ব্যক্তিস্বার্থ না থাকলে দলে ত্যাগীদের জায়গা দেয়া সম্ভব

রাহাত হুসাইন
২১ অক্টোবর ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ১২:২৭ আপডেট: ০৩:৫৬

ব্যক্তিস্বার্থ না থাকলে দলে ত্যাগীদের জায়গা দেয়া সম্ভব

দেলোয়ার হোসেন। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। দ্বিতীয় মেয়াদে এ দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে প্রথম বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৮৭ সালে ছাত্রলীগের হাত ধরে রাজনৈতিক জীবন শুরু তার।

সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি-এর মুখোমুখি হন এই রাজনীতীবিদ। তার সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে দেশের পরিবেশ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমসাময়িক বিষয়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

ব্রেকিংনিউজ: দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করার বিষয়টি বারবার সামনে আসছে; তাদের মূল্যায়নে আসলে বাধা কোথায়?  

দেলোয়ার হোসেন : দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের দলে জায়গা দিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। আপনি যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ না দেখে কাউকে রেফার করেন, তাহলে নেত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা খুবই সহজ। আর আপনি যদি ত্যাগী, পরিশ্রমী নেতা-নেত্রী, কর্মীদের মূল্যায়ন করতে চান, সেক্ষেত্রে অন্যদের সহযোগিতাও পাবেন। এটি হচ্ছে আমাদের দলের ধারাবাহিক কার্যক্রম। ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা মানে হচ্ছে দলের পথচলায় তাদেরকে সম্পৃক্ত করা। ত্যাগীদের জন্য আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করে মূল্যায়ন করার জন্য। সেজন্যই বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দল অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ : তৃণমূলে কমিটি দিতে গিয়ে কোনও ধরনের সমস্যা হয় কি-না?  

দেলোয়ার হোসেন : দেশের রাজনৈতক অঙ্গনে বিশাল একটা জনসমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগের পথচলা। এখানে প্রবীণদের পাশাপাশি নতুন মুখ সুযোগ নিতে চায়। এ ক্ষেত্রে সংগঠনের কাঠামো ফলো করতে গিয়ে কিছুটা বেগ পেতে হয়। ধরেন অনেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়, তারপরও নিজের স্বার্থে আওয়ামী লীগের ব্যানার ব্যবহার করতে চায়। এ জন্য দলীয়ভাবে নেতা-কর্মীর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। সে দ্বন্দ্ব শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য নেত্রীর নির্দেশনা থাকে। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব হচ্ছে, নেত্রীর নির্দেশনা সারাদেশে প্রতিপালন করা। সেটি আওয়ামী লীগ বরাবর করে যাচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ : দুর্যোগ মহামারি করোনাকালে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে পরিচালিত হয়েছে?  

দেলোয়ার হোসেন : করোনার কারণে শুধু আমাদের না; সারা পৃথিবীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকাংশেই স্থবির হয়ে গেছে। এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার আলোকে নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বিভিন্নভাবে জনগণকে চাঙা রাখতে তাদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনাসহ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাতেও আওয়ামী লীগ ভূমিকা রেখেছে। সেটা খাবার নিয়ে হোক, ওষুধ নিয়ে হোক আথবা এমনই সাহস সঞ্চার করার জন্য হোক। সে কাজটি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা করে যাচ্ছেন।

ব্রেকিংনিউজ : দলের কার্যক্রম গতিশীল করতে নতুনভাবে গঠিত ৮টি সাংগঠনিক টিম প্রসঙ্গে আপনার অভিমত কি?

দেলোয়ার হোসেন : আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ৮১ জনের কয়েকজন মারা গেছেন। বর্তমানে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ৭৭ জন কাজ করে যাচ্ছি। বিভাগীয়ভাবে এটি একটি ছোট পরিসরে ভাগ করে দিয়েছেন। যাতে দলীয় কাজে সমন্বয়হীনতার অভাব না হয়। যাতে নির্দিষ্ট বিভাগে সংগঠন গতিশীল করতে পারি, সেই সুযোগও জননেত্রী শেখ হাসিনা করে দিয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই এই ৮টি টিমের কার্যক্রম শুরু হবে। সংগঠনের নির্ধারিত কনস্টিটিউশন রয়েছে, সে কনস্টিটিউশন ধরেই আমাদের সংগঠন চলে। কেউ যদি অপরাধ করে তার জন্য যেমন শাস্তি রয়েছে, পাশাপাশি  মূল্যায়নও আওয়ামী লীগ করে থাকে।

ব্রেকিংনিউজ : তৃণমূলের নেতাকর্মী শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সে জন্য দলীয় ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয় কেন?

দেলোয়ার হোসেন : সংগঠনের কেউ শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে সংগঠনের নিয়মানুসারে কোনো তূণমূলের নেতাকর্মী শৃঙ্খলাপন্থী কাজ করে তাকে শাস্তি দেয়ার অধিকার কেন্দ্রীয় কমিটির। এতে কেউ মনে করতে পারেন এটা সময় ক্ষেপণের সুযোগ। কিন্তু এটা না করা হলে, কারও উপর অবিচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ব্রেকিংনিউজ : আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে ব্রেকিংনিউজের সঙ্গে কথা বলার জন্য ব্রেকিংনিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

দেলোয়ার হোসেন : ব্রেকিংনিউজ পরিবারকেও ধন্যবাদ।



ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমআর

bnbd-ads