচ্ছি। করোনা প্যাকেজ যেগুলো আসছে, সেগুলো সময় সাপেক্ষে আসছে না। গত এপ্রিল মাসের দিকে করোনা প্রণোদনা ঘোষণা হল। দ্রুত বিতরণের কথা ছিল। ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। ডিসেম্বরে (মনে হয়) ১০ হাজার কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। অর্থাৎ ৫০ শতাংশ। করোনা প্রাদুর্ভাবের ইতোমধ্যে ৮-৯ মাস হয়ে গেছে। অথচ ৫০ শতাংশ বিতরণ হয়েছে। যারা এসএমইতে কাজ করছেন তাদের প্রণোদনা ব্যাংক-টু-ব্যাংক সম্পর্কের ভিত্তিতে হওয়ার কথা। তাই যারা ব্যাংকের বাহিরে আছেন তারা টাকা পাননি। আর যারা ব্যাংকের মধ্যে আছেন সেখানে ৫০ শতাংশ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এটা বিরাট ক্ষতি। অনেক এসএমই উদ্যোক্তাকে চিনি-জানি-দেখছি-বুঝতেছি যে, তারা ঝরে গেছে আর ফিরে আসতে পারবেন না। এতে অর্থনীতির যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, এ ক্ষতি নিরুপণ হবে আরও ছয়-সাত মাস পরে। সামনের সময়টা বিশেষ করে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে খুব একটা ভালো না। হয়তো নতুন নতুন কোনও আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বা মফস্বলে অর্থনীতি টিকে থাকবে। তবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল খাত ধ্বংস হয়ে গেলে, দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি : করোনার প্রথম ঢেউ কীভাবে কাটিয়ে উঠলেন?

কাজী সাজিদুর রহমান : মার্চ মাসের ২৬ তারিখ অনির্দিষ্টকালের জন্য সরকার যখন ছুটি ঘোষণা করলো, লকডাউন চালু হলো, আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লাম। তখনও করোনা প্রণোদনা প্যাকেজ আসেনি। এতগুলো লোকজন, অফিস, সবকিছু চালাতে পুঁজি থেকে ভাঙা শুরু হলো। ওই সময় আমি ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করলাম, এভাবে বসে থাকা যাবে না। আমাকে ভিন্ন কিছু চিন্তা করা দরকার। আমার বন্ধুরা ছিল, ওদের সঙ্গে আলোচনা করলাম। একটা মাস্কের মেশিন স্থাপন করলাম। দু-তিন মাস আমাদের ভালো ব্যবসা হলো। এখানে একটা ব্যবসায়িক মনোভাব ছিল। ওই সময় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছিল যে, মাস্ক পাবো কিনা, পিপিই পাবো কিনা। এখানে আমাদের একটা ব্যাপক সফলতা ছিল। আমরা এটার চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করতে পারলাম। কেপিসি ফেস মাস্ক অনেক নাম করলো। সব বড় বড় প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন জায়গায় আমাদের মাস্ক চলে গেল। এমনকি আমরা কানাডায়ও রফতানি করলাম। সেখান থেকে আমাদের আয় হলো। সেসময় পুঁজি ভেঙে খাওয়ার বিষয়টা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলাম। বাংলাদেশে এখন মাস্ক পরার প্রবণতা কমে গেছে। খুব সচেতন মানুষ ছাড়া মাস্ক পরে না। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় সার্বিকভাবে এর ব্যবহারটা আর আগের মতো নাই। আর বিদেশে মাস্কের যে সংকট ছিল তা এখন আর নেই। যার কারণে ওই ব্যবসা আর আগের মতো চলছে না। পিপিই’র ব্যবহারটা তো একদমই নাই। এ ব্যবসা ওই সময়ের জন্য ছিল। ব্যাকআপ পরিকল্পনা হিসেবে রেখেছিলাম। এটা এখন বন্ধ রাখছি।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি : পেপার কাপ খাতে বর্তমান প্রতিবন্ধকতা কি কি?
 
কাজী সাজিদুর রহমান : সরকারকে অনুধাবন করতে হবে এসএমই আসলে কি? অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব কতটুকু। সরকার যদি এটা অনুধাবন করতে পারে, তখনই আমরা এর সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো। এসএমই’তে অসংখ্য ভাগ রয়েছে। এক একটা খাতে এক একটা সমস্যা রয়েছে। কিছু বিষয় টাকা দিয়ে সমাধান হয়; আবার কিছু বিষয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমাধান হয়। শতকোটি টাকা দিলেন, কিন্তু পদ্ধতি বা পলিসিগত সিদ্ধান্তের জায়গায় সমাধান করা গেল না। তাহলে ওই খাত উঠে আসবে না। টাকা দিয়ে ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দিলে এটা সমাধান হবে না। তাহলে প্রণোদনার টাকা আদায় হবে না। কেননা আসল সমস্যা সমাধান না করে প্রণোদনার টাকা দেয়া হলে ওই খাত টাকা নেবে ঠিকই, কিন্তু ক্ষতি থেকে বের হয়ে আসতে পারবে না। এতে প্রতিষ্ঠানটি ক্লাসিফাইড হবে। এই বিপুল অঙ্কের টাকা সাড়ে চার শতাংশ সুদে দেয়া হলো, কিন্তু এই টাকা যদি আদায় না হয়; পরবর্তীতে এক বছর পরে যেটার মেয়াদ, তখন সবাই ক্লাসিফাইড হয়ে যাবে। তখন দেখা যাবে অসংখ্য ব্যাংকও মার্কেটে টিকে থাকতে পারছে না। এমন হলে মোটের ওপর লাভ হলো না। নীতিগত সিদ্ধান্তটা সঠিক নিতে হবে এবং প্রণোদনার টাকা দ্রুত বিতরণ করতে হবে। প্রণোদনার টাকা এক দফা না; দুই বা তিন দফা দিতে হবে। এতে করে প্রথমে পদক্ষেপে কোনও ভুল হলেও তা পরে ঠিক করে নেয়া যাবে। এর জন্য সঠিক মানুষের সঙ্গে বসা দরকার। নাহলে এ সমস্যা উত্তরণ কঠিন।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি : স্বাস্থ্যসম্মত পেপার কাপ থাকা সত্ত্বেও প্লাস্টিক কাপ-প্লেট এতো জনপ্রিয় কেন?
 
কাজী সাজিদুর রহমান : ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যে নিষেধাজ্ঞার ওপর হাইকোর্ট একটা রায় দিয়েছিলেন। ২০২০ সালের পর এ ধরনের পণ্য ব্যবহার, উৎপাদন ও সরবরাহ নিষিদ্ধ। এখন ২০২১ সালের জানুয়ারি। সুতরাং হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, এটা এখন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। তবে এর কোনও কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, প্লাস্টিকের কাপের দাম কম। প্লাস্টিক কাপ ব্যবহার করে থাকেন চায়েরা দোকানদাররা। তারা একদম মাইক্রো লেভেলের উদ্যোক্তা। সে যদি ১০-২০ পয়সার একটা ব্যবধান পায় তখন সেদিকেই চলে যায়। তাকে আপনি যতই সচেতন করেন না কেন কোনও লাভ হবে না। দিন শেষে ২০ পয়সা লাভ তার কাছে অনেক। এদিকে একটা পরিবেশবান্ধব পণ্যকে আপনি সহযোগিতা করছেন না। বরং কর ফাঁকি দিয়ে প্লাস্টিক দানা আসছে, তা থেকে দেদারছে প্লাস্টিক কাপ ও প্লেট তৈরি হচ্ছে। কীভাবে এর বিকল্প করবেন। পলিথিন নিষিদ্ধ করে কি পলিথিনের বিকল্প করা গেছে, যায়নি।  প্লাস্টিকের কাপ, প্লেট নিষিদ্ধ করেও পারা যাবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সঠিক মার্কেট ঠিক করবেন। পণ্যের সমপর্যায়ের দাম নির্ধারণ করে দিতে হবে। সুবিধা ছিল যে, প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম কাপ, প্লেটের বিকল্প পণ্য বাংলাদেশে তৈরি হয়। যা পলিথিনের ক্ষেত্রে নেই। আমাদের বিকল্প থাকার পরও শুধুমাত্র একটি মাত্র কারণে এই বিপ্লবটা আলোর মুখ দেখতে পারছে না।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি : আসন্ন বাজেট কেমন দেখতে চান?

কাজী সাজিদুর রহমান : আমি পেপার কাপ ম্যানুফ্যাংচারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে একটা আবেদন করেছি। মূল কথা হলো, শুধুমাত্র প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে না থেকে ভ্যাট ও ট্যাক্সের বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে হবে। একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দেয়া দরকার। তা এক বছর বা দুই বছর হতে পারে। ভ্যাটের আওতাভুক্ত যে পণ্য আছে সেখানে মনে হয় ছাড় দেয়ার সময় আসছে। ট্যাক্স মওকুফের সময় আসছে। যদি এটা না করা হয় তাহলে কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো আর উঠে আসতে পারবে না। আর যদি প্রতিষ্ঠান উঠে না আসে তাহলে আজ যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেয়া হচ্ছে, তখন কিন্তু ১৫ শতাংশ রাজস্ব থেকে বিয়োগ হবে। আর যদি প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখা যায়, কমিয়ে দিয়ে ৫ শতাংশও যদি পাওয়া যায়, তাহলেও তা কিন্তু আমার দেশের পক্ষে কাজে লাগবে। সরকারের কাছে আমার চাওয়া থাকবে, বাজেট শুধু বাজেট করার জন্য যেন না হয়। এসএমইকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের পক্ষে কীভাবে বাজেট নেয়া যায়, সার্বিকভাবে সেটার চিন্তা করা দরকার। হয়তো অসংখ্য এসআরও জারি করতে হবে। তার জন্য কাজ করতে হবে দিনরাত। গত বাজেটের একটা নেতিবাচক দিক হলো, করোনাকে ইস্যু করে ট্রেড বডির সঙ্গে এনবিআর কোনও মিটিং করেনি। যার জন্য গতানুগতিক বাজেট চলে আসছে। শুধু টাকার অঙ্ক বাড়ছে। এখন আর এমন করার সুযোগ নেই। অবশ্যই ট্রেড বডির সঙ্গে মিটিং করতে হবে এবং যতগুলো প্রস্তাবনা আসে আমি বাতিল করে দেবো, এই মনোভাব নিয়ে বসা যাবে না। ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে এবং যেগুলো আসলেই বাস্তবসম্মত সেগুলোকে বাজেটে আনতে হবে।

অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে একটা দেশের মূল অবকাঠামো চলে। রাজা-বাদশাদের আমলে যুদ্ধের ওপর নির্ভর করতো কোন দেশের অর্থনীতি কেমন হবে। এখন আর সেসময় নেই। এখন একটা দেশ উন্নত হয় তার অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে। দেশের সংবাদমাধ্যমের মধ্যে ব্রেকিংনিউজের একটা ভালো অবস্থান রয়েছে। নতুনভাবে অর্থনীতির সংবাদকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার জন্য তারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। ব্রেকিংনিউজকে বলবো, অর্থনীতি নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করার দরকার আছে। বিশ্বজুড়ে যে যুদ্ধ দেখছেন তার মূলে অর্থনৈতিক যুদ্ধ। রাজনৈতিক যুদ্ধ এখন অনেক নড়বড়ে অবস্থায় চলে গেছে। যে দেশ অর্থনীতিতে ভালো করবে সে দেশই এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাংলাদেশ সফরে আসছেন। অর্থাৎ আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আলোর রেখা দেখাতে পারছি। এটা বুঝতে পারার জন্য ব্রেকিংনিউজকে ধন্যবাদ। আপনারা বেশি বেশি অর্থনীতির গভীরে যান এবং সেখান থেকে সঠিক বিষয়গুলো তুলে নিয়ে আসতে পারলে দেশ বাঁচবে, অর্থনীতি বাঁচবে। 

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি : আপনাকে ধন্যবাদ।

কাজী সাজিদুর রহমান : আপনাকে এবং ব্রেকিংনিউজ পরিবারকেও ধন্যবাদ।


ব্রেকিংনিউজ/বিবি/এমআর

bnbd-ads