মৃত্যুর আগে গড়লেন অমর কীর্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ আগস্ট ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ০৯:৪২

মৃত্যুর আগে গড়লেন অমর কীর্তি

আলী বানাত, চড়তেন ছয় লাখ ডলারের (বা পাঁচ কোটি ১০ লাখ টাকার) ফেরারি স্কাইডারে। তখন ২০১৫ সাল। বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত এই অস্ট্রেলিয়ান উদ্যোক্তা মুহূর্তের এক ঘটনায় বদলে যান পুরোই। আর মৃত্যুর আগে গড়ে যান অমর কীর্তি। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে টেস্টিকিউলার ক্যান্সার ধরা পড়ার পরই বদলে যায় তার জীবন।

চিকিৎসকরা সময় বেঁধে দেন সাত মাস। তবে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ছিলেন তিন বছর। এই তিন বছরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নিজের সব অর্থসম্পদ দান করে দেন।

আলী বানাতের জন্ম অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ১৯৮২ সালে। মাত্র ২১ বছর বয়সে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। প্রতিষ্ঠা করেন একটি সিকিউরিটি ও একটি ইলেকট্রিক্যাল কম্পানি। 

মারণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়েছে তার। এরপর মাত্র তিন বছর বেঁচে ছিলেন আলী বানাত। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর পণ করেছেন। যদিও হাতে সময় খুবই কম। অথচ এই অল্প সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তিনি। তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠান হাসি ফোটাচ্ছে আফ্রিকার হাজারো শিশুর মুখে, অসহায় নারীদের ভরসা হয়েছে।

২০১৫ সালের অক্টোবরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দাতব্য প্রতিষ্ঠান মুসলিমস অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড (এমএটিডাব্লিউ)। এর মাধ্যমে আফ্রিকার টোগো, ঘানা ও বুরকিনা ফাসোতে হাজার হাজার অসহায় নারী-শিশুর পাশে দাঁড়ান তিনি। 

এমএটিডাব্লিউর উদ্যোগে একটি গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে ২০০ বিধবা নারীর জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। মসজিদ, স্কুল, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। ৬০০ এতিম শিশুর জন্য থাকার ব্যবস্থা করেন। প্রতিষ্ঠা করেন বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যাতে স্থানীয় মানুষ উপকৃত হয়। 

এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ আরো নানা সামাজিক কাজ করেন। পরে মানবকল্যাণে দান করার জন্য ধনীদের উৎসাহিত করতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘গো ফান্ড মি’। এটি এখনো লাখ লাখ ডলার সংগ্রহ করে বিশ্বজুড়ে অসহায় মানুষকে সহায়তা করছে।

ইউটিউবার অ্যাডাম সালেহকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যান্সারকে ‘আল্লাহর উপহার’ উল্লেখ করে অশ্রুসিক্ত আলী বানাত বলেন, ‘ক্যান্সার আমাকে পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, আমার চোখ খুলে দিয়েছে।’

ক্যান্সার ধরা পড়ার পরে তার পূর্বের লাইফস্টাইল নিয়ে আলী বানাতের মন্তব্য, ‘দামি গাড়ির চেয়ে আমার কাছে এক জোড়া স্যান্ডেলের মূল্য অনেক বেশি। আফ্রিকার একটি শিশুর পা খালি দেখে তাকে এক জোড়া স্যান্ডেল দিলাম। এরপর তার মুখে ফুটে ওঠা হাসি দেখে যে তৃপ্তি পেয়েছি তা এই গাড়ি দেখেও পাইনি।’ 

২০১৫ সালের আগে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে আলী বানাত যখন এই মন্তব্য করেন, তখন তিনি ভিন্ন মানুষ।  

মৃত্যুর আগে আলী বানাত সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমার গাড়ি, দামি ঘড়ি, এমনকি জামাকাপড়—সব থেকে আমি মুক্তি পেয়েছি। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর এসবই আমি বিদেশে গিয়ে দুস্থ ও অসহায় মানুষকে দান করে দিয়েছি। আমি এই পৃথিবীর কোনো কিছু সঙ্গে নিয়ে বিদায় নিতে চাই না, নিতে পারবও না।’

২০১৮ সালের ২৯ মে মারা যান বদলে যাওয়া গরীবের বন্ধু আলী বানাত। খবর ডেইলি টাইমস, এসবিএস।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads