আগামীদিনেও শেখ হাসিনার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে ১৪ দল

আমির হোসেন আমু
১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ১১:০৩ আপডেট: ০২:৫৮

আগামীদিনেও শেখ হাসিনার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে ১৪ দল

আমির হোসেন আমু। একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৪০ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন আমির হোসেন আমু। ১৯৬৪ সালে তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি বরিশাল বিএম কলেজের ভিপি ছিলেন। এরপর ১৯৬৫ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

১৯৭০ সালের প্রাদশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল সদর আসন থেকে জয়লাভ করেন। ১৯৭২ সালে আমু যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে মনোনীত হন এবং ১৯৭৮-১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা। ২০০৬-০৮ সাল পর্যন্ত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনা যখন বন্দি ছিলেন তখন যে কয়জন নেতা দলের নেতৃত্বে ছিলেন আমু তাদের মধ্যে অন্যতম। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।  

গত ৮ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের নতুন সমন্বয়ক ও মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচিত হন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৪ দলের শরিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার করে অভিজ্ঞ রাজনীতিক আমির হোসেন আমুকে ১৪ দলীয় জোটের নতুন সমন্বয়ক ও মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচিত করেন।

সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডির সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে ১৪ দল নিয়ে নিজের কর্মপরিকল্পনা ও প্রয়াত নেতা নাসিমের শূন্যতা পূরণে ভূমিকার নানা দিক এবং নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন আমির হোসেন আমু। তার সঙ্গে ফোনালাপে যুক্ত ছিলেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন।

ব্রেকিংনিউজ : ১৪ দলের সমন্বয়ক হওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাই? 

আমির হোসেন আমু : ১৪ দলের সমন্বয়ক নির্বাচিত করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সভাপতি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। ১৪ দলের সৃষ্টির শুরুতেই আমি সম্পৃক্ত ছিলাম।  কঠিন দিনগুলোতে, অগ্নিঝরা দিনগুলোতে ১৪ দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, খালেদা বিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম। আবার নতুন করে ১৪ দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।  

ব্রেকিংনিউজ : ১৪ দলে মোহাম্মদ নাসিমের শূন্যতা পূরণ হবে কিনা? 

আমির হোসেন আমু : এতদিন পর্যন্ত ১৪ দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সদ্য প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম সাহেব। তার বিদেহী  আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই, আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুন। তিনি অসুস্থ শরীর নিয়েও ১৪ দল নিয়ে কাজ করেছেন। ১৪ দলকে সচল রেখেছিলেন। ১৪ দলের সমস্ত কর্মসূচি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। তাকে হারিয়ে ১৪ দলের অনেক ক্ষতি হয়েছে।  আমি চেষ্টা করবো সে ক্ষতি পূরণ করে দিতে।

ব্রেকিংনিউজ : করোনাকালে ১৪ দল নিয়ে কোন ধরনের পরিকল্পনা করছেন? 

আমির হোসেন আমু : করোনা মোকাবিলা করার জন্য শেখ হাসিনার কর্মসূচি ও নির্দেশনা যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে জনগণকে সজাগ করা, সচেতন করা। জনগণকে বোঝানো, আজকে লকডাউন পুরোপুরি সাকসেসফুল করতে পারলে সংক্রমণ এত বৃদ্ধি পেতো না। বিভিন্ন রকমের সচেতনতাই হচ্ছে আজকে মূলত কাজ। 

ব্রেকিংনিউজ : ১৪ দলের নেতাকর্মীদের জন্য এই মুহূর্তে আপনার পরামর্শ কি? 

আমির হোসেন আমু : আমি ১৪ দলের নেতাকর্মী যে যেখানে আছেন তাদের অনুরোধ করবো, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সবাই যাতে মানুষকে সঠিকভাবে সচেতন করেন। পরবর্তীতে ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করবো, আলোচনার ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাবলি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। অতীতে যেভাবে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী, কর্মসূচি ও আন্দোলন সংগ্রামের ডাক বাস্তবায়নে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও এর ব্যতিক্রম হবে না। 

১৪ দল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সৃষ্টি হয়েছিলো। তিনিই ১৪ দলের মূল নেতা। তিনি হচ্ছেন ১৪ দলের চেয়ারপারসন। তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো আমরা বিভিন্ন সময় বাস্তবায়ন করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিও আমরা ১৪ দলকে নিয়ে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছি। আগামী দিনগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত রাখবো।

বি. দ্র. বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালের ১৫ জুলাই তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ২৩ দফার ভিত্তিতে বাম প্রগতিশীল জোট ১১ দল, আওয়ামী লীগ, জাসদ ও ন্যাপ মিলে ১৪ দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর আগেও রাজপথে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় ছিল জোটভুক্ত এসব দল। শুরুতে এই জোটের সমন্বয়ক ছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় এলে ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পান আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। পরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে মুখপাত্রের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ নাসিম। তার মুত্যুর পর সম্প্রতি আমির হোসেন আমু এ দায়িত্ব পেয়েছেন।

ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমআর

bnbd-ads