স্যানিটাইজার যেভাবে শিশুর জন্য মারাত্মক হয়ে উঠছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার
প্রকাশিত: ০৩:৩৪ আপডেট: ০৩:৩৫

স্যানিটাইজার যেভাবে শিশুর জন্য মারাত্মক হয়ে উঠছে

করোনা বিস্তার রোধে বারবার হাত ধোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মূলত সাবান-পানিতে হাত ধোয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন। তবে অনেক জায়গাতেই সাবান পানির ব্যবস্থা নেই। সেখানে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার। এই জীবাণুনাশকে ৭০ শতাংশের ওপর ইথানল বা অ্যালকোহল থাকে। 

তাই করোনাকালে হাত জীবাণুমুক্তকরণের কাজটি সহজ করতে শপিংমল, কর্মস্থল এবং গণপরিবহনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হয়। দেখা যায় এসব প্রতিষ্ঠান বা বাহনের সামনেই কোনো উঁচু জায়গায় রেখে দেয়া হয় স্যানিটাইজার ডিসপেনসার। 

কিন্তু এই ব্যবস্থাটিই এখন শিশুদের চোখের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সে এমন বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা জানা গেছে। বেশ কিছু শিশুর চোখের মধ্যে চলে গেছে স্যানিটাইজার। পরে ক্ষতিগ্রস্ত চোখ সারাতে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করতে হয়েছে অনেকের। অনেক হ্যান্ড স্যানিটাইজারে উচ্চ ঘনত্বের ইথানল থাকে। এই রাসায়নিকটি চোখের কর্নিয়ার কোষ মেরে ফেলতে পারে।

ফ্রান্সের পয়জন কন্ট্রোল সেন্টারের হিসাবে, গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার শিশুদের চোখের সংস্পর্শে আসার ঘটনা সাতগুণ বেড়েছে।  

ওই একই সময়ে, প্যারিসের শিশু চক্ষু হাসপাতালে ১৬ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছিল। যেখানে ২০১৯ সালে এই ধরনের সমস্যায় কেবল একটি শিশুকে ভর্তি করা হয়। শুধু তাই নয়, দুটি গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে কর্নিয়ার টিস্যু প্রতিস্থাপনের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছিল। আর হাসপাতালের এই ঘটনাগুলোর সবই ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ঘটেছিল।

এর ব্যাখ্যায় ফরাসি গবেষকরা বলেছেন, এর কারণ সম্ভবত স্যানিটাইজার জেল ডিসপেনসারগুলো সাধারণত এক মিটার (৩ ফুট) উচ্চতায় রাখা থাকে। এটি বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের কোমর বরাবর হলেও ছোট শিশুদের চোখ বরাবর থাকে।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রসম্যান স্কুল অব মেডিসিনের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ক্যাথরিন কলবি এই গবেষণার ফলাফলের বিষয়ে এক মন্তব্যে বলেন, জনসমাগম স্থলে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বিস্তৃত ব্যবহারের ফলে, অল্পবয়স্ক শিশুরা এই ডিসপেনসারগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হবে এটিই স্বাভাবিক। অনেক ডিসপেনসার এমনভাবে রাখা হয় যাতে স্যানিটাইজার শিশুর চোখে লাগে।  

গত বৃহস্পতিবার জেএএমএ অপথালমোলজি সাময়িকীতে এই সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ফ্রান্সের সরকারি উপাত্ত অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিশুদের চোখ রাসায়নিকের সংস্পর্শে যাওয়ার ঘটনার মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ২০২০ সালে এই ঘটনা ৯ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়। অবশ্য এর মধ্যে অধিকাংশ ঘটনাই গুরুতর ছিল না।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে জনসমাগমস্থলে রাখা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ডিসপেনসার। ২০২০ সালে এ ধরনের ডিসপেনসার থেকে শিশুর চোখে স্যানিটাইজার যাওয়ার ঘটনা ছিল ৬৩টি। যেখানে ২০১৯ সালে একটিও ছিল না।

একই জার্নালে প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণায়, ভারতের চিকিৎসকরা এমন দুটি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। অনেকের হ্যান্ড স্যানিটাইজারের স্প্রে চোখে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, এটি মারাত্মক। ৪ বছর বয়সী এক শিশুর ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছিল। 

সে জানায়, এরপর থেকে আলো সহ্য করতে পারছিল না। ৫ বছর বয়সী আরেক শিশুর চোখের পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  তবে লবণ-পানি দিয়ে ধোয়া এবং চোখের ড্রপ ব্যবহার করে এ ধরনের সমস্যা থেকে দ্রুতই উপশম হয়েছে। 

শিশুদের এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা কিছু সুপারিশও তুলে ধরেছেন: হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বদলে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া উৎসাহিত করা, কীভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হয় সে ব্যাপারে শিশুদের প্রশিক্ষণ দেয়া, দোকান এবং শপিংমলগুলোতে শিশুদের জন্য পৃথক ডিসপেনসার রাখা, এমন উচ্চতায় রাখা যেন কমপক্ষে তাদের মুখের নিচে থাকে এবং স্যানিটাইজার ডিসপেনসারের পাশে ‘সাবধানতার’ চিহ্ন ব্যবহার করা। খবর সিএনএন।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads