নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামের চোখে ঢাকা সিটি নির্বাচন

সাইফুল ইসলাম
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৪:৪৬ আপডেট: ০৫:৩৬

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামের চোখে ঢাকা সিটি নির্বাচন

পহেলা ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনের গড় ভোট হচ্ছে মাত্র ২৯ শতাংশ। এনিয়ে ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি’র সাথে কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনলাইন পত্রিকাটির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সাইফুল ইসলাম।

ব্রেকিংনিউজ: ঢাকা সিটি নির্বাচন কেমন দেখলেন? বিশেষ করে ভোটের শতাংশটা কিভাবে দেখছেন? 

রফিকুল ইসলাম:  ‘আমার চোখে এটার ভাল দিকটাই দেখব। আপনি যদি আমার কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন অন্য কোনো কিছু, তাহলে তা ঠিক হবে না। আমাদের দায়িত্ব হল এই নির্বাচন আইন অনুযায়ী হয়েছে কি না? এই ক্ষেত্রে বলব, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচনটা হয়েছে।’

‘এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। সেটা আপনারাও দেখেছেন আমরাও দেখেছি। যেহেতু ইভিএম ব্যবহার হয়েছে সেক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কিছু সমস্যা হতে পারে। ম্যানেজমেন্টের একটু সমস্যা হতে পারে। কিন্তু এমন কোনো বিচ্যুতি ঘটে নাই যাতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।’

ব্রেকিংনিউজ: ইভিএমে কোনো সমস্যা আছে কি?

রফিকুল ইসলাম: ইভিএম নিয়ে সমস্যায় পড়ার কোনো কারণ আমি দেখি না। ইভিএম নিয়ে যদি সমস্যা হত তাহলে তো ৭০ শতাংশ ভোট পড়ত না। আবার দেখা যায় অনেক অংশে ৯-১০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ব্রেকিংনিউজ: ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল। নির্বাচন কমিশন এটা নিয়ে কি ভাবছে? 

রফিকুল ইসলাম: নির্বাচনে গড়ে ভোট পড়েছে ২৯ শতাংশ। আসলে কিন্তু অনেকগুলো কেন্দ্র আছে যেখানে ৬০-৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। যদি বিশ্লেষণ করে বলি তাহলে যেমন ধরেন পুলিশ লাইনের কেন্দ্রগুলোতে ভোট পড়েছে ৫-৬ শতাংশ। আমার কাছে মনে হয়েছে তারা পুলিশের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তারা নির্বাচনে দায়িত্ব ছিল। টেনেসফার, পোস্টিং তারপরে নির্বাচনের সাথে যারা জড়িত ছিলেন। এরকম ইউনিভার্সিটির এলাকার কেন্দ্র গুলোতেও কম ভোট পরেছে। তবে আপনারা দেখবেন, যে সমস্ত এলাকাগুলোতে বাহিরে যাওয়ার প্রবণতা তেমন একটা নাই সেই এলাকাগুলোতে একটু বেশি ভোট পড়েছে। মোর দেন ৫০ শতাংশ। 

ব্রেকিংনিউজ: ভোটারদের উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ কি?  

রফিকুল ইসলাম: আমাদের অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। বিস্তারিত বললে বলা যায়, স্কুলগুলোতে লিফট না থাকার কারণে যাদের ভোট কেন্দ্র ২, ৩ ও ৪ তালায় তারা ভোট দেন না। কারণ চারতলায় উঠে ভোট দেওয়া সম্ভব নয় অনেকের। ঢাকাতে ৬০ শতাংশ মানুষ ভাড়া বাড়িতে থাকেন। এরা চাকুরীর সুবাদে ছুটি পেলে এরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়। সে ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের আর ভোট দেওয়া সম্ভব হয় না। 

“ভোটের দিন লোকাল পরিবহনসহ সকাল ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার একটা ভোগান্তি থাকে। তারপরে টাকার একটা ব্যাপার থাকে। কেউ চায় না নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় যেতে। এতে দেখা যায় সময় নষ্ট, টাকা খরচ আর কষ্টতো আছেই। তখন তারা চিন্তা করে (সাধারণ মানুষ) আমি ভোট না দিলে কি হবে! আমার ভোট এতটা গুরুত্ব নয়।” 

“আপনারা দেখবেন, যে জায়গাতে এই সমস্যাগুলো কম থাকবে সেখানে কিন্তু ভোটের পরিমাণ একটু বেশি। যারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেছেন তারা নিজেরা যদি ভোটের এলাকা পরিবর্তন না করে নেন সেটা নির্বাচন কমিশন কী করবে বলেন।” 

ব্রেকিংনিউজ: কেন্দ্রে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার কারণ কি? এই বিষয়ে ইসি কি ভাবছেন? 

রফিকুল ইসলাম: ভোটে বাধা দেওয়ার পক্ষ থেকে বিএনপি ও হাতপাখা আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু এটা দেখা যায় একপক্ষ আরেক পক্ষের অভিযোগ মাত্র। তবে আমর কথা হল, ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ কি ম্যাজিস্ট্রেট বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে। আমাদের কাছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কোনো অভিযোগ নাই। এজন্য আমরা কী করতে পারি। 

ব্রেকিংনিউজ: সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে। এই বিষয়ে ইসি কি ভাবছেন? 

রফিকুল ইসলাম: এটা ক্রিমিনোলজি অফেন্স। আপনাকে মামলা করতে হবে। তারপর আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে। 

ব্রেকিংনিউজ: আপনি কখন ভোট দিয়েছেন সেখানে কী কোনো বিএনপির এজেন্ট ছিল? 

রফিকুল ইসলাম: আমি সকাল ৯ টায় ভোট দিয়েছি। সেখানে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে আমি আওয়ামী লীগের এজেন্ট ছাড়া অন্য কোনো এজেন্টদের দেখিনি।  

ব্রেকিংনিউজ / এসআই/ এমজি 

bnbd-ads