সৌদিও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১১:৩৫

সৌদিও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে: ট্রাম্প

সম্পর্ক স্বাভাবিকের প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো সৌদি আরবও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেনশিয়াল অফিস হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে প্রবল আশাবাদ জানিয়ে বলেন, অচিরেই সাত থেকে ৯টি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক’ সম্পর্ক স্থাপন করবে। এর মধ্যে সৌদি আরবও রয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশই ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ আশাবাদের একদিন পরই বুধবার হোয়াইট হাউজে আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক ‘চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। যাকে ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্যের সূর্যোদয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বার্তাসংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুলআজিজ-এর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প। বিষয়টি ট্রাম্প নিজেও নিশ্চিত করেছেন।

ইসরায়েলকে স্বীকৃতির প্রদানের বিষয়ে বাদশা সালমানের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যথাযথ সময়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে।

ট্রাম্প জানান, খুব শিগগিরই অন্তত ৯টি দেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে। যুদ্ধরত (ইসরায়েলের বিরুদ্ধে) দেশ হলেও তারা লড়াই করতে করতে ক্লান্ত। এই দেশগুলো এখন শান্তি চায়। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ লড়াই করেছে। আপনারা খুব দুর্দান্ত কিছু দেখতে যাচ্ছেন। অচিরেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসতে চলেছে।

এদিকে ট্রাম্পের আশাবাদের মধ্যেই মার্কিন চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কাতার। একইসঙ্গে দখলদারিত্বের মধ্যে বসবাস করা ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের তাগিদ দিয়েছে দেশটি।

কাতারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ললওয়াহ আল-খাতের বলেন, ‘আমরা মনে করি না এই সংকটের মূলে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ রয়েছে। তাই এই উদ্যোগ সংকটের সমাধান হতে পারে না।’

ইসরায়েলের সঙ্গে বাহরাইন ও আমিরাতের সম্পর্ক স্থানকে ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্যের সূর্যোদয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর এই নতুন সূর্যোদয়ের দিনেই অর্থাৎ চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই বোমা হামলা চালানো হয় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়।

সৌদি বলয়ের আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলেও ফিলিস্তিনে তাণ্ডব অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন আগে জেরুজালেমের একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। 

দখলদার বাহিনীর যে কোনও আগ্রাসনের সরাসরি জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যে কোনও আগ্রাসনের মূল্য দিতে হবে। আর এর জবাব হবে সরাসরি’।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads