লেবাননের বন্দর পুনর্নির্মাণে সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ আগস্ট ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ১২:২২

লেবাননের বন্দর পুনর্নির্মাণে সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের

রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বন্দরসহ লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বড় একটি অংশ ধ্বংসের পর বন্দর পুনর্নির্মাণে সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছে তুরস্ক। এছাড়া দেশটিকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে আরব লীগ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সঙ্গে বৈঠক করেন তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওক্তাই ও আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল গেইত।   

আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওক্তাই জানান, তার দেশ বৈরুত বন্দর পুনর্নির্মাণে সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে। তিনি আরও জানান, বৈরুত বন্দর পুনর্নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় মাইসিন বন্দর লেবাননকে শুল্ক ছাড় ও বড় ধরনের চালানের জন্য গুদাম ব্যবহার করার সুবিধা দিয়ে সাহায্য করতেও প্রস্তুত আছে।

তিনি বলেন, “আমরা বলেছি, মাইসিন থেকে ছোট জাহাজে করে ও পরিবহনের অন্যান্য উপায় ব্যবহার করে লেবাননে পণ্য পাঠানো যেতে পারে।”

চিকিৎসার জন্য আহত লেবাননিদের তুরস্কের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে তুরস্কে নেওয়া যেতে পারে বলেও এক ভাষণে জানিয়েছেন ওক্তাই। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ লেবাননে তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি মেডিকেল টিমও পাঠিয়েছে।

আউনের সঙ্গে বৈঠকে গেইত জানিয়েছেন, লেবাননকে সহায়তা প্রদান করতে সম্মিলিত আরব উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, কায়রোভিত্তিক আরব লীগের রাষ্ট্রগুলো বিস্ফোরণের তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে। 

লেবাননের জন্য সাহায্য নিয়ে আলোচনা করতে ফ্রান্সের উদ্যোগে রবিবার আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও তিনি অংশ নিবেন বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবারের ওই বিস্ফোরণে বৈরুতে ১৫৮ জন নিহত ও ছয় হাজার জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ২১ জন এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে। তিন লাখেরও বেশি লোক গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন।

বন্দরের একটি গুদামে দুই হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট রাখা ছিল যা সার অথবা বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সেখানেই বিস্ফোরণের ওই ঘটনাটি ঘটে। 

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ আবর দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের ভঙ্গুর অর্থনীতে তহবিল যুগিয়েছে। কিন্তু আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান প্রভাবিত শক্তিশালী শিয়া গোষ্ঠী হেজবুল্লার বাড়তে থাকায় তারা এখন দেশটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ রেখেছে। এর ফলে গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটের সঙ্গে লড়াইরত অবস্থায় লেবানন এই ভয়াবহ দুর্যোগের কবলে পড়ল।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads