বৈরুত বিস্ফোরণের আগে নেতানিয়াহুর টুইট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৮:১৮ আপডেট: ১০:১৪

বৈরুত বিস্ফোরণের আগে নেতানিয়াহুর টুইট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে মঙ্গলবার বিকেলে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক মুহূর্তেই সব শেষ। পুরো শহরজুড়ে  মৃত্যু এবং ব্যাপক ধ্বংস ডেকে এনেছে। বিস্ফোরণের উৎস ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছেয়ে গিয়েছে নানা জল্পনা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বে। 

বৈরুত বন্দরের কাছে একটি গুদামে মজুত করে রাখা ২ হাজার ৭০০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে এখন পর্যন্ত লেবাননের সরকার ধারণা করছে। ২০১৩ সালের পর থেকে উচ্চমাত্রার এসব বিস্ফোরক বৈরুতের গুদামে কোনও ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই মজুত ছিল।

বিস্ফোরণের উৎস নিয়ে দেশটির সরকারের এ ধারণার সঙ্গে অনেকেই ভিন্নমত পোষণ করে বিকল্প ব্যাখ্যা হাজির করছেন। বৈরুতের এই বিস্ফোরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এক টুইট ঘিরে।

বিস্ফোরণের পরপরই বেশকিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন। বিস্ফোরণের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর একটি টুইট ঘিরে এই জল্পনা আরও জোরাল হয়েছে।

মঙ্গলবার ইসরায়েলের রামলি শহরে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটি পরিদর্শনের পরপর এক টুইট বার্তায় সতর্ক করে দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা আস্তানায় আঘাত করি এবং এখন প্রেরণাদানকারীদের আঘাত করছি। আত্মরক্ষার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবো। আমি হিজবুল্লাহসহ তাদের সবাইকে বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিচ্ছি।

যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দেশটির সেনাবাহিনী গত সোমবার অধিকৃত গোলান উপত্যকায় সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর হামলা ঠেকিয়েছে বলে দাবি করেন। টুইটে তিনি বলেন, এসব নিরর্থক কোনও কথা নয়। ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওজন আছে এবং এটার পেছনে আছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত।

দামেস্কের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর একজন যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর ওই এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনার মাঝে নেতানিয়াহু এসব মন্তব্য করেন। বৈরুতে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলার ব্যাপারে যদিও তেমন শক্তিশালী কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও নেতানিয়াহুর টুইটের ‘সময়’ বিবেচনা করে অনেকেই তেলআবিব বৈরুতের বিস্ফোরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করছেন।

তবে ইসরায়েলে সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র বৈরুতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ওই বলেন, এটা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কোনও ঘটনা নয়। অন্যদিকে, ইসরায়েলের চিরবৈরী শত্রু হিসেবে পরিচিত ইরানও বৈরুত বিস্ফোরণের সঙ্গে তেলআবিবের জড়িত থাকার ধারণা নাকচ করে দিয়েছে।

বিস্ফোরণের পরপরই লেবাননকে মেডিকেল ও মানবিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে বিস্ফোরণে হতাহতদের প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে তেলআবিবের পৌর ভবন আলোকসজ্জায় আলোকিত করার ঘোষণা দেয়।

যদিও লেবাননে সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েল প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে বলে কিছু পর্যবেক্ষক সমালোচনা করেছেন।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads