জনগণের জন্য কাজ করলে জনগণও পক্ষে রায় দেবে

রাহাত হুসাইন
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ১১:০২ আপডেট: ০১:৩৯

জনগণের জন্য কাজ করলে জনগণও পক্ষে রায় দেবে
ছবি: সালেকুজ্জামান রাজীব

হাসিবুর রহমান মানিক। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। ২০১৫ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২৬ নং ওয়ার্ডে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর ২০২০ সালে দলীয় মনোনয়ন নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি’র সঙ্গে একান্ত আলাপকালে সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে তার কথায়। সংক্ষিপ্ত কলেবরে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন

ব্রেকিংনিউজ : মুজিববর্ষে ২৬ নং ওয়ার্ডে বিশেষ কোনও আয়োজন ছিলো কি-না? 

হাসিবুর রহমান মানিক : ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস এবং এ বছরই মুজিববর্ষ। আমাদের ওয়ার্ডের আব্দুল আলীম খেলার মাঠে আতশবাজির মাধ্যমে মুজিববর্ষের আয়োজন করেছি। তবে করোনার কারণে আমরা সেভাবে করতে পারি নাই। আমি ২০১৫ সাল থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ‘মুজিব উৎসব’ প্রোগ্রাম করে থাকি, ৭ দিনব্যাপী। সেখানে বাচ্চারা খেলাধুলা করে। নাগরদোলা থাকে, রেলগাড়ি থাকে। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে বাচ্চারা কোথায় যাচ্ছে, বলে ‘মুজিব উৎসবে’ যাচ্ছে। 

প্রতি বছরই আমি প্রায় ১ হাজার মুজিব কোর্ট বিনামূল্যে বিতরণ করি। করোনার কারণে এ বছর আমরা সে প্রোগ্রামটি করতে পারিনি। প্রতি বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় ‘মুজিব উৎসব’ পালন করা হোক। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেন দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুজিব কোর্ট বিতরণ করেন। 

ব্রেকিংনিউজ : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন সবকিছু বন্ধ ছিলো তখন এলাকাবাসীর জন্য কি কি কাজ করেছেন?

হাসিবুর রহমান মানিক : বাংলাদেশে যখন করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলো তখনই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় ঢাকাসহ দেশের সব জায়গা লকডাউন করা হয়। যাতে ঘরে থেকে মানুষ করোনার থেকে রক্ষা পায়। সেজন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। তখন থেকেই আমি ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে জনগণকে বলেছি, আপনারা ঘরে থাকুন, আপনাদের সেবা পৌঁছে দেবো বাসায়-বাসায়। করোনায় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। করোনা সচেতনতা বাড়াতে আমরা মাস্কও বিতরণ করেছি। ২৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় রিকশা-ভ্যানচালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেছি। মানুষের পাশে থেকে কাজ করে গেছি।

আমি এলাকাবাসীকে বলেছি, যেকোনও সমস্যা, চাল-ডাল থেকে শুরু করে আমি আপনাদের পাশে থাকব। আপনারা জানেন, আমি দুটি হট লাইন নম্বর দিয়েছি মার্চের শুরু থেকেই। আমার সাথে যোগাযোগ করলেই খাবারসহ যেকোনও সেবা পৌঁছ দিয়েছি। মানুষ এসএমএস দিয়েছে। এসএমএস দেখে মানুষের বাসায়-বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছি, রাতে ২টায়, ৩টায় এমনও সময় গেছে ভোর ৫টার সময়ও খাবার পৌঁছে দিয়েছি। করোনার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার পরিবারকে খাবার পৌঁছে দিয়েছি। ঈদের সময়ও আমরা সেমাই-চিনি, নারকেলসহ ঈদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনা যে চাল দিয়েছেন তার সঙ্গে আমার নিজস্ব কিছু সহযোগিতায় সে ব্যবস্থা করেছি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নেতৃত্বেও আমরা খাবার বিতরণ করেছি। আমাদের ওয়ার্ড মোটামুটি বড়, যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছি করোনার মধ্যে মানুষ যাতে লাইনে না ধরে বাসায় খাবার পৌঁছে দেয়া। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। এখনও পর্যন্ত আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ওয়ার্ডে এক মিনিটের সবজি বাজারের আয়োজনও করেছি। মাননীয় মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মৌখিকভাবে এ বাজারের উদ্বোধন করেন। প্রতি বুধবার এই বাজারের আয়োজন করা হয়। এক মিনিটের সবজি বাজারে ৫ টি আইটেম থাকে। মানুষ এগুলো কিনে নিয়ে যায়। গত ২ সপ্তাহ বন্ধ ছিলো। আগামী সপ্তাহ থেকে পুনরায় চালু করা হবে।

ব্রেকিংনিউজ : ২০১৫ সালে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর কি কি কাজ করেছেন?

হাসিবুর রহমান মানিক : আমি ২০১৫ সালে প্রথমবার স্বতন্ত্রভাবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর মানুষের আস্থা অর্জনে শতভাগ কাজ করেছি। এলাকাবাসী চিন্তাও করেনি এত কাজ করবো। আপনারা জানেন, আমার এলাকায় আব্দুল আলীম খেলার মাঠে এক সময় বখাটেরা মাদকসেবন করতো। গাড়ির স্ট্যান্ড ছিলো, ধোপার কাপড় শুকাতে দিত। এখন সেটাকে একটা আন্তর্জাতিক মানের মাঠে পরিণত করেছি। সেখানে ছোটো একটা জিম আছে। মানুষ মাঠের চারপাশে হাঁটতে পারে। তেমনি করে রসূলবাগেও একটি শিশু পার্ক আধুনিক করেছি, যেখানে মাদকের আস্তানাই ছিলো, অন্ধকার ছিলো। এখম আলোকিত সব জায়গায়।

আজিমপুর কবরস্থানে মেয়ের মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদ করেছি, ২০১৫ সালে আসার পর। রাস্তা বড় করেছি। আমার ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিতে-গলিতে উন্নয়ন করেছি। এলাকাকে ফ্রি ওয়াইফাই জোনের আওতায় নিয়ে এসেছি। সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছি। লালবাগের বিভিন্ন স্থানে পানির পাম্প করেছি। শুধু আমার ওয়ার্ড নয়, ৩১ নং ওয়ার্ডে আগানবাব দেউরির ৩০ বছরের পানির সমস্যা সমাধান করে দিয়েছি। যার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার কর্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পরও অনেকে আমার বিরোধিতা করেছে। বিদ্রোহী প্রার্থীও আমার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে সাড়ে ১৬'শ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের জন্য কাজ করলে, জনগণ তার পক্ষে রায় দেবেই।’

ব্রেকিংনিউজ : জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনও কাজ করেছেন কি-না?

হাসিবুর রহমান মানিক : আগের থেকে জলাবদ্ধতা এখন অনেকটাই কম। ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন হয়েছে। আগের থেকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে জলাবদ্ধতা দীর্ঘ সময় থাকতো, এখন অল্প সময় থাকে। আগে ৬-৭ ঘণ্টা পানি থাকতো, এখন ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশন হয়। বাকি সমস্যাগুলো নিরসনে আমাদের মেয়র মহোদয় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঘোষণা দিয়েছেন। আশা করি জলাবদ্ধতা থাকবে না। ঢাকাকে মশামুক্ত করতেও কাজ চলছে৷ আগের তুলনায় মশার ওষুধ বেশি দেয়া হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তেও কাজ চলছে। এখন প্রতিদিন দুবার করে শহর পরিষ্কার করা হচ্ছে। জনগণও সচেতন হচ্ছে। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বেরিয়ে আসছে মানুষ।

ব্রেকিংনিউজ : সময় দিয়ে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ।

হাসিবুর রহমান মানিক  : আপনাকে ও ব্রেকিংনিউজ পরিবারকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমআর

bnbd-ads