‘সবচেয়ে খারাপ দিন’ দেখলো মিয়ানমার, একদিনেই গুলিতে নিহত ৩৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ আপডেট: ১২:২১

‘সবচেয়ে খারাপ দিন’ দেখলো মিয়ানমার, একদিনেই গুলিতে নিহত ৩৮

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। দেশটির বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একদিনেই অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন শত শত বিক্ষোভকারী। 

গতকাল বুধবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি চালালে ব্যাপক এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। 

চলমান সংকট নিরসনের জন্য মিয়ানমারকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর চাপ প্রয়োগের একদিন পরই দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এতো লোকের প্রাণ গেল। খবর বিবিসির।

মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত ক্রিস্টিন স্রেনার বার্গেনার জানিয়েছেন, সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী চলমান বিক্ষোভ শুরুর পর সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন ছিল বুধবার। একদিনেই শিশুসহ ৩৮ জন নিহত হয়েছে। এতে করে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়ালো।

এদিকে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে মৃত্যুর খবর বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪ জন শিশু রয়েছে। অন্যতম শহর ইয়াঙ্গুনে বুধবার পুলিশের গুলিতে ৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৯ জন। এর আগেও শহরটিতে পুলিশের গুলিতে ৭ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিলেন।

দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছে বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানান। স্থানীয় মেইয়াখ্যা শহরেও গুলিতে ৪ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। 

অপর একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মোনিয়াতে পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত হয়েছে। মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের আরেক শহর মায়েনগিয়ানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আরেক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে ছাত্রনেতা মোয়ে মিন্ট হেইন জানিয়েছেন।

তিনি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের লক্ষ্য করে তাজা গুলি ছুড়েছে। এক ডজন নিহত হয়েছে। আমি নিজেও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছি।’

দ্য মিয়ানমার নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

গেল মঙ্গলবার (২ মার্চ) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেত্রী অং সান সু চিকে মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে জান্তা সরকারকে আহ্বান জানালেও তা ব্যর্থ হয়। এর একদিন পরই গোটা দেশে পুলিশের গুলিতে ঝরে ৩৮ প্রাণ। 

গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশটির সামরিক বাহিনী। আটক করা হয় গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’সহ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও শাসক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে। দেশটিতে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। 

এরপর সারা দেশে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। যা এখনও চলমান আছে এবং ক্রমে তীব্র হচ্ছে। 

এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় বইছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডার মতো দেশগুলো মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। 

গেল নভেম্বরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলে নেয় সেনাবাহিনী। সুষ্ঠু ভোটের মধ্য দিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা যথারীতি হস্তান্তর করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেনাপ্রধান মিং অং হ্লাইং। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads