৮৬ বছর পর বিখ্যাত ‘আয়া সোফিয়ায়’ আজানের ধ্বনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জুলাই ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০১:১৬ আপডেট: ০১:৩৯

৮৬ বছর পর বিখ্যাত ‘আয়া সোফিয়ায়’ আজানের ধ্বনি

তুরস্কের বিখ্যাত ‘আয়া সোফিয়ায়’ দীর্ঘ ৮৬ বছর পর শোনা গেল আজানের ধ্বনি। এ সময় আয়া সোফিয়ার বাইরে এক তুর্কী নারীকে উল্লাস করতে দেখা যায়। শুক্রবার (১০ জুলাই) আদালতের রায়ে ‘আয়া সোফিয়া’ মসজিদ হওয়ার পর প্রথম আজান দেওয়া হয়েছে। যা তুরস্কের সব সংবাদ চ্যানেলে তা সম্প্রচারও করা হয়। 

শুক্রবার তুরস্কের শীর্ষ প্রশাসনিক আদালত আয়া সোফিয়ার জাদুঘর মর্যাদা নাকচ করেছে। এরপরই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান এ স্থাপনাকে মসজিদ হিসাবে মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত বলে ঘোষণা করেন। আগামী ২৪ জুলাই থেকে এটি নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। শুক্রবার এক বক্তব্যে তিনি এটি জানান। এ ঘোষণার পরই ইস্তাম্বুলের বিশ্বখ্যাত জাদুঘর ‘আয়া সোফিয়া’কে আবারও মসজিদে রূপান্তরিত করেছে তুরস্ক।

প্রশাসনিক আদালতের রায়ে জাদুঘরটি আবারও মসজিদ হল। রায়ে আদালত বলেছেন, “পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে যে, এই স্থাপনা মসজিদ হিসেবেই বরাদ্দ ছিল। এর বাইরে অন্য কিছু হিসেবে এটিকে ব্যবহার করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়।”

আদালত আরও বলেন, “১৯৩৪ সালে মসজিদ হিসেবে এর ব্যবহার বন্ধ করে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা নিয়েছিল, তা আইনসঙ্গত নয়।”

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য আয়া সোফিয়াকে গত বছরের এক নির্বাচনী সমাবেশে মসজিদে পরিণত করার তাগাদা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।

তুরস্কের ইসলামপন্থিরা দীর্ঘদিন ধরেই স্থাপনাটিকে ফের মসজিদে রূপান্তরের দাবি জানালেও ধর্মনিরপেক্ষরা এর বিরোধিতা করে এসেছেন।

আয়া সোফিয়া বাইজেন্টাইন সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের আদেশে ষষ্ঠ শতকে নির্মিত হয়। এরপর থেকে প্রায় এক হাজার বছর ধরে অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল এটি। ১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুল অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলে স্থাপনাটিকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়। এর প্রায় পাঁচশ বছর পর তুরস্কের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুস্তফা কামাল আতার্তুক এটিকে মিউজিয়ামে পরিণত করেছিলেন।

দেড় হাজার বছরের পুরনো আয়া সোফিয়া এক সময় ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা, পরে তা পরিণত হয় মসজিদে, পরে একে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। যা আবারও মসজিদে রুপান্তরিত হলো।

তাছাড়া, ইউনেস্কো তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এর মর্যাদা পরিবর্তন না করার আহ্বান জানিয়েছিল তুরস্কের কাছে। যুক্তরাষ্ট্রও হায়া সোফিয়াকে জাদুঘর হিসাবে ব্যবহারের পক্ষে ছিল। তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা অবশ্য এর পরিবর্তন নিয়ে অন্য দেশ বা সংস্থার কথা শুনতে রাজি ছিলেন না। “আমাদের সম্পত্তি নিয়ে কী করব, তা আমাদের ব্যাপার” এই ছিল তাদের মত।

তবে আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চ বলেছে, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্কের আদালত তাদের উদ্বেগ বিবেচনায় নেয়নি এবং এ সিদ্ধান্ত আরও বড় পরিসরে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads